kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭। ৪ মার্চ ২০২১। ১৯ রজব ১৪৪২

করোনায় স্কুল বন্ধ তাই বাবার কাজে ছেলে

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৫:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় স্কুল বন্ধ তাই বাবার কাজে ছেলে

মজিদুল ইসলাম সংসার চালাতে কখনো অন্যের জমিতে কৃষি কাজ আবার কখনো অটোরিকশা চালান। তবে শীত মৌসুম এলেই নেমে পড়েন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার জিনইর গ্রামের রাস্তার পাশে অযত্নে অবহেলায় বেড়ে ওঠা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের কাজে। তিনি ওই গ্রামেরই বাসিন্দা। নানামুখী কাজ করে সংসার চালানো মজিদুলের স্বপ্ন ছেলে-মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করা। কিন্তু করোনায় দীর্ঘ ৯ মাস স্কুল বন্ধ থাকায় সন্তানদের লেখাপড়া নিয়ে হতাশায় তিনি। লেখাপড়া না থাকায় বাবার কাজে সহযোগিতা করছেন ছেলে নিশাত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামীণ রাস্তার ধারে বেড়ে ওঠা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের কাজ করছে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিশাত (১০)। ঝুঁকি নিয়েই ছোট-বড় প্রায় ৫০টি গাছ থেকে দৈনিক রস সংগ্রহ করে। সংগ্রহকরা সেসব রস পরিষ্কার ও বিক্রির জন্য প্রস্তুত করে বাবার কাঁধে তুলে দেয়। তার বাবা কাজের ফাঁকে এসে বিভিন্ন বাজার, পাড়া-মহল্লার অলিতে গলিতে হাঁক ডাক দিয়ে রসগুলো বিক্রি করেন। রস বিক্রির যে আয় হয় তা দিয়ে সন্তানদের ভরণপোষণের কাজে লাগান। 

রবিবার দুপুরে কথা হয় নিশাতের সাথে। এ সময় সে কালের কণ্ঠকে জানায়, আদমদীঘির পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় সাড়ে ৯ মাস ধরে স্কুলে যেতে হয় না। এ কারণে তার বাড়িতে লেখাপড়া করার চাপও নেই। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া ছোট বোন মিম আক্তারের সাথে বাড়িতে আর প্রতিবেশী বন্ধুদের সঙ্গে পাড়া-মহল্লায় খেলাধুলা করে সময় কাটে তার। শীত আসায় এখন বাবার কাজে সহযোগিতা করতে পারছে। ফলে বাবাকে বাইরের কাজ করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না।

নিশাতের বাবা মজিদুল ইসলাম জানান, নানামুখী কাজ করে যে টাকা উপার্জন হয় তা দিয়ে সংসার ভালোই চলে। আমার কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করিয়ে শিক্ষিত করতে পারলেই স্বপ্ন পূরণ হবে। এ জন্য যখন যে কাজ পাই করি। সে সবের ফাঁকে প্রতিবছরই শীত মৌসুমে খেজুর রস সংগ্রহের কাজ করি। এ বছর করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া না করায় তারা আমাকে সাহায্য করছে। তবে স্কুল খোলা থাকলে এসব কাজ কখনোই করতে দিতাম না।

জিনোইর গ্রামের শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন বলেন, করোনার কারণে সব শিক্ষার্থীরা যখন ল্যাপটব ও মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেটে আসক্ত তখন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিশাত বাবার কাজে সহযোগিতা করছে। এ কাজ নিঃসন্দেহে গর্ব করার মতো। তবে করোনায় দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ থাকায় নিশাতের মতো অনেক শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া থেকে ছিটকে পড়তে পারে। এ জন্য অভিভবক ও সচেতন মহলদের সচেতন থাকতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা