kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭। ৯ মার্চ ২০২১। ২৪ রজব ১৪৪২

বড় বোনকে বিয়ের প্রস্তাব, রাজি না হওয়ায় ছোট বোনকে ধর্ষণ!

মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি   

২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১৪:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বড় বোনকে বিয়ের প্রস্তাব, রাজি না হওয়ায় ছোট বোনকে ধর্ষণ!

জাকিম মিয়া

নেত্রকোনার মদনের পল্লীতে বড় বোনকে বিয়ে না দেওয়ায় ছোট বোনকে (১০) ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের রুদ্রশ্রী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত প্রতিবেশী সমুজ আলীর ছেলে জাকিম মিয়ার (২২) হুমকিতে ভূক্তভোগী পরিবার চুপ রয়েছে বলে জানা গেছে।

ভূক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাকিম মিয়া আগে থেকেই তাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করতো। এর সুবাধে ভূক্তভোগী শিশুটির চাচাতো বোনকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এ সময় ভূক্তভোগী শিশুর বাবা এই বিয়েতে অসম্মতি জানায়। এক মাস আগে সেই মেয়ের অন্যত্র বিয়ে হয়। এরপর জাকিম তাদেরকে দেখে নিবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে।

গত বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) রাতে ওই শিশুটির বাবা বোরো জমিতে সেচ দিতে হাওরে যায়। খাওয়া দাওয়া শেষে পরিবারে লোকজনের সঙ্গে নিজ ঘরেই ঘুমিয়ে পড়ে শিশুটি। প্রতিবেশী জাকিমসহ আরো ৩/৪জন তাদের বসত ঘরে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ঘরের বাইরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।

ভূক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, জাকিম আমার বড় ভাইয়ের মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে আমি এতে অসম্মতি প্রকাশ করি। এক মাস আগে আমার ভাতিজিকে অন্যত্রে বিয়ে দিয়েছি। এরপর থেকেই জাকিম আমাদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসে। বৃহস্পতিবার রাতে আমি জমিতে সেচ দিয়ে হাওর থেকে আসার সময় দেখতে পাই বাড়ির সামনের জমিতে অচেতন অবস্থায় আমার মেয়ে পড়ে রয়েছে। বাড়িতে আনার পর জ্ঞান ফিরলে ওখানে কিভাবে গেলে জানতে চাইলে ধর্ষণের ঘটনা বলে।

তিনি আরো জানান, এই ঘটনার পর থেকে কাউকে কিছু না বলতে তার পরিবারের লোকজন আমাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আমি এর বিচার চেয়ে আজকে মদন থানায় একটি মামলা দায়ের করবো।

শিশুটির মা বলেন, আমার শিশু মেয়েটিকে জাকিম ধর্ষণ করেছে। আইনের আশ্রয় নিলে আমাদেরকে গ্রাম ছাড়া করবে বলেছে। আমরা গরিব মানুষ তাই ভয়ে চুপ করে আছি।

জাকিমের মা তাজমহল বেগম বলেন, 'আমার ছেলেকে ফাঁসাতে ওই মেয়েকে ঘর থেকে অন্য কেউ নিয়ে এমন কাজ করেছে মনে হয়। ছেলে কোথায় আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পালিয়ে চট্টগ্রাম চলে গেছে।

ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, শুনেছি রুদ্রশ্রী গ্রামে একটি মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমি এর বিচার দাবি করছি।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুজ্জামান জানান, এ ব্যাপারে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা