kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

পাবনায় বিএনপির দুর্গে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর হ্যাটট্রিক

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১২:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাবনায় বিএনপির দুর্গে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর হ্যাটট্রিক

পাবনা-৩ আসনে (চাটমোহর, ভাঙ্গুরা ও ফরিদপুর) বিএনপির দুর্গ হিসেবে খ্যাত ফরিদপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী খ ম কামরুজ্জামান মাজেদ তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এই নেতা ১ হাজার ৪৭৭ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এনামুল হক। উপজেলা নির্বাচন অফিসার আলী হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, ১৯৯৯ খালে ফরিদপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন মাস্টার পরপর দুইবার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ফরিদপুরে কোন স্থানীয় ও সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সুবিধা করতে পারেননি। রাজনীতিতে সবসময়ই বিএনপির নেতাকর্মী দ্বারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কোণঠাসা অবস্থায় থাকতেন। কিন্তু ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পরই ফরিদপুরে রাজনীতি ও ভোটের চিত্র পাল্টাতে থাকে। এ অবস্থায় ২০১১ ও ২০১৫ সালে পৌর মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী খ ম কামরুজ্জামান মাজেদ।

সর্বশেষ গতকাল শনিবার ফরিদপুর পৌরসভার পঞ্চম নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আওয়ামী লীগের খ ম কামরুজ্জামান মাজেদ, বিএনপির এনামুল হক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এমদাদুল হক। এদিন সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এই পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৬৬৮ জন। এর মধ্যে ভোট প্রদান করেন ৮ হাজার ৮৬৯ জন। ১১টি ভোট বাতিল হয়ে যায়। এতে নৌকা মার্কায় ৪ হাজার ৯৯৬, ধানের শীষে ৩ হাজার ৫১৯ ও নারিকেল গাছ মার্কায় ১৪৩ ভোট পড়ে। তবে ভোট গ্রহণের সময় শেষ হলেও ২টি কেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা লাইন থাকায় ভোটগ্রহণ দেরিতে শেষ হয়। এজন্য মেয়র পদে ফলাফল ঘোষণা করতে রাত ৯টা বেজে যায়।

দিনভর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ইভিএমে ভোট প্রদানের কারণে বয়স্ক ও নিরক্ষর ভোটারদের কিছুটা অসুবিধা হলেও ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সমস্যা দূর হয়। পৌরসভার একমাত্র গোপালনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মেয়র প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। ভোটগ্রহণের বিষয়ে মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীদের কোনো প্রকার অভিযোগ ছিল না।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলী হোসেন বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালিয়েছেন। ভোটের দিনেও স্বচ্ছ এবং অবাধ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটের সার্বিক পরিস্থিতিতে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা খুশি হয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা