kalerkantho

শনিবার । ২১ ফাল্গুন ১৪২৭। ৬ মার্চ ২০২১। ২১ রজব ১৪৪২

পার্বতীপুরে সুদের নামে প্রতারণা, ৮ বছরে বাড়ি জমিসহ ২০ কোটি টাকার সম্পদ

আবদুল কাদির,পার্বতীপুর(দিনাজপুর)   

২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১৩:২৪ | পড়া যাবে ১২ মিনিটে



পার্বতীপুরে সুদের নামে প্রতারণা, ৮ বছরে বাড়ি জমিসহ ২০ কোটি টাকার সম্পদ

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে স্বামী পরিত্যাক্তা স্কুলে চকোলেট বিক্রেতা এক গৃহবধু নাজমা খাতুন ৮ বছরে সুদের কারবারের নামে ভয়াবহ প্রতারণায় বাড়ি জমি সব মিলে ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার প্রতারণার জালে প্রাথমিকের স্কুল শিক্ষকসহ অন্য পেশার ২শতাধিক মানুষ নিঃস্ব হয়েছে। মামলা মোকদ্দমা, হুমকি ধামকিতে এদের প্রত্যেকের সংসার জীবন ও  পথচলায় ছন্দপতন হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সোনালী ব্যাংক, হুগলীপাড়া শাখা থেকে এই নারী সবরকম অনৈতিক সহযোগিতা পেয়েছে।

জানা গেছে, পার্বতীপুরের  হুগলীপাড়া শাখা সোনালী ব্যাংকে উপজেলার ২০৭ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সবাই বেতন বোনাসের টাকা ওঠান এখান থেকে। আর্থিক সমস্যা হলে তাদের কনজুমারলোন,রিকোভারি লোন করার সুযোগ রয়েছে এখানে। ভদ্রবেশি ভয়ানক প্রতারক নাজমা খাতুন, তার সিন্ডিকেট সদস্য সাখাওয়াৎ হোসেন, বড় ছেলে নাদির শাহ নয়ন কনজুমার লোন, রিকোভারি লোন পাইয়ে দেবার কথা বলে ঋন ফরম পূরণ করার সময় ঋণ গ্রহনেচ্ছুক ব্যক্তিদের ব্যাংকের স্বাক্ষর করা চেকের বই, চেকের পাতা ও  ৩০০ টাকার ননজুডিসিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেয়। এছাড়াও জমির খাজনা খারিজ পরিশোধ করা কাগজপত্র, মূল দলিল  জামানত হিসেবে নিয়ে নেয়। পরে নাজমা তার নিজের থেকে পর্যায়ক্রমে এক দুই লাখ টাকা লোন দিয়ে থাকে  মাসিক ১০, ১৫ ও ২০ পার্সেন্ট সুদে। ব্যাংকের লোনের টাকা পাওয়ার পর ৭/৮ গুণ টাকা বুঝে নেয় প্রত্যেকের কাছে। তার প্রতারণার কাজ এখানেই শেষ হয়নি। টাকা শোধ হলেও সে কাগজপত্র ফেরত দেয়নি কাউকে। চেকের পাতা জমা দিয়ে গোপনে শিক্ষকদের বেতন বোনাসের টাকা তুলে নিয়েছে । আরও  টাকা দাবি করে ব্যাংকে চেক জমা দিয়ে ডিজঅনার হলে ব্লাকমেইল করে জমি বাড়ি জোরপূর্বক দলিল করে নিয়েছে। 

এভাবে দেড় শতাধিক প্রতারিত শিক্ষক ও ৫০ অন্য পেশার মানুষের মধ্যে একজনের নাম মোছাঃ লায়লা বানু(৩৮)। সে ৮৪ নং প্রামানিক পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকা। তার বাড়ি হামিদপুর ইউনিয়নের সস্তাপুর গ্রামে। স্বামীর নাম মোঃ শাহিনুর আলম। 
শিক্ষিকা লায়লা বানু জানান, ২০১৬ ও ২০১৭ সাল এই দুই বছরে আমি পর্যায়ক্রমে নাজমা খাতুনের কাছে ২ লাখ টাকা লোন নিয়েছিলাম। ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে দেবার কথা বলে সে আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর করা চেক বই, চেকের পাতা, ৩০০ টাকার ননজুডিসিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্প, খারিজ খাজনা পরিশোধ করা কাগজ, পারিবারিক জমির মূল দলিল নিয়ে নেয় জামানত হিসেবে। আমি নাজমাকে ২ বছরে ১১ লাখ ৮ হাজার টাকা পরিশোধ করার পরে জামানত হিসেবে রাখা কাগজপত্র ফেরত চাইলে সে আরও ২ লাখ  ৯২  হাজার টাকা দাবি করে। লায়লা বানু আরও অভিযোগ করেন, নাজমার কাছে রাখা একটি চেকের পাতা ব্যাংকে জমা দিয়ে গোপনে তার ৭ মাসের বেতন বোনাসের ৭৮ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে সে। শুধু তাই নয়, সাখাওয়াত হোসেনের নামে একটি চেক ব্যাংকে জমা করে ডিজঅনার হলে লায়লার নামে দিনাজপুরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট  আমলী আদালত-৫( পার্বতীপুর) এ একটি মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় গত ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর লায়লা আদালতে হাজির হয়ে জামিন লাভ  করেন। 

এরকম ভয়াবহ প্রতারণার শিকার  দেড় শতাধিক শিক্ষকের মধ্যে  ২০ জন যৌথ স্বাক্ষরে বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শাহনাজ মিথুন মুন্নির কাছে প্রতিকার চেয়ে গত ২৪ জুন একটি আবেদন করেছিলেন। এরপর ৬মাস অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এব্যপারে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে বিদায়ী ইউএনও কালের কণ্ঠকে বলেছিলেন, আমি তাকে গত ২৪ মার্চ আটক করেছিলাম। উদ্ধার করেছিলাম  অবৈধভাবে ঋণদান সংশ্লিষ্ট ৩৫টি প্রমানক আইটেম। সেদিন তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও উদ্ধার করা কাগজপত্র সংশ্লিষ্টদের ফেরতদানের অঙ্গিকারে একটি মুচলেকা লিখে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

যৌথ স্বাক্ষরকারী শিক্ষকদের মধ্যে লায়লা বানু, গিয়াস উদ্দীন, আনিসুর রহমান, আবুল কাশেম, এনামুল হক, হারুনর রশিদ, বেলাল হোসেন,আব্দুল জলিল, দেলোয়ার  হোসেন সাঈদী, মোফাজ্জল হোসেন, খলিলুর রহমান, মাসুদুর রহমান, সাইদুল ইসলাম, আব্দুল বাকী, সজিবরায়,রঘুনাথ রায়,লুৎফর রহমান ও আব্দুল্লা আল মামুন কালের কণ্ঠকে বলেছেন,নাজমা খাতুন সুদের কারবারের নামে  এযাবত যা করে এসেছে তার নাম শতভাগ প্রতারণা। তার প্রতারণায় সহযোগিতা করেছে হুগলী পাড়া শাখা সোনালি ব্যাংকের ম্যানেজারসহ একাধিক স্টাফ। 

তারা বলেছেন, ব্যাংকের এই শাখায় নাজমা খাতুনের নামে একাউন্ট আছে। এছাড়াও বড়ছেলে নাদির শাহ নয়ন ও সিন্ডিকেট সদস্য সাখাওয়াৎ হোসেন এর নামে পৃথক একাউন্ট আছে। শহরের নতুন বাজার, পুরাতন বাজার এবং শহরের বাইরে বিভিন্ন ব্যাংকে নাজমা খাতুনসহ তার সিন্ডিকেট সদস্যদের নামেও একাউন্ট রয়েছে । সূত্রমতে, হুগলীপাড়া সোনালী  ব্যাংকে নাজমার নামে একাউন্ট খোলার দিন থেকে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখলে নযিরবিহীন প্রতারণার তথ্য পাওয়া যাবে। 

শত্রু থেকে বন্ধু

রাজাবাসর মুন্সিপাড়া গ্রামের মোঃ মোশারফ হোসেন মুন্সি কালের কণ্ঠকে বলেছেন, নাজমা খাতুন কমপক্ষে ৫০ ব্যক্তির কাছে  তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাড়ি জমি লিখে নিয়েছে। তবে ,সব জমি বাড়ি সে তার নিজের নামে দলিল করে নেয়নি। প্রতারণা করে জমি বাড়ি দলিল করে নেওয়ার প্রথম শিকার হয়েছেন মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন নামে এক যুবক। তার বাবার নাম মৃত আব্দুস সামাদ। বাড়ি ৫নং চন্ডিপুর ইউনিয়নের ছোটহরিপুর মুন্সিপাড়া গ্রামে। নাজমা খাতুনের কাছে ঋন নিয়ে সুদাসলে পরিশোধ করতে ব্যার্থ হয়ে ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ৯ শতক জমি সাখাওয়াৎ হোসেন তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে নাজমার নামে দলিল করে দেন। জমির দলিল নং ৬৩৭৪, মূল্য ধরা হয়েছে ৫লাখ ৪০ হাজার টাকা। এই সাখাওয়াৎ হোসেন পরবর্তীতে ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগ করে খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহণ করেন। সে নাজমারও পরম বন্ধু ও জীবনের অপরিহার্য মানুষে পরিণত হন। আর সে কারণে নাজমা খাতুন যাদের জমি বাড়ি লিখে নিয়েছেন, তার মধ্যে বেশ কয়েকটির দলিল করা হয়েছে এই সাখাওয়াৎ হোসেনের নামে।

২০১৬ সালের ২২ মে পার্বতীপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে বেলাইচন্ডি মৌজার  সাড়ে ৫২ শতক জমি দলিল হয়েছে। দলিল নং ৩২৫৩। গ্রহীতা মোছাঃ নাজমা খাতুন। দাতা নরেশ চন্দ্র রায়। নাজমার জাতীয় পরিচিতি নং ২৭১৭৭৫১০০০০০৩। পেশা হিসেবে গৃহিনী ও স্বামী পরিত্যাক্তা বলে  উল্লেখ করা হয়েছে। ৮ আগষ্ট ৫নং চন্ডিপুর ইউনিয়নের ছোট হরিপুর মৌজার ২৩ শতক জমি রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে। দাতা মোশারফ হোসেন মুন্সি আর গ্রহীতা নাজমা খাতুন। দলিল নং ৫২০৮।  ২৪ অক্টোবর রাজাবাসর মৌজার সাড়ে ৪ শতক জমি রেজিষ্ট্র হয়েছে। এর দলিল নং ৭০১৩। দাতা মাহবুবার রহমান মুন্সি। গ্রহীতা নাজমা খাতুনের বড় ছেলে নাদির শাহ নয়ন। নয়নের জাতীয় পরিচিতি নং ২৭৭০৮০০০০১৭, পেশা হিসেবে লেখা হয়েছে কৃষি। এ বছরের ১১ ডিসেম্বর ২৩ শতক জমি রেজিষ্ট্র হয়েছে। হরিপুর মৌজার এ জমির দাতা মোতালেব হোসেন মুন্সি। গ্রহীতা মোছাঃ নাজমা খাতুন। জমির দলিল নং ৮১৯৪।

২০১৭ সালের ১৯ মার্চ রাজাবাসর মৌজার  ৪ তলা একটি আবাসিক বাড়ি দলিল হয়। বাড়ির মালিক  ফারুক বিন জামান। গ্রহীতা নাজমা খাতুন। দলিল নং ২৫৯০ । বাড়ির মালিক বলেছেন, ৩০ লাখ টাকার বাড়ি রøাকমেইল  করে ১০ লাখ টাকায়  জোরপূর্বক লিখে নেওয়া হয়েছে।এর একদিন পরে ২১ মার্চ রাজাবাসর মৌজার ১৫ শতক জমি রেজিষ্ট্রী হয়। দলিল নং ২৭৮১। দাতা মাহবুবার রহমান মুন্সি। গ্রহীতা নাজমা খাতুনের বড় ছেলে নাদির শাহ নয়ন। এ বছরের ১৫ মে রাজাবাসর মৌজার ৮ শতক জমি রেজিষ্ট্রি হয়। দলিল নং ৪০৩৪ । দাতা সুলতান আলী বাদল। গ্রহীতা নাজমার বড় ছেলে নাদির শাহ নয়ন। ১০ জুলাই একই মৌজার ৪২ শতক জমি দলিল হয়েছে। দলিল নং ৫৩১৮। দাতা মোশারফ হোসেন মুন্সি, গ্রহীতা  নাজমা খাতুন। ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারী রাজাবাসর মৌজার ১৯  শতক জমি রেজিষ্ট্রি হয়েছে। দলিল নং ১২২১। দাতা আফজালুর রহমান মুন্সি, গ্রহীতা নাজমার সবরকম অন্যায়, অনৈতিক কাজের পার্টনার সাখাওয়াৎ হোসেন। এ বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি ৫১ শতক জমি দলিল হয়েছে পার্বতীপুর সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে। দলিল নং ১২৪৩। দাতা আশরাফুর রহমান মু্িন্স। গ্রহীতা নাজমা খাতুনের বড় ছেলে নাদির শাহ নয়ন। ৪ জুলাই মনমথপুর মৌজার ৮৪ শতক জমি রেজিষ্ট্রি হয়। দলিল নং ৪৬৬৩। দাতা  আফজালুর রহমান মুন্সি। গ্রহীতা নাজমার ছোট নাবালগ ছেলে নিশাত বাবু। ৩১ জুলাই রাজাবাসর মৌজার ৩৩ শতক জমির দলিল হয়েছে। দলিল  নং ৫৮১০। দাতা শিক্ষিকা পারুল রায়। স্বামীর নাম মি. বিমল রায়।  গ্রহীতা নাজমার ছোট ছেলে নিশাত বাবু। ১ অক্টোবর ৬৪ শতক জমি রেজিষ্ট্রি হয়েছে। দলিল নং ৭১৯৫। দাতা আশরাফুর রহমান। গ্রহীতা নাজমা খাতুন। ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মনমথপুর মৌজার ৬ শতক জমি রেজিষ্ট্রি হয়েছে। দলিল নং ১৩০৭।জমির দাতা মোছাঃ মঞ্জুয়ারা খাতুন। সামী মৃত মোঃ জাকির হোসেন। এই জমির গ্রহীতা সাখাওয়াৎ হোসেন। এসব জমির দলিলের ফটোকপি এই প্রতিনিধির কাছে জমা রয়েছে। 

নাজমা খাতুন নামে বেনামে যেসব জমি বাড়ি দলিল করে নিয়েছেন সেগুলোর বাজার মূল্য পায়নি কেউ। কারন হিসেবে ক্ষতিগ্রস্থরা বলেছেন, তাদের মূলদলিল, খারিজ খাজনার কাগজপত্র, ৩০০ টাকার স্বাক্ষর করা ফাঁকা নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প নাজমার জিম্মায় থাকায় তাদের জমি অন্যত্র বিক্রির সুযোগ ছিলনা। প্রতারণার  মাধ্যমে দলিল করে নেওয়া জমি বাড়ির  মূল্য বর্তমানে ১৫ কোটি টাকার বেশি হবে বলে ক্ষতিগ্রস্থরা জানিয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্য এরকম, পার্বতীপুরের রাজাবাসর, মন্মথপুর, বেলাইচন্ডি, হমিদপুরসহ অন্যত্র আঞ্চলিক মহাসড়ক, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও শহর- হাট বাজার এলাকায় জমির মূল্য বর্তমানে ৫ খেকে ৭ লাখ টাকা শতক চলছে।           

উল্লেখিত জমি ছাড়াও আরও অনেক জমি বাড়ি দাতাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে লিখে নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে পার্বতীপুর শহরের পুরাতন বাজারে একটি । অন্যটি হামিদপুর ইউনিয়নে অবস্থিত । এই বাড়িটি ৮৪ নং  প্রামানিক পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রীর নামীয় জমির ওপর নির্মিত। শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেছেন, আমি টাকা ঋন নিয়েছিলাম নাজমার কাছে। আর আমার স্ত্রীর বাড়ি প্রতারনামূলকভাবে  দলিল করে নিয়েছে সাখাওয়াৎ হোসেন। গিয়াস আরও বলেন,ব্যাংকের কাছে ঋন নিলে জামানত রাখা কাগজপত্র ফেরত দেয়। যে কোন এনজিও থেকে ঋন নিলেও কিস্তি শেষে  সব কাগজপত্র ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতারক নাজমা কোন ঋন গ্রহীতাকেই কাগজপত্র ফেরত দেয়নি। 

নাজমার বাবা জয়নাল আবেদীন কালেরকণ্ঠকে মোব্ইালফোনে বলেছেন, ওকে বিয়ে দিয়েছিলাম পাশের মোমিনপুর ইউনিয়নের যশাই উত্তর সৈয়দপুর গ্রামের যুবক নুর ইসলামের সাথে। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ববিনা না হওয়ায় সংসার টেকেনি।  দুই পুত্র নিয়ে সে  আমার বাড়িতে এসে ওঠে। এরপর ২০১১ ও ২০১২ এই দু বছর রাজাবাসর হাইস্কুলে লজেন্স বিক্রি করে সংসার চালায়। পরে কিছুদিন স্কুলে ব্রাক পরিচালিত পাঠাগার চালায়। তার কোটি কোটি টাকার বাড়ি জমি ও টাকা কিভাবে হয়েছে তা তিনি জানেননা বলে উল্লেখ করেন। 

নাজমার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী নুর ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, আমি জানিনা কিভাবে সে কোটি কোটি টাকা ও বাড়ি ও জমির মালিক হয়েছে। তবে তাঁর বেপরোয়া চালচলন ও উচ্ছৃংখল জীবন যাপনের কারনে সংসার টেকেনি বলে তিনি উল্লে করেন। তিনি আরও বলেন, শুনেছি সে এখন বহু জমি বাড়ি আর টাকার মলিক।  কিভাবে হয়েছে জানতে চাইলে বলেন, হুগলী পাড়া সোনালী ব্যাংক শাখায় নাজমার ব্যাংক একাউন্টের স্টেটমেন্ট ও ব্যাংক স্টাফদের তদন্তের মুখোমুখি করলে সব বেরিয়ে আসবে । 

এব্যপারে সুদের কারবারি নাজমা খাতুনের কাছে মোবাইল করা হলে বলেন, পরে কথা বলবো। পরে আর কখনো কথা বলেননি,ফোনও রিসিভ করেননি। সোনালী ব্যাংক হুগলীপাড়া শাখার অবসরপ্রাপ্ত ম্যানেজার সরকার শামীম আখতার বলেন, দোষ শুধু ব্যাংক স্টাফের নয়। যারা ঋন নিয়েছিলেন, তারাও দায়ী। তারা কেন ব্যাংকের বাইরের লোকের দ্বারস্থ হয়েছেন  তাও দেখতে হবে। 

ব্যংকের বর্তমান ম্যানেজার প্রদীপ কুমার রায়ের কাছ জানতে চাইলে বলেন,আমি নতুন এসেছি । তবে অভিযোগের ব্যপারে শুনেছেন বলে জানান। 
পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোখলেসুর রহমান বলেন, আমি সব শুনেছি। ৫ জন ঋন গ্রহীতা নাজমা খাতুনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, তার তদন্ত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

পার্বতীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম প্রামানিক বলেন, আগের ইউএনও মোছাঃ শাহনাজ মিথুন মুন্নি  এই নারীকে ২৪ মার্চ  আটক করেছিলেন। তার কাছে ৩৫টি আইটেম উদ্ধার করা হয়। সেদিন তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে। আর ঋণদানের আলামত হিসেবে উদ্ধার করা আলামতগুলো সংশ্লিষ্টদের ফেরতদানের শর্তে একটি মুচলেকা লিখে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়(মুচলেকা কপি কালের কণ্ঠ’র কাছে রয়েছে)। 

এদিকে, পার্বতীপুরে নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাফিদ কায়সার রিয়াদ কালের কণ্ঠকে বলেছেন, আমি তার বিরুদ্ধে যা যা করা দরকার তার সবই করবো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা