kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

মির্জাপুর পৌর নির্বাচন: প্রচারণায় নৌকা, ধানের শীষ নিরবে

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০২:১৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মির্জাপুর পৌর নির্বাচন: প্রচারণায় নৌকা, ধানের শীষ নিরবে

সাত দিন পর আগামী শনিবার (৩০ জানুয়ারি) তৃতীয় ধাপে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভায় চতুর্থ বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ পৌরসভায় এর আগে বিএনপি থেকে কেউ মেয়র নির্বাচিত হতে পারেনি। এবারও বিএনপি ফলাফলে ভালো কিছু করতে পারবে না। তবে নির্বাচনের শেষ দিকে জোরেশোরে চলছে প্রচার-প্রচারণা। 

মেয়র, সাধারণ এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে প্রচার-প্রচারণা ও সভা সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। পৌর এলাকাজুড়ে শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের পোস্টার। দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলছে মাইকিং।

মাইকিং প্রচারণায় ভোটের বাজার উত্তাল থাকছে। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সরগরম হয়ে উঠছে মির্জাপুর পৌর এলাকা। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন ভোটাররা। ভোটকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা যেন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

প্রয়াত মেয়র সাহাদত হোসেন সুমনের স্ত্রী বর্তমান মেয়র ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সালমা আক্তার শিমুল তার ও স্বামীর উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রচারণায় ভোট প্রার্থনা করছেন। দিন-রাত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক আর সভা-সমাবেশের মাধ্যমে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। নৌকা প্রতীকের কর্মী সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে বিভিন্ন এলাকা।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে জেলা এবং ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোট চাইছেন। সেই সঙ্গে পৌর শহরের উন্নয়নে এক জোট হয়ে শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ প্রকাশ্যে ভোট চাচ্ছেন নৌকার পক্ষে। এ সময় তারা তুলে ধরছেন মির্জাপুর পৌরসভাসহ উপজেলায় গত পাঁচ বছরের উন্নয়নের চিত্র। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলা নেত্রীরাও তাদের কর্মীদের নিয়ে ছুটছে ভোটারদের কাছে। 

অপরদিকে মাইকিং প্রচারণা চললেও নিরবে চলছে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণা। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডিএম শফিকুল ইসলাম ফরিদের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো প্রচার প্রচারণা কিংবা গণসংযোগের দেখা মেলেনি। তবে ফরিদ তার সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। উপজেলা পর্যায়ের হাতেগোনা কয়েকজন নেতা ছাড়া বিপুলসংখ্যক নেতৃবৃন্দকে প্রচার কার্যক্রমে এখনো পর্যন্ত দেখা যায়নি। তবে বিএনপির কর্মীরা নিরবে প্রচার কাজ করছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন।

চায়ের দোকান, আড্ডা, আলোচনায় একটাই প্রশ্ন বিএনপি একটি বড় দল তাদের প্রচুর ভোট ও জনসমর্থন থাকা সত্বেও প্রার্থীর প্রচারণা এবং নেতাকর্মীরা মাঠে নেই কেন। সচেতন মহলের দাবি দলীয় কোন্দলের কারণে তারা এক হয়ে মাঠে নামতে পারছেন না। পোস্টার, মাইকিং, গণসংযোগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, উঠান বৈঠকসহ সব ক্ষেত্রেই নৌকার প্রচার চোখে পড়ার মতো। মির্জাপুর পৌর নির্বাচনকে ঘিরে অনুসন্ধান এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

পাহাড়পুর এলাকার কামাল মিয়া নামে এক ভোটার বলেন, বিএনপির স্থানীয় প্রথম শ্রেণির নেতারা মাঠে নেই। প্রার্থীর প্রচারণাও কম। এমন অবস্থায় কোনো কর্মী প্রকাশ্যে প্রচার কাজে অংশ নিয়ে বিপাকে পড়তে চাচ্ছেন না।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার মির্জাপুর পৌরসভাসহ উপজেলায় যথেষ্ট উন্নয়ন করেছে। তাই উন্নয়নের দিকে তাকিয়ে নৌকার জোয়ার উঠেছে ভোটারদের মাঝে। পৌরসভার উন্নয়নের স্বার্থে ভোটাররা আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তিনি জানান। 

ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী ডিএম শফিকুল ইসলাম ফরিদ বলেন, ‘নিরবে ভোট প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি পায়ে হেটে পৌর এলাকার ৮০ ভাগ বাড়িতে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছি। বাকি দিনগুলোতে সব বাড়িতে পৌঁছে যাব। ভোটের মাঠ ভালো রয়েছে। জনগণও ভোটের অপেক্ষায় আছে। ধানের শীষেরই বিজয় হবে।’ কর্মী ও দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের প্রচারণায় দেখা না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে বলেন, এখন নামবে।

নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী সালমা আক্তার শিমুল বলেন, আমার প্রয়াত স্বামী সাহাদত হোসেন সুমন ‘গত চার বছরে নাগরিক সেবাসহ যে উন্নয়নমূলক কাজ করেছে এবং আমি গত তিন মাসের অল্প সময়ে পৌরবাসীর সেবা করে যে ভালোবাসা অর্জন করতে পেরেছি তাতে আশা করি দ্বিতীয়বারের মতো পৌরবাসী আমাকে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করবেন। 

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা উম্মে তানিয়া বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য সার্বিক কার্যক্রম চলমান আছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা