kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

রাত পোহালেই বিরামপুরে জয়বাংলা ভিলেজে উঠবে ৩৫০ পরিবার

বিরামপুর (প্রতিনিধি) দিনাজপুর   

২২ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাত পোহালেই বিরামপুরে জয়বাংলা ভিলেজে উঠবে ৩৫০ পরিবার

উপজেলার খাঁনপুর ইউনিয়নের ভূমি অফিসের উত্তর পাশে নির্মাণ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রির উপহারের ৩৫টি বাড়ি। এরই মধ্যে রঙসহ নির্মাণের সকল কাজ সম্পর্ন হয়েছে। বাড়িতে যে পরিবারগুলো ঠাঁই হয়েছে ইতোমধ্যে তারা নিজেদের ঘর পাবার জন্য অনন্দে আছেন।

স্থানীয় প্রসাশনের দাবি নির্মান করা বাড়িগুলোতে ওঠার আগে জমি রেজিষ্ট্রিসহ আনুসাঙ্গিক সকল কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। আগামীকালই তাদের বাড়িগুলোর সকল কাগজ বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রসাশন সুত্র জানায়, বিরামপুর উপজেলায় ভূমিহীন অসহায়দের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাচ্ছেন ৪১৫ টি পরিবার। আগামীকাল এক যোগে সারাদেশে তাদের বাড়িগুলো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে উপজেলায় সব বাড়ি নির্মান কাজ শেষ না হওয়ায় আগামী কাল ৩৫০টি পরিবারের জয়বাংলা ভিলেজ ওঠার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অবশিষ্ঠ ঘরগুলোও বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কার্যালয় সুত্রে জানাগেছে, এবার বিরামপুর উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ৪টি ইউনিয়নে নির্মাণ করা হবে ৪১৫টি পরিবারের জন্য ঘর। এর মধ্যে খাঁনপুর ইউনিয়নে ৩১১টি, কাটলা ইউনিয়নে ১৭টি, বিনাইল ৫৯টি এবং দিওড় ইউনিয়নে ২৮টি। ঘরগুলো নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৭কোটি ৯৬ লক্ষ ৫ হাজার টাকা। 

সরেজমিনে শুক্রবার বিকেলে খাঁনপুর ইউনিয়নের পুকুর পাড়ে নির্মান করা বাড়িগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে লাল রঙের টিন। দুই রুম বিশিষ্ট বাড়িতে রয়েছে একটি রান্নাঘর ও টয়লেট। বাড়িগুলোর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। রঙের কাজও শেষ হয়েছে। ঘরের মালিকরা ঘরগুলোর মেঝে পরিস্কার করে রেখেছেন। অনেকেই অপেক্ষায় আছেন বাড়িতে ওঠার জন্য। 

সেখানে কথা হয় মোকারম হোসেন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন থেকে আমি কঞ্চির বেড়া দিয়ে বাড়ি তৈরি করে ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী যে বাড়ি আমাকে তৈরি করে দিয়েছেন সেই বাড়িতে আগামীকাল উঠতে পারব এটা ভেবেই অনেক আনন্দ লাগতেছে। ঘর নির্মানে কোনো অনিয়ম হয়নি বলেও দাবি তার।

কথা হয় জন্মান্ধ সামসুল আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, শেখের বেটি মোর জম্মের আশা পূরণ করছে। মুই অন্ধ মানুষ, প্রধানমন্ত্রিক দেখবার পালি খুব দোয়া করনু হনে।

একই ইউনিয়নের বুচকি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,সেখানে মিস্ত্রিরা তাদের শেষ সময়ে কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছেন। বিশাল এই জয়বাংলা পল্লিতে নিমাণ করা হয়েছে ২৭৬টি ঘর। সেই পল্লিতে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে মাটির রাস্তা। 

বিরামপুর উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) কাওসার আলী বলেন, ঘরগুলো নির্মাণকাজের শুরু থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেই উপস্থিত হয়ে দেখভাল করছেন। কাজের কোনো অনিয়ম যাতে না হয় সেই দিকে সব সময় তিনি নজর রাখছেন। সঠিক সময়ের মধ্যেই ঘরগুলো হস্তান্তর করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও পরিমল কুমার সরকার জানান, মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারাদেশের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য সেমি পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতমধ্যে ৪১৫টি পরিবারের জমিহস্তান্তর,নথি ভুক্তসহ সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। শতভাগ নিয়ম মেনেই ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা