kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

কোটি টাকার ‘ফগলাইট’ কাজে আসছে না

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) ও শিবালয় (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০৩:৩৩ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কোটি টাকার ‘ফগলাইট’ কাজে আসছে না

ঘন কুয়াশার কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ২টা থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশার কারণে এই নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। টানা সাড়ে ৯ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় ঘাটে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। শীত ও কুয়াশার মধ্যে আটকে বিভিন্ন গাড়ির চালকসহ হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তির শিকার হয়েছে। এ নিয়ে গত ছয় দিনে এই নৌপথে ৪৩ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এদিকে ঘন কুয়াশার মধ্যে ফেরি চলাচল সচল রাখতে ১০টি ফেরিতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ফগলাইট’ স্থাপন করে বিআইডাব্লিউটিসি। কিন্তু কুয়াশায় ফেরি চলাচলে এই ফগলাইটগুলো কোনো কাজে না আসায় সেগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। প্রতিদিন এই নৌপথ দিয়ে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ কয়েক হাজার বিভিন্ন ধরনের গাড়ি ফেরি পারাপার করে। কিন্তু চলাচলকারী ফেরিগুলোতে উন্নত প্রযুক্তির ফগলাইটের ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতিবছর শীত মৌসুমে কুয়াশাকালে সেখানে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। এতে ফেরি পারাপার হতে আসা শত শত গাড়ি আটকা পড়ে উভয় ঘাটে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই নৌপথ পাড়ি দিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে আটকা পড়ে ভোগান্তির শিকার হয় বিভিন্ন গাড়ির চালকসহ হাজার হাজার যাত্রী।

গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল পর্যন্ত সাড়ে ৯ ঘণ্টা এই নৌপথে ছোট-বড় ১৮টি ফেরি চলাচল করতে পারেনি। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় ঘাটে আটকা পড়ে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের শত শত গাড়ি। এতে দৌলতদিয়া প্রান্তে ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারিস পর্যন্ত চার কিলোমিটার রাস্তায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে নৌপথের পাটুরিয়া প্রান্তে ফেরিঘাট থেকে নবগ্রাম পর্যন্ত তিন কিলোমিটার রাস্তায় যাত্রীবাহী বাস এবং উথুলী সংযোগ মোড় থেকে আরিচা ঘাট পর্যন্ত তিন কিলোমিটার রাস্তার এক পাশে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়।

ঈগল পরিবহন বাসের দৌলতদিয়া ঘাট ম্যানেজার ভরত মণ্ডল জানান, দৌলতদিয়ায় যানজটে আটকে পড়া ঢাকাগামী গাড়িগুলোর মধ্যে অন্তত ৫০টি নৈশকোচ ছিল। শীত ও কুয়াশার মধ্যে আটকে থাকায় বাসযাত্রী, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়। গতকাল দুপুর নাগাদ ওই কোচগুলো ফেরির নাগাল পায়।

এদিকে নৌপথে চলাচলকারী রো রো (বড়) ফেরির এক মাস্টার (চালক) জানান, প্রতিবছর শীত মৌসুমে নদীর অববাহিকায় ঘন কুয়াশা পড়ে। এতে নৌ চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। কুয়াশাকালে দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। তিনি আরো জানান, ঘন কুয়াশায় ফেরি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় আলোর উন্নত ব্যবস্থা নেই। চ্যানেলের দুই পাশে পর্যাপ্ত মার্কার বাতিও নেই। এ কারণে কুয়াশার কবলে পড়লে তখন প্রকৃতির ওপর নির্ভর করতে হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘন কুয়াশার মধ্যে নৌপথে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ২০১৫ সালের জুন মাসে নৌ মন্ত্রণালয় টেন্ডারের মাধ্যমে ১০টি ফেরিতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ফগলাইট স্থাপন করে। সাড়ে সাত হাজার কিলোওয়াটের প্রতিটি ফগলাইট কিনতে খরচ হয়েছে ৫০ লাখ টাকার বেশি। অথচ ফেরির আগের লাইটগুলোতে কুয়াশার মধ্যে নৌ চ্যানেলের মার্কার যতটুকু দেখা যেত, নতুন স্থাপন করা ফগলাইটে তা-ও দেখা যায় না। ফলে ঘন কুয়াশার সময় এসব ফগলাইট কোনো কাজে না আসায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

বিআইডাব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘন কুয়াশার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে যানজট সৃষ্টি হয়। পরীক্ষামূলকভাবে ১০টি ফেরিতে স্থাপন করা ফগলাইটের সঙ্গে বিমানে ব্যবহার করা রাডার সংযুক্ত করা গেলে ঘন কুয়াশার মধ্যে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হতো।’

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঘন কুয়াশার কারণে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম (ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের) সংযোগ সড়ক সিরাজগঞ্জ রোড (হাটিকুমরুল) পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত সেতুর টোল প্লাজা দফায় দফায় কয়েক ঘণ্টা বন্ধ রাখায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘন কুয়াশার কারণে সেতুর ওপর দুর্ঘটনা এড়াতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে বেশ কয়েকবার টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়। এ জন্য কয়েক ঘণ্টা সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল করতে পারেনি। ফলে সেতুর দুুুই পারে যানবাহন আটকা পড়ে গাড়ির দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে। আর কুয়াশার মাত্রা বেশি থাকায় ধীরগতিতে যান চলাচল করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা