kalerkantho

রবিবার। ২৮ চৈত্র ১৪২৭। ১১ এপ্রিল ২০২১। ২৭ শাবান ১৪৪২

পাকুন্দিয়ায় গুদামের অভাবে নতুন বই নিয়ে বিপাকে উপজেলা শিক্ষা বিভাগ

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি    

১২ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাকুন্দিয়ায় গুদামের অভাবে নতুন বই নিয়ে বিপাকে উপজেলা শিক্ষা বিভাগ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বই সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় জায়গা না থাকায় খোলা আকাশের নিচে রেখে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বই তুলে দেওয়া হচ্ছে, ছবি: কালের কণ্ঠ

প্রতিবছর ১ জানুয়ারি ‘বই উৎসব’ পালনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু এসব বই ঢাকা থেকে আসার পর বইগুলো রাখার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো গুদাম বা সংরক্ষণাগারের ব্যবস্থা না থাকায় কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা শিক্ষা বিভাগকে পড়তে হয় বিপাকে। প্রতিবছর এ উপজেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ৭ লাখ বই বিতরণ করা হয়ে থাকে। 

জানা যায়, শিক্ষাকে গুরুত্বের সর্বোচ্চ শিখরে রেখে ২০১০ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে সব শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যবই দেওয়া শুরু করে সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ের এসব পাঠ্যবই নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে এসে পৌঁছায়। আর মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যবই সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের মধ্যে এসে পৌঁছায়। প্রতি বছর ১ জানুয়ারি বই উৎসবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিতে হয়। বইগুলো স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছানোর আগে সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও গুদামজাত করতে হয়। অথচ পাকুন্দিয়া উপজেলায় এসব বই রাখার জন্য কোনো গুদাম নেই। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃপক্ষ তাদের বইগুলো রাখে উপজেলা শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ে। 

অপরদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃপক্ষ তাদের বইগুলো রাখে পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও পাকুন্দিয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে। পুরো জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের এই শ্রেণিকক্ষগুলো ব্যবহার করতে হয়। এতে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষ কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। 

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় ১৯৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন পর্যায়ের বিদ্যালয় রয়েছে ১০৩টি। এসব বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবছর বই প্রয়োজন হয় ২ লাখ ৭ হাজার ১৩২টি। অন্যদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৪১টি। এসব বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বইয়ের প্রয়োজন হয় ৩ লাখ ২৫ হাজার। আর দাখিল মাদরাসা রয়েছে ৩১টি ও ইবতেদায়ী মাদরাসা রয়েছে ২২টি। এসব প্রতিষ্ঠানে বইয়ের প্রয়োজন হয় ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬টি। অবশ্য প্রতিবছর শিক্ষার্থীর হার হ্রাস-বৃদ্ধির ওপর এর পরিমাণ নির্ধারণ হয়। 

পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলায় প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিবছর দুই লক্ষাধিক পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। এই বইগুলো রাখতে একটি সুনির্দিষ্ট গুদামের খুবই প্রয়োজন। গুদাম না থাকায় বই গুলো উপজেলা শিক্ষক সমিতি কার্যালয়ে রাখতে হয়। অনেক সময় তারাও জায়গা দিতে চায় না। ফলে তাদের ম্যানেজ করে বইগুলো রাখা হয়ে থাকে। 

পাকুন্দিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম সাইফুল আলম বলেন, প্রতিবছর বই নিয়ে আমাদের বিপাকে পড়তে হয়। বই রাখার জন্য সরকারি কোনো গুদাম বা সংরক্ষণাগার নেই। ফলে সদরের বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষকদের ম্যানেজ করে কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে বইগুলো রাখতে হয়। বইগুলো বিতরণ করতে কমপক্ষে চার মাস সময় লেগে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার বিঘ্ন ঘটে। এছাড়া মেঝেতে বইগুলো গাদাগাদি করে স্তুপ আকারে রাখতে হয়। এতে নিচের অনেক বই নষ্ট হয়ে যায়। ইদুরেও অনেক বইয়ের ক্ষতি করে থাকে। প্রতিবছর এ উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় পাঁচ লাখ বই বিতরণ করা হয়ে থাকে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ হাসান বলেন, বই সংরক্ষাণাগারের সমস্যাটি সারা দেশের। এসব বই রাখার মত আমাদের উপজেলা পরিষদেও সরকারি কোনো ভবন নেই। তবে আপাতত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে রেখে সমস্যার সাময়িক সমাধান হলেও ভবিষ্যতের জন্য এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রয়োজন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা