kalerkantho

শুক্রবার । ২০ ফাল্গুন ১৪২৭। ৫ মার্চ ২০২১। ২০ রজব ১৪৪২

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন

আ. লীগ ও বিএনপির ব্যবধান যেখানে

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১১:২৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আ. লীগ ও বিএনপির ব্যবধান যেখানে

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আর ৯ দিন বাকি। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রচারে ব্যস্ত এখন। নানা ধরনের আলোচনার পাশাপাশি চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। দলীয় মেয়র প্রার্থীকে জেতাতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—দুই পক্ষই যেখানে মরিয়া, সেখানে কোন কোন বিষয়গুলো তাদের পক্ষে বা বিপক্ষে যেতে পারে তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

দলীয় নেতাকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচনে দুই দলের মেয়র প্রার্থীর বিজয়ের ক্ষেত্রে ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারেন চট্টগ্রামের চার প্রভাবশালী নেতা। এই চার নেতার ভূমিকার পাশাপাশি দুই দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাদের যে যত বেশি সম্পৃক্ত করতে পারবেন, সেই প্রার্থী বিজয়ী হবেন। সে কারণে ভোটের মাঠে এসব নেতা ও তাঁদের অনুসারী নেতাকর্মীদের উপস্থিতি-অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনাও গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের চেয়ে পিছিয়ে আছে বিএনপি।

দুই দলের গুরুত্বপূর্ণ এই চার নেতার মধ্যে তিনজনই সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী-উপমন্ত্রী। তাঁদের নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম নগরেই। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং সদ্যোবিদায়ী সিটি মেয়র ও দলের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। এর মধ্যে নাছির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও নওফেল চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য।

অন্যদিকে বিএনপির দুই নেতা হলেন সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান। সিটি নির্বাচনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও আব্দুল্লাহ আল নোমান প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট।

আগামী ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দলের চট্টগ্রাম নগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম। বিএনপির প্রার্থী দলটির নগর শাখার আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন।

আওয়ামী লীগ : নির্বাচনী প্রচার শুরুর প্রথম দিন থেকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে মাঠে রয়েছেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। নওফেল সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সরকারের উপমন্ত্রী হওয়ার কারণে নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে পারবেন না।

দলের বর্ষীয়ান নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী তিন বছর আগে মারা গেলেও এখনো চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের বড় অংশই তাঁর অনুসারী। মহিউদ্দিনের মৃত্যুর পর এই অংশটি তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র নওফেলের অনুসারী। তারা দলের মেয়র প্রার্থী ও দল সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানায়।

এ ছাড়া গত সাত বছরের বেশি সময় ধরে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে থাকা এবং এর আগে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে থাকা নাছিরেরও অনেক অনুসারী রয়েছে। নির্বাচনী মাঠে আপাতত দুই পক্ষের অনুসারীদের সক্রিয় দেখা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে, নগরে সরকারি দলের রাজনীতিতে প্রধান দুটি পক্ষের এই দুই নেতার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ইতিবাচক ভূমিকা দলের মেয়র প্রার্থীকে বিজয়ী করতে পারে।

জানতে চাইলে নাছির উদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই নির্বাচনকে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আমাদের দলের মেয়র প্রার্থীকে বিজয়ী করার বিকল্প নেই।’

নাছিরের পাশাপাশি নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীসহ কমিটির অনেক নেতাও মাঠে রয়েছেন।

বিএনপি : বিএনপির চট্টগ্রাম নগরের রাজনীতিতে এখনো আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আব্দুল্লাহ আল নোমানের অনেক অনুসারী রয়েছে। যেকোনো নির্বাচনে তাঁদের বড় ভূমিকা থাকে। এর আগে গত বছরের ২৯ মার্চ নির্বাচন সামনে রেখে দলের মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে প্রথম দিন থেকেই প্রচার মাঠে ছিলেন খসরু। তবে এবার এখনো এ দুই নেতাকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় ও চট্টগ্রামের শীর্ষপর্যায়ের এ দুই নেতার দিকেই অনেক নেতাকর্মী-সমর্থক তাকিয়ে আছেন বলে দলীয় সূত্রগুলো জানায়।

দলীয় নেতাদের মতে, নোমান ও খসরু চট্টগ্রামে এসে মাঠে নামলে দলের মেয়র প্রার্থীর গণসংযোগ ও প্রচার আরো জোরালো হবে। তাঁদের অনুসারীরা চাঙ্গা হবে। নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর এরই মধ্যে ৯ দিন পার হয়েছে। এর মধ্যে খসরু ও নোমান চট্টগ্রামে আসেননি। ঢাকায় আছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা