kalerkantho

রবিবার। ২২ ফাল্গুন ১৪২৭। ৭ মার্চ ২০২১। ২২ রজব ১৪৪২

যমুনার দুর্গম চরে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার ও কম্বল বিতরণ

১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:৫৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যমুনার দুর্গম চরে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার ও কম্বল বিতরণ

ছবি-প্লাবন আমিন

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার যমুনা নদীর প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে হুইলচেয়ার ও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিকূল যমুনার বুকে তীব্র শৈত্য প্রবাহ ও কনকনে ঠাণ্ডায় কম্বল পেয়ে দারুণ আপ্লুত অবহেলিত ওই শিশুদের পরিবার।

যমুনা নদীর বুকে জেগে থাকা চরের ছয়টি ইউনিয়নের একমাত্র বিশেষায়িত বিদ্যালয় যমুনা আহাদ আলী শেখ অটিস্টিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের উদ্যোগে গত ১৬ জানুয়ারি ৯ জন প্রতিবন্ধীকে হুইলচেয়ার ও প্রতিবন্ধী শিশু ও দুইশজনের মাঝে কম্বল দেওয়া হয়েছে। ছোট্ট আয়োজনের মাধ্যমে এসব তুলে দেওয়া তাদের হাতে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাটুয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান চান বিএসসি, একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, দাতা সদস্য নুরুল ইসলাম তারা, সমাজসেবিকা সাবিনা ইয়াসমিন স্বর্ণা। অনুষ্ঠানের যাবতীয় তদারক করেন জাহিদুল হাসান স্বপন। যিনি  চরের ছয় ইউনিয়নের মানুষের কাছে একটি অনন্য নাম। এই দুর্গম অঞ্চলে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করা শুরুতে সহজসাধ্য ছিল না।

 চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান চান বিএসসি বলেন, 'আমরা সব সময় স্বপনকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি, যদিও পূর্বে বিষয়টি এত সহজ ছিল না। ভেবেছিলাম সে আসলে কী করতে চাইছে। কিন্তু সত্যি একদিন আমাদের স্বপন প্রতিবন্ধীদের নিয়ে একটা স্কুল খুলে ফেলল। আর আমাদের এসব ইউনিয়নে যে এত প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে সেটাও জানতাম না। আজ হুইলচেয়ার দিল, কম্বল দিল- স্বপনের ত্যাগ আসলে বলে শেষ করা যাবে না।' 

জাহিদুল হাসান স্বপন বলেন, 'প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়ানোটা মানুষ সহজ চোখে নিত না। শুরুতে বাঁকা চোখ তাকাত। আমার পরিবারে দুজন প্রতিবন্ধী রয়েছে। আমি তাদের কষ্ট বুঝি। এ জন্যই কাজ করে যাচ্ছি।'

স্বপনের প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি প্রায় দুই শতাধিক প্রতিবন্ধী শিক্ষা গ্রহণ করে চলেছে। সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অনেক জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদ স্বপনের স্কুল পরিদর্শন করে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

যমুনা প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থার জন্য প্রথমে ১৮ শতক এবং স্কুলের জন্য দেড় বিঘা জমি দান করে স্বপনের বাবা মরহুম ফজলুল হক শেখ ও চাচা নুরুল ইসলাম তারা। প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাদান ছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যালয়টি অত্র ইউনিয়নে মানুষের পাশে দাঁড়ায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা