kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

মাঠে ‘তেজ’ দেখাচ্ছেন সাবেক ১৪ কাউন্সিলর

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম    

১৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০২:১৮ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মাঠে ‘তেজ’ দেখাচ্ছেন সাবেক ১৪ কাউন্সিলর

সাবেক ১৪ ওয়ার্ড কাউন্সিলর। আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়েই গলায় জড়িয়েছিলেন বিজয়ের মালা। নানা কারণেই এবার আওয়ামী লীগের সমর্থন পাননি তাঁরা। সেই ‘তেজ’ এখন তাঁরা দেখাচ্ছেন নির্বাচনী মাঠে। তাঁদের দোর্দণ্ড প্রতাপে একেবারে কোণঠাসা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (চসিক) আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ভোট যতই এগিয়ে আসছে ততই ‘রংবাজ’ হয়ে উঠছেন বিদ্রোহীরা। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে নগরের ২৮ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে বিদ্রোহী সাবেক কাউন্সিলর আবদুল কাদেরের সমর্থকদের হামলায় জীবন দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর এক অনুসারী। উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে গতকাল বুধবার রাতে মহানগর আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভা করেছে। এ সভা থেকে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানায়।

এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকরা প্রচারে পদে পদে বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাবেক ১৪ কাউন্সিলর প্রার্থী চসিক নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভীতি ছড়ালেও সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড মিলে এখনো ৪৭টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছেন দলের ৮৯ বিদ্রোহী প্রার্থী। তাঁদের দাপটে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে এক রকম অসহায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বেশির ভাগ ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বিব্রত। গণসংযোগ থেকে না সরে উল্টো দলীয় সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে নৌকার মেয়র প্রার্থীর প্রচারণায়ও ঢুকে পড়েছে বিদ্রোহীরা। এতে উত্তেজনার পারদ বাড়ছে বিভিন্ন এলাকায়। ভোটারদের মনেও নানা প্রশ্ন জাগছে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আসলে কারা? দেখা যাচ্ছে বিএনপি প্রার্থীদের পাশাপাশি নিজ দল সমর্থিত প্রার্থীদেরও তোয়াক্কা করছেন না এসব বিদ্রোহী। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় নেতাদের মধ্যে কয়েকজন তাঁদের মদদ দিচ্ছেন।

গত মঙ্গলবার রাতে নগরের ২৮ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নজরুল ইসলাম বাহাদুর ও বিদ্রোহী সাবেক কাউন্সিলর আবদুল কাদেরের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর অনুসারী আজগর আলী বাবুল নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকে অনেক ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে এসব পরিস্থিতি কঠোরভাবে মোকাবেলা করা না গেলে সামনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সামলানো কঠিন হতে পারে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। গত শুক্রবার চসিক নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর থেকেই বিদ্রোহীরা মাঠে আধিপত্য দেখান। বেপরোয়া কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডও চিন্তিত। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে দল সমর্থিত প্রার্থীর বাইরে যাঁরা (বিদ্রোহী প্রার্থী) নির্বাচনে প্রচারণা চালাচ্ছেন তাঁদেরকে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে প্রচারণা থেকে দূরে থাকার জন্য আমরা বারবার হুঁশিয়ারি করেছি। এখনো সময় আছে তাঁরা নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন। তা না হলে দল কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।’

২৮ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘কাদেরকে (আবদুল কাদের) গ্রেপ্তার করা হলেও তাঁর কাছে অনেক অবৈধ অস্ত্র আছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার করা না হলে গত নির্বাচনের মতো আবারও কেন্দ্র দখল করে ভোট নিয়ে ফেলবে কাদের।’

পাঠানটুলী ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত একক প্রার্থী থাকলেও নিজেদের বিদ্রোহী প্রার্থীর (সাবেক কাউন্সিলর আবদুল কাদের) কারণে অনেকটা বেকায়দায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর। এক সময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী আবদুল কাদের ওরফে মাছ কাদের কয়েক দিন ধরে ওই ওয়ার্ডে বাহাদুরের সমর্থিতদের প্রচারণায় বাধার সৃষ্টি করার পাশাপাশি হুমকি-ধমকি দিয়ে আসার অভিযোগ করছেন দলীয় নেতারা। সাবেক কাউন্সিলরদের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডে তৌফিক আহমেদ চৌধুরী প্রচারণা শুরু থেকেই দাপটের সঙ্গে এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। সাবেক এই কাউন্সিলর গত পাঁচ বছর এলাকায় সশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়ে ঘোরাফেরা করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। 

এ ছাড়া বিভিন্ন সাধারণ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের (সাবেক কাউন্সিলর) মধ্যে মাঠে রয়েছেন ২ নম্বর জালালাবাদে মো. সাহেদ ইকবাল বাবু, ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলীতে মোরশেদ আকতার চৌধুরী, ১২ নম্বর সরাইপাড়ায় মো. সাবের আহমদ ও মো. আসলাম, ১৪ নম্বর লালখান বাজারে এ এফ এম কবির মানিক, ২৪ নম্বর উত্তর আগ্রাবাদে জাবেদ নজরুল ইসলাম, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলীতে মো. জহিরুল আলম জসিম, ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডে হাসান মুরাদ বিপ্লব।

নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী রয়েছেন ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জেসমিন পারভীন জেসি; ৯, ১০ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে আবিদা আজাদ; ১৬, ২০ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে আনজুমানা আরা বেগম ও ১২, ১৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ফারহানা জাবেদ। এই চারজন আওয়ামী লীগের গতবারের বিজয়ী কাউন্সিলর। এ ছাড়া ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সাবেক কাউন্সিলর ফেরদৌস বেগম মুন্নী। এর বাইরে আসন্ন চসিক নির্বাচনে আরো ৩৩টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের ৭৫ জন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায় আছেন। সব মিলিয়ে ৪১টি সাধারণ (একটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত) ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৪টিতে নির্বাচনী মাঠে সরব ৬২ জন এবং ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩টিতে মাঠে আছেন আওয়ামী লীগের ২৭ জন বিদ্রোহী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা