kalerkantho

রবিবার । ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৫ রজব ১৪৪২

তীব্র শীতের সকালে ৭০ বছরের বৃদ্ধের ইট ভাঙার গল্প

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ    

১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১১:২৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



তীব্র শীতের সকালে ৭০ বছরের বৃদ্ধের ইট ভাঙার গল্প

সকাল ৯টা। ঘন কুয়াশার চাদর ভেদ করে ১৫-২০ হাত দূরের মানুষটিকেও ঠিক ভাবে চেনা যায় না। এমনই পরিবেশে একেবারে খোলা আকাশের নীচে একমনে ইট ভেঙে চলেছেন এক বৃদ্ধ। 

বৃদ্ধের কাছে গিয়ে নাম জানতে চাইলে বললেন পুরো নাম খোরশেদ মিয়া। বয়স জানতে চাইলে বললেন ৭০ এর বেশি। বাড়ি কোথায়? উত্তরে বললেন শহরতলীর বাদে কল্পা গ্রামে। এরপর শুরু হলো খোরশেদ মিয়ার জীবন সংগ্রামের গল্প। খোরশেদ মিয়া সেই পাকিস্তান আমল থেকেই ইট ভাঙার কাজ করেন। তার ৩ মেয়ে আর ২ ছেলে। ছেলে দুটির বয়স ১৫-১৬ এর কাছাকাছি। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে দুটির বড়টি এলাকাতেই মিস্ত্রীর কাজ শিখছে। আর ছোটটি বাড়িতেই থাকে। কিন্তু সংসারের প্রয়োজনে এ বয়সেও খোরশেদ মিয়াকে ইট ভাঙার কাজ করতে হয়। 
   
বাড়ি থেকে রওয়ানা দিয়ে সকাল ৯টায় শহরে আসেন খোরশেদ মিয়া। এখন তিনি ইট ভাঙছেন শহরের সিকেঘোষ রোডে প্রেসক্লাবের পেছনের একটি জায়গায়। খোরশেদ মিয়া জানান প্রতিদিন গড়ে ৪-৫শ টাকার মতো তিনি আয় করতে পারেন। যেদিন কাজ থাকে না , সেদিন বেকার। কাজ শেষে বাড়ি ফেরেন দুই-আড়াই কেজি চাল আর কিছু শাক-সবজি নিয়ে। মাংস খান দাওয়াত পেলে নয়তো কোরবানী ঈদের সময়। আর মাছ হঠাৎ। গায়ের পুরানো ছেঁড়া ফুলহাতা গেঞ্জিটাই তার একমাত্র কাপড়। লুঙ্গি আছে পুরানো আর ছেড়া দুটি। বেশি কথা বললে বৃদ্ধের কাজের ব্যাঘাত ঘটবে। তাই আর কথা না বাড়িয়ে সামনের দিকে পা বাড়ালাম। পেছনে শোনা যাচ্ছে হাতুড়ির আঘাতে ইট ভাঙার শব্দ...ঠক ঠক ঠক। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা