kalerkantho

রবিবার। ২২ ফাল্গুন ১৪২৭। ৭ মার্চ ২০২১। ২২ রজব ১৪৪২

'আমরা দুই বুড়া-বুড়ি...এই ঘর আমরার মা'

বারহাট্টা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি    

১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১২:৫৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'আমরা দুই বুড়া-বুড়ি...এই ঘর আমরার মা'

'আমরা দুই বুড়া-বুড়ি। ছেলে-মেয়ে নাই। জমি-জমা নাই। তাহনের লাইগ্যা নিজেরার ঘর নাই। শেখ হাসিনা আমরারে ঘর দিয়া মায়ের উপকার করছে। অহন থাইক্যা এই ঘরই আমরার মা।'  বসবাসের জন্য নিজের ঘর পেয়ে এভাবেই আবেগ প্রকাশ করলেন উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর-পালপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ দুলাল চন্দ্র পাল (৬৯)।

দুলাল চন্দ্র পালের মতোই খুশি হেলাল মিয়া (৩৫), কাচা মিয়া (৫০), রুবেল মিয়া (২৮), উছমান গনি (৫৫), রেহেনা খাতুন (৪০) ও আলাল মিয়ার (৪১) পরিবার। তারাও দীর্ঘকাল ধরে অন্যের বাড়িতে খুপরি-ঘর বেঁধে অথবা কারো ঘরের বারান্দায় কোন রকমে বসবাস করে আসছেন। তাদের সন্তানদেরও এখন নিজস্ব ঠিকানা হচ্ছে। দুলাল চন্দ্র পালের ঘরের পাশাপাশি তাদের জন্যও পৃথক ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।

দুলাল চন্দ্র পালের স্ত্রী লক্ষ্মী রানী পাল (৬০)। তিনি জানান, এককালে সবই ছিল তাদের। বিভিন্ন কারণে সর্বস্ব খুইয়ে তারা ৩০ বছর ধরে পালপাড়ার এক সদাশয় ব্যক্তির জমিতে ছাপরা বেঁধে বসবাস করে আসছেন।  
সুবিধাভোগী উছমান গনি বলেন, 'মাঝে মাঝে মনে অয়, খাওনের থাইক্যা ঘরটাই আসল। নিজের ঘর তাহলে (থাকলে) একটা সম্মান তাহে (থাকে)। যারা পরের বাড়িত তাহে, মাইনষে তারারে নিন্দে, বাউইল্যা কয়।  হুনতে খারাপ লাগে। এখন আমরার নিজেরার ঘর অইতাছে। খাই-বা না খাই, কেউ বাউইল্যা কইতে পারবো না।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোরশেদ বলেন, মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে সরকার সারা দেশে 'ক' শ্রেণির ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই আওতায় বারহাট্টায় বাছাইকৃত ৪৭টি পরিবারকে খাসজমি বন্দোবস্ত এবং এই জমিতে আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। গৃহহীন সব পরিবারকেই পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন করা হবে। 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. লতিফুর রহমান বলেন, প্রতিটি ঘরের আয়তন ৪৯৫ বর্গফুট। দুটি শয়নকক্ষ, একটি রান্নার কক্ষ ও সংযুক্ত বাথরুম আছে। নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে এক লক্ষ ৭১ হাজার টাকা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্মাণকাজ করা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা