kalerkantho

সোমবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭। ১ মার্চ ২০২১। ১৬ রজব ১৪৪২

শিশু বয়সে নিখোঁজ, বৃদ্ধ বয়সে বাড়ি ফেরা

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৯ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৬:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশু বয়সে নিখোঁজ, বৃদ্ধ বয়সে বাড়ি ফেরা

গোলাম মোস্তুফা

বাবার সঙ্গে ট্রেনে ওঠে ১০ বছরের মোস্তুফা। ময়মনসিংহের গফরগাঁও রেল স্টেশন থেকে এক আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছিলো তারা। অসুস্থ মোস্তুফাকে ট্রেনে রেখে কিছু একটা কিনতে বাবা আজিম উদ্দিন স্টেশনে নামেন। বাবা ওঠার আগেই ছেড়ে দেয় ট্রেন। লোকজন মোস্তুফাকে পাবনার ঈশ্বরদী রেল স্টেশনে নামিয়ে দেয়। বাবাকে হারিয়ে অসুস্থ মোস্তুফা একটি চায়ের দোকানে বসে কাঁদছিল। সেখান থেকে সিরাজ উদ্দিন নামের স্থানীয় এক রিকশা গেরেজের মালিক তাকে বাড়ি নিয়ে যান। চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তাকে বাড়িতেই রেখে দেন তিনি। ৫৫ বছর আগে ১৯৬৫ সালের দিকে ঘটে এমন ঘটনা।

৫৫ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া সেই মোস্তফা ফিরে এসেছেন নিজ বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাংগালিয়া ইউনিয়নের দগদগা গ্রামে। সঙ্গে এসেছেন স্ত্রী সোহাগী বেগম এবং তিন সন্তান। গত শুক্রবার বাড়ি ফিরে আর বাবা-মায়ের দেখা পাননি মোস্তফা। ছোটভাই আব্দুল আউয়াল তাকে সনাক্ত করেন।

মোস্তুফা পরিবার নিয়ে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রহমান কনোনীতে থাকেন। মোস্তুফা বর্তমানে তিন সন্তানের পিতা। তাঁর বড় ছেলে সজিব হোসেন একটি কম্পানিতে চাকরি করেন। ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম সুরুজ ব্যবসা করেন। মেয়ে সুমনা অবিবাহিতা। গত চার বছর আগে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এতে প্যারালাইজড হয়ে অস্বাভাবিক হয়ে পড়েন তিনি। তিন মাস আগে তার হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি মনে পড়তে থাকে। স্ত্রী সোহাগীকে ডেকে এসব কথা বলেন তিনি। মোস্তুফা তার বাবা-মা-ভাই-বোনের নাম বলতে পারছিলেন না। তবে তার আসল বাড়ি জাংগালিয়ার দগদগা গ্রামে হতে পারে বলে জানান তিনি। 

এই ঠিকানা লিখে রাখে মেয়ে সুমনা। পরে ছোট ছেলে গুগলে সার্চ দিয়ে বাবার জন্মস্থান খুঁজে বের করেন। গুগলের মাধ্যমে দগদগা গ্রামের শফিকুল ইসলাম নামের এক ওষুধ ব্যবসায়ীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন সুরুজ। মোবাইলে ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে বাবার হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা খুলে বলেন তিনি। পরে তার ফেসবুকে বাবার ছবি পাঠান। তার তথ্যের ভিত্তিতে দগদগা গ্রামে মোস্তুফার বাবার বাড়ি খুঁজে বের করেন ওই ব্যবসায়ী। মোস্তফার ছবি দেখে বড় ভাইকে সনাক্ত করেন ছোট ভাই আব্দুল আউয়াল। তখনই ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়ে দেওয়া হয় মোস্তুফাকে।

এ বিষয়ে জানতে গোলাম মোস্তুফাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কিছুই মনে করতে পারছিলেন না। তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। ছোট বেলায় বাবার সঙ্গে গফরগাঁও রেল স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠেছিলেন, শুধু এটুকু বলতে পেরেছেন তিনি। 

আবদুল আউয়াল বলেন, বড় ভাই হারিয়ে যাওয়ার পর বাবা অনেক খোঁজাখুজি করেছেন। কিন্তু কোথাও পাননি। আমি মনে করেছিলাম হয়তো বড় ভাই বেঁচে নেই। বহুদিন পর আজ ভাইকে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। 

আশ্রয়দাতা সিরাজ উদ্দিন মুঠোফোনে জানান, পাবনার ঈশ্বরদী রেল স্টেশনের এক চায়ের দোকানে অসুস্থ মোস্তুফাকে বসে থাকতে দেখেন তিনি। পরে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। চিকিৎসা দিয়ে তাকে সুস্থ করে তিনি নিজ রিকশা গ্যারেজে কাজ দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা