kalerkantho

শনিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৪ রজব ১৪৪২

পরিবহন ব্যবসায়ীকে ৬ টুকরা, দুজনের মৃত্যুদণ্ড

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১৮:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরিবহন ব্যবসায়ীকে ৬ টুকরা, দুজনের মৃত্যুদণ্ড

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নবী হোসেন নামে এক পরিবহন ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে তাঁর কথিত স্ত্রী সুমনা বেগম শিলা ও সুমনার প্রেমিক কাজী নজরুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার সকালে কিশোরগঞ্জের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতে নজরুলসহ অন্য দুই আসামি উপস্থিত থাকলেও সুমনা পলাতক ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকেই দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। সুমনা ও নজরুলের বাড়ি ব্রহ্মণবাড়িয়া সদরের বিজেশ্বর গ্রামে। এদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর দুই আসামি আশরাফুল হক রাসেল ও মো. শরীফ মিয়াকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণ ও আদলাত সূত্রে জানা গেছে, ভৈরবের পরিবহন ব্যবসায়ী নবী হোসেনের স্ত্রী ও সন্তান থাকার পরও সুমনাকে বিয়ে করেন তিনি। এর আগে সুমনার অন্যত্র বিয়ে হলেও ওই বিয়ে ভেঙে যায়। সুমনা ভৈরবের দক্ষিণপাড়ায় একটি বাসায় তার এক কন্যাসন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন। নবী হোসেন মাঝেমাঝে এ বাসায় এসে থাকতেন। তখন আগের প্রেমিক নজরুলের সঙ্গে আবার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় সুমনার। বিষয়টি জেনে যান নবী হোসেন। এ নিয়ে নবী হোসেনের সঙ্গে সুমনার তিক্ততা তৈরি হয়। এর জেরে সুমনাকে ভরণপোষণের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেন তিনি। এসব নিয়ে নবীর প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন সুমনা। এ পরিস্থিতিতে প্রেমিক নজরুল নিয়ে নবীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর রাতে সুমনার বাসায় ঘুমন্ত নবীকে হত্যা করেন তাঁরা। পরে নবীর মরদেহ ঘরে টুকরা টুকরা করে বস্তায় ভরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় মাটি চাপা দেয় তারা। ২৩ ডিসেম্বর পুলিশ নিহতের মৃতদেহের আংশিক উদ্ধার করে। ২৫ ডিসেম্বর মৃতদেহের বাকি অংশ উদ্ধার করা হয়। একই দিন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে ভৈরব থানায় একটি মামলা করেন নিহতের স্ত্রী বিলকিছ বেগম। পরে মামলাটি সিআইডিতে পাঠানো হয়। সিআইডি ২৮ ডিসেম্বর আসামি সুমনা ও নজরুলকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজেশ্বর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে মামলার অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুমনা এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেন। পরে তিনি জামিন পেয়ে পলাতক হন। 

তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের এসআই মো. নজরুল ইসলাম ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি চারজনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। শুনানিশেষে আজ রায় ঘোষণা করেন আদালত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা