kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭। ৪ মার্চ ২০২১। ১৯ রজব ১৪৪২

'কোনদিন ধারণা করিবা পারি নাই আমরা পাঁকা ঘরে থাকব'

বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০৯:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'কোনদিন ধারণা করিবা পারি নাই আমরা পাঁকা ঘরে থাকব'

নির্মাণাধীন সেমি পাকা ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন প্রনতী রানীর ভাবি রত কিসু। ছবি: কালের কণ্ঠ

মানসিক প্রতিবন্ধী প্রনতী রানী। বয়স ৩০। একজন ক্ষুদ্র- নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর মানুষ। ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারিয়েছেন। এই পৃথিবীতে একমাত্র ভাবী তার অভিভাবক। সেই ছোট্ট বেলা থেকে তাকে বড় করে তুলেছেন। মানসিক রোগী হওয়া সত্বে নিজের মেয়ের মত বড় করে তুলেছেন। কখনো বুঝতে দেননি বাবা-মার অভাব।

প্রনতী রানীর ভাবির সংসারে অভাব অনটন লেগেই আছে। এই পৃথিবীকে বেঁচে থাকতে হলে মানুষের কিছু মৌলিক চাহিদা রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাসস্থান বা বাড়ী। বেঁচে থাকার জন্য ছোট একটি ঘর বেঁধে থাকতেন। সেই ঘরে কেটেছে তাদের অনেক কষ্টের দিন। একটু ঝড় বৃষ্টি এলে তাদের বুক ভয়ে কেঁপে উঠতো। এই বুঝি তাদের ঘরের উপরে থাকা ভাঙাচোরা টিন বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে যায়। অনেক সময় রাতারে আঁধারে ঝড়ের সময় তাদের ঘরের টিন বাতাসে উড়ে গেছে। ঝড়ের রাতে তারা কোথায় যাবে ভেবে পায় না। কখন সকাল হবে। এই অপেক্ষার প্রহর গুনত। সকাল হলে বাতাসে নিয়ে যাওয়া টিন কুঁড়িয়ে আবার ঘরের ছাউনি দেয়। এইভাবেই কেটেছে তাদের অনেকটা জীবন।

বলছিলাম দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর রনগাঁও ইউনিয়নের সাদামহল গ্রামের ক্ষুদ্র- নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর পল্লীতে বসবাস করা মানসিক প্রতিবন্ধী প্রনতী রানীর পরিবারে কথা। এবার তাদের সেই ঘরের কষ্টের জীবন লাঘব হতে চলেছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়স্থল হিসেবে অসহায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে তারা একটি স্বপ্নের সেমি পাঁকা ঘর পেতে যাচ্ছেন।

প্রনতী রানী ভাবি রত কিসু বলেন, 'আমার এখানে এইখানে ইউএনও এসে বলল। আপনাদের জন্য ঘর দেওয়া হবে। শুনে খুবেই খুশি লাগছে। কোনদিন ধারণা করিবা পারি নাই। আমরা পাঁকা ঘরে থাকব। এই পাকা ঘরে আমরা দুইজনে থাকব। আমাদের খুবেই কষ্ট গেছে। আমার স্বামী অনেক বছর আগে মারা গেছেন।'

'প্রনতী রানীর বাবা-মা, ভাই কেউ নাই। বাবা-মা সবাই মারা গেছে। ওকে কি আমি ফেলে দিবো। আমি ছোটকাল থেকে মানুষ করেছি। ওর খুব অসুখ। মাসে দুই তিনবার বিছানায় পড়ে থাকে।' বলছিলেন রত কিসু।

আগের ভাঙ্গা ঘরের সম্পর্কে বলেন,'আমরা বাড়ী খুব ভাঙ্গা ছিল। পানির সময় থাকতে পারছি না। মনে মনে খুবেই কাঁদি। ঘর ভেঙ্গে গেলে কিভাবে উঠাবো।'

বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ছয় ইউনিয়নের ৪৩০ টি গৃহ নির্মাণ করা হচ্ছে। বয়স্ক ৪৪ জন, দিনমজুর ২৩৫ জন, মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ৩ জন, বিধবা ৩০ জন, প্রতিবন্ধী ১২ জন, ভিক্ষুক ২৭ জন, ক্ষুদ্র - নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী ৭৮ জন এবং তৃতীয়লিঙ্গ ১ জন সর্বমোট ৪৩০ জন পরিবার মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়স্থল হিসেবে অসহায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাই হবে।

বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছন্দা পাল জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়স্থল হিসেবে অসহায় ভূমিহীন ও গৃহহীদের গৃহ দিচ্ছেন। প্রকৃত অসহায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের খুঁজে তালিকা করা হয়েছে। ২৩ জানুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপকারভোগীদের গৃহ হস্তান্তর করবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা