kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন

‘ডেঁডারে পুড়ি ফেলন পরেদ্দে’ বলেই প্রার্থীর পোস্টারে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘ডেঁডারে পুড়ি ফেলন পরেদ্দে’ বলেই প্রার্থীর পোস্টারে আগুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে সংঘাতমুখর হয়ে উঠছে নির্বাচনী পরিবেশ। খুন, রাহাজানির পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে তৎপর হয়ে উঠছে একটি চক্র। সর্বশেষ সোমবার রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে সংরক্ষিত আসন-১০ এর নারী কাউন্সিলর প্রার্থী রাধা রানী টুনটু মুন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে পোস্টারে অগ্নি সংযোগের পাশাপাশি ধর্মীয় অবমাননার গুরুতর অভিযোগ লিখিতভাবে জানিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানও বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের নির্দেশনা দিয়েছেন।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, ১৬ জানুয়ারি শনিবার মধ্যরাতে সংরক্ষিত আসন-১০ এর আওতাধীন সাধারণ ওয়ার্ড-২৫ এর সবুজবাগ এলাকায় সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী রাধা রানী দেবী টুনটু মুনের পোস্টার ছিঁড়ে আগুন লাগিয়ে দিতে দিতে সাম্প্রদায়িক ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন ৪-৫ জন যুবক। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ১ মিনিট ৫ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে দেখা যায়, হলুদ জ্যাকেট পরা এক যুবক বাঁশ দিয়ে প্রথমে পোস্টারগুলো ছিঁড়ে নামান। এরপর সবগুলো পোস্টারে আগুন লাগিয়ে দেন। এ সময় ভিডিও ধারণ করা ব্যক্তি অকথ্য ভাষায় প্রার্থীকে ও তার ধর্ম নিয়ে গালিগালাজ করে যাচ্ছিলেন। ১ মিনিট ৫ সেকেন্ডের এই ভিডিওটির ৪৩ সেকেন্ডের সময় বলতে শোনা যায়, ‘ডেঁডারে পুড়ি ফেলন পরেদ্দে, ডেডারে এইল্লা রাখন নো যায় (হিন্দুদের পুড়ে ফেলতে হয়, হিন্দুদের এমন করে রাখা যায় না)।’ এ ঘটনায় নির্বাচনী এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

রাধা রানী দেবী বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে জেনেছি ভিডিওতে হলুদ জ্যাকেট পরা ব্যক্তির নাম মো. আবু ছালেহ সুমন। বাকি ৩ জনের দুজনের নাম ইমন ও নাছির। তারা আরেক সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী হুরে আরা বিউটির কর্মী।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা সুধাংশু বিকাশ নাথ ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে হয়ে আমাকে ধর্মীয় গণ্ডির মধ্যে ফেলে সাম্প্রদায়িক গালি খেতে হচ্ছে, এটা মেনে নেওয়া কষ্টকর। দেশের নাগরিক হিসেবে ভোট করা আমার অধিকার। কিন্তু সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ধর্মীয় উস্কানিমূলক কথা বলে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্টের পাশাপাশি সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টির পায়তারা করছে।’

যদিও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হুরে আরা বিউটি এমন কর্মকাণ্ডে নিজের কিংবা কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আজীবন অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি করেছি, মহিউদ্দিন চৌধুরীর রাজনীতি করেছি। যে বা যারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই। সাথে সাথে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’

অভিযোগের ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুজ্জামানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট থানাকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের কোনো ছাড় নেই। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে অপরাধীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা