kalerkantho

রবিবার । ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৫ রজব ১৪৪২

কক্সবাজারের ‘মানবিক জেলা প্রশাসক’র পুষ্পিত বিদায়

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

৬ জানুয়ারি, ২০২১ ২২:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কক্সবাজারের ‘মানবিক জেলা প্রশাসক’র পুষ্পিত বিদায়

একজন ‘মানবিক জেলা প্রশাসক’ হিসাবে পরিচিতি নিয়েই কক্সবাজার থেকে বুধবার (৬ জানুয়ারি) বিদায় নিলেন প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা উপসচিব মো. কামাল হোসেন।

তিনি ছিলেন- কক্সবাজার জেলার ২২তম জেলা প্রশাসক। জেলাবাসীর সুখ-দুঃখের একান্ত সাথী হিসাবে পাওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ বুধবার বিমানবন্দরে সমবেত হয়ে ফুলের মালা গলায় পরিয়ে বিদায় জানান সেবাদানকারী বিদায়ী জেলা প্রশাসককে।

অপরদিকে বুধবারই নবাগত জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ জেলা প্রশাসক হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তিনি ছিলেন বাগেরহাট জেলার জেলা প্রশাসক। বিদায়ী এবং নবাগত জেলা প্রশাসকদ্বয় ৩০ লাখ শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে বুধবার সকালে শহীদ মিনারে ফুল দিয়েই দায়িত্ব গ্রহণ এবং হস্তান্তর করেন।

মো. কামাল হোসেন ২০১৮ সালের ৪ মার্চ কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক হিসাবে যোগদান করেছিলেন। দীর্ঘ ৩৩ মাস ধরে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক হিসাবে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের সেবা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকার লোকজন। এ সময়ে জেলা প্রশাসক জেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং পর্যটন সম্ভাবনা নিয়েও ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন বলে জানান এলাকাবাসী।

কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাছির উদ্দিন এ প্রসঙ্গে জানান- ‘জনগণের প্রতি সদাচরণ, বঞ্চিত জনগোষ্ঠিকে অধিক সেবা দান, কঠোরতা পরিহার করে মানুষের প্রতি দরদ প্রদর্শন, ন্যায়নিষ্ঠতা থেকে জনবান্ধব আচরণসহ ইত্যাদি কারণেই মো. কামাল হোসেন জেলাবাসীর কাছে পেয়েছেন ‘মানবিক জেলা প্রশাসক’ হিসাবে পরিচিতি। 

তিনি জানান, উদ্যোগ নিলেই একটি কল্যাণকর কাজ বাস্তবায়ন করা যায়-তার প্রমাণও রেখে গেলেন জনবান্ধব জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

কক্সবাজারের পরিবেশ কর্মী দীপক শর্মা দীপু বলেন- ‘বাস্তবে শহরের সার্কিট হাউজ সড়কে ‘অরুণোদয়’ নামে অটিস্টিক শিশুদের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেই তিনি সবচেয়ে বেশি মানুষের হৃদয়ে স্থান পেয়েছেন। স্কুলটিতে বর্তমানে আড়াই শ'র বেশি অটিস্টিক শিশু শিক্ষা নিচ্ছে। এরকম স্কুল জেলায় আর নেই।’

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আমিন আল পারভেজ জানান, এ জেলায় শিক্ষার হার মাত্র শতকরা ৩৪ জন। দেশের একমাত্র পর্যটন নির্ভর জেলায় শিক্ষার হার বাড়াতে বিদায়ী জেলা প্রশাসক ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। এমনকি তিনি ইতিমধ্যে ‘ডিসি কলেজ’ নামের একটি বিশেষায়িত কলেজও প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। সেই সঙ্গে সাগর পাড়ে একটি শিশু পার্ক ও শিশু হাসপাতাল স্থাপনের কাজও এগিয়ে দিয়েছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এবং সরকারের উপ-সচিব মো. কামাল হোসেনকে কক্সবাজার থেকে বদলি করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। জেলা প্রশাসকের বদলির আদেশের পর থেকেই এলাকার বিভিন্ন সংগঠন এবং ব্যক্তিবর্গ প্রতিদিন বিদায় জানাতে ভিড় করেন জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে। এক দিনে ১০/১২টি বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও তাঁকে যোগ দিতে হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মজুদ হয়েছে শত শত ক্রেস্ট এবং ফুলের তোড়া।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বুধবার বিমান বন্দরে জেলা প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছায় বিদায় দিয়ে বলেন- ‘মো. কামাল হোসেন জনগণের ডাকে সাড়া দিতেন। অসহায় মানুষের প্রতি তিনি হাত বাড়িয়েছেন। জেলার ৭৭টি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে তাঁর রয়েছে অনন্য ভূমিকা। করুণাকালে তাঁর সঙ্গে মিলে মিশে আমি জনসেবা দিতে গিয়ে বুঝতে পেরেছি সত্যিই তিনি একজন মানবিক মানুষ। এ কারণেই লোকজন তাঁকে ফুলের মালায় বিদায় দিলেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা