kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

কালের কণ্ঠকে মোকলেছ

ভোটে দাঁড়ানো ভালো লোকের কাজ নয়

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

২০ জানুয়ারি, ২০২১ ০৩:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোটে দাঁড়ানো ভালো লোকের কাজ নয়

মেহেরপুরের গাংনী পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গত শনিবার। পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোকলেছুর রহমান। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে স্থানীয় একটি খালে ডুব দিয়ে প্রতিজ্ঞা করেন, জীবনে আর কখনো নির্বাচন করবেন না। কান ধরে তাঁর পানিতে ডুব দেওয়ার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, শীতের বিকেলে কান ধরে ঠাণ্ডা পানিতে ডুব দিচ্ছেন মোকলেছ। এ সময় তিনি বলছেন, ‘আর জীবনে বেঁচে থাকা পর্যন্ত কাউন্সিলর পদে ভোট করব না, করব না, করব না।’ কালের কণ্ঠ’র পক্ষ থেকে গতকাল মঙ্গলবার কথা হয় তাঁর সঙ্গে। সেই কথোপকথনের পুরোটাই তুলে ধরা হলো।

কালের কণ্ঠ :  নির্বাচন কেন করলেন?

মোকলেছুর রহমান : আমি নিজের ইচ্ছায় নির্বাচন করতে চাইনি। আমি স্থানীয় একটি কেবল সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠানে স্বল্প বেতনে চাকরি করি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাসের বিল কালেকশন করি। এ জন্য আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও এলাকার মানুষের সঙ্গে বাড়তি যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। এলাকার মানুষ, পাড়া-পড়শির কথায় নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। পেশাগত কারণে এলাকার মানুষের কাছে আমি পরিচিত। সবাই তখন উৎসাহ দিয়েছিল। আমিও ভাবলাম, আমাদের ওয়ার্ডের মানুষ গাংনী পৌরসভার অন্য ওয়ার্ডগুলোর চেয়ে কম সুবিধা পায়। আমি জয়ী হলে এলাকার উন্নয়ন হবে, গরিব মানুষ সহায়তা পাবে। আমার স্ত্রী-সন্তানরা প্রথমে বাধা দিয়েছিল। তাদের বুঝিয়েছি, আমি একজন সৎ মানুষ, এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে পারব। এ কারণেই নির্বাচন করেছিলাম।

কালের কণ্ঠ : প্রস্তুতি নিলেন কিভাবে?

মোকলেছুর রহমান : লোকজনের কথায় উৎসাহী হয়ে ছয় মাস আগে এলাকাবাসীকে একদিন বাড়িতে দাওয়াত করলাম। তারা খেয়েদেয়ে সেদিনও উৎসাহ দিল। উপস্থিত সবাই বলল, ভোট দেবে। এর পর থেকেই সবার কাছে ভোট চাইতে লাগলাম। প্রথম দিন থেকেই মানুষের মধ্যে একটা পরিবর্তন লক্ষ করলাম। এরপর নিজের মতো করে যাচাই করে বুঝলাম, আমি জিততে পারব না। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, ভোটের দিন বিকেলে খালে গিয়ে কান ধরে সাতবার ডুব দেব আর তওবা করব জীবনে ভোটে অংশ না নেওয়ার।

কালের কণ্ঠ : নির্বাচন করতে গিয়ে কি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন?

মোকলেছুর রহমান : জমানো টাকা খরচ করাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ৭০ হাজার টাকা ঋণ করেছি। স্বল্প বেতনের চাকরিজীবী মানুষ আমি, এ ঋণ শোধ করা কঠিন হয়ে যাবে। কোনোমতে ডাল-ভাত খেয়ে সংসার চালাতাম। এখন মাথার ওপর ঋণের বোঝা। আর কিছুই ভালো লাগে না। 

কালের কণ্ঠ : ভোট নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

মোকলেছুর রহমান : আমার শিক্ষা হয়েছে। ভোটে দাঁড়ানো ভালো লোকের কাজ নয়। তাই কোনো ভালো লোক আমার কাছে নির্বাচনের জন্য পরামর্শ চাইতে এলে বলব, ‘ভাই, ভোট ভালো লোকের কাজ নয়। ভোট করার দরকার নেই।’

কালের কণ্ঠ : কত ভোট পেয়েছেন, প্রত্যাশা কত ছিল?

মোকলেছুর রহমান : ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আমিসহ ছয়জন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ছিলাম। বিজয়ী প্রার্থী পেয়েছেন ৩৭৬ ভোট। আমার আত্মীয়-স্বজন ভোট দিলেও আমি চার শতাধিক ভোট পেতাম। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি ১২৫ ভোট পেয়েছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা