kalerkantho

সোমবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭। ১ মার্চ ২০২১। ১৬ রজব ১৪৪২

সিফাতকে হত্যার আগেই লাশ চাপা দিতে গর্ত খোঁড়ে মতি

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

৯ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:২২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সিফাতকে হত্যার আগেই লাশ চাপা দিতে গর্ত খোঁড়ে মতি

নির্জনে ডেকে নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মাটি চাপা দেওয়া হয় পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা কলেজছাত্র ফাহিদ হাসান সিফাত (১৮) কে। পরে সিফাতের ফোন থেকেই তার বাবার কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ চায় হত্যাকারী। নানা নাটকীয়তার পর র‌্যাবের জালে ধরা পড়ে হত্যাকারী সিফাতেরই প্রতিবেশী চাচাতো ভাই মতিউর রহমান (১৯)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করে এই যুবক। র‌্যাবের কাছে পারিবারিক কলহের জের ধরে ওই ছাত্রকে শ্বাসরোধ হত্যার বর্ণনাও দিয়েছেন তিনি। তার দেওয়া তথ্য মতেই শনিবার দুপুরে বাড়ির দুই শ মিটার দূরের এক ফসলি জমি থেকে উদ্ধার করা হয় সিফাতের মরদেহ। পুলিশ ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে প্রেরণ করা হয়। এ সময় হাজারো উৎসুক মানুষ ভিড় জমায় চারপাশে।

ঘটনাটি ঘটেছে জেলার আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের ছোটদাপ এলাকায়। নিহত সিফাত ওই এলাকার সফিকুল ইসলামের ছেলে। সে দিনাজপুর আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ত। আর হত্যাকারী সিফাতেরই প্রতিবেশী মকলেছুর রহমানের ছেলে মতিউর রহমান মতি (১৯)।

র‌্যাব ও সিফাতের পরিবার জানায়, ৩ জানুয়ারি সিফাত দিনাজপুর থেকে বাড়ি ফেরে। ৪ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। তারপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ৫ জানুয়ারি আটোয়ারী থানায় সাধারণ ডায়েরি করে তার বাবা সফিকুল ইসলাম। ওই দিন সন্ধ্যাতেই মতিউর কণ্ঠ নকল করে সিফাতের ফোন থেকে তার বাবার কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না দেওয়া হলে সিফাতকে হত্যার হুমকি দেয়। মুক্তিপণের জন্য এক লাখ টাকা দিতেও রাজি হয় তার বাবা। তবে কে এই হুমকিদাতা তা জানতো না সিফাতের পরিবার। তিন দিনেও ছেলের খোঁজ না মেলায় শুক্রবার র‌্যাব-১৩ সদরে অভিযোগ করেন সিফাতের বাবা সফিকুল ইসলাম।

ওই দিনই মাঠে নামে র‌্যাব। সন্ধ্যায় তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে সিফাতের প্রতিবেশী মোকলেছুর রহমানের ছেলে মতিউর রহমানসহ চারজনকে আটক করে র‌্যাব। পরে জিজ্ঞাসাবাদে মতিউর হত্যার পর সিফাতকে মাটি চাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যমতেই বাড়ির পাশের ফসলি জমি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদাল ও হত্যাকারীর মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে লাশ ও আসামি আটোয়ারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় সিফাতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। এদিকে শান্তিপূর্ণ গ্রামে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। সন্তান হারিয়ে শোকে কাতর বাবাও চেয়েছেন ন্যায়বিচার।

সিফাতের বাবা সফিকুল ইসলাম বলেন, মতিউর বখাটে ছেলে। তাদের পরিবারের প্রত্যেকেই ঝগড়াটে। তারা সব সময় খারাপ কাজ করে বেড়ায়। সম্প্রতি মতিউর আমাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করত। আমাদের সঙ্গে সরাসরি কোনো শত্রুতা ছিল না। কি কারণে সে আমার ছেলেকে হত্যা করলো আমি ভেবে পাচ্ছি না।

সিফাতের মা ফারমিনা আক্তার বলেন, কয়েক দিন আগে মতিউর আমার স্বামীর নম্বর নিয়ে গেছে। তারা একটি পারিবারিক সালিসকে কেন্দ্র করে আমাদের পরিবারের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। সেই থেকে তারা আমার সহজ সরল ছেলেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। এমন শাস্তি দেওয়া হোক যেন আর কোনো বাবা-মায়ের কোল খালি না হয়।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৩র অধিনায়ক কমান্ডার রেজা আহমেদ ফেরদৌস, (এস) বিএন বলেন, আমরা বিষয়টি জানার ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য বের করেছি। ৪ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার সময় ঠাণ্ডা মাথায় শ্বাসরোধ করে সিফাতকে হত্যা করা হয়। প্রধান আসামিসহ চারজনকে আটক করেছি। এ ছাড়া লাশটি যে স্থানে গুম করা হয়েছিল তা বের করেছি। পারিবারিক কলহের জেরে ওই কলেজছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে বলে হত্যাকারী আমাদের কাছে স্বীকার করেছে। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করে হত্যার কারণ বিস্তারিতভাবে আমরা জানাতে পারব। তবে হত্যার আগে তাকে কোনো কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি-না তা আমরা ময়নাতদন্তের পরে জানতে পারব। লাশ ও আসামি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা