kalerkantho

সোমবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭। ১ মার্চ ২০২১। ১৬ রজব ১৪৪২

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষক হয়েও স্বীকৃতি মেলেনি!

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি   

২৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৩:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষক হয়েও স্বীকৃতি মেলেনি!

আব্দুল আউয়াল ওরফে সাত্তার শেখ

'দেশর জন্য চাকরি থেকে পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি। কখন মরে যাবো ঠিক নেই। তবে ভাতা নয় স্বীকৃতি চাই। মনে হয়, মরার পরে স্বীকৃতি পাবো।' কথাগুলো বলছিলেন অবসারপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আব্দুল আউয়াল ওরফে সাত্তার শেখ (৭৭)। তিনি এলাকার যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ করেছেন। তবে দেশ স্বাধীনের ৪৯ বছর পরেও বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি তার।

অবসারপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আব্দুল আউয়াল শেখ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের প্রফেসর পাড়াতে বাস করেন। পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার (আমিনপুর থানা) ভাটিকয়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা তিনি।

জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে আউয়াল শেখের পুলিশের সিপাহী পদে চাকরি হয়। প্রথমে বগুড়া পুলিশ লাইনে তিনি যোগদান করেন। ১৯৭১ সালে আউয়াল শেখ পুলিশ লাইন থেকে পালিয়ে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। যুদ্ধ শেষে আবারো পুলিশে যোগদান করেন তিনি। সর্বশেষ হাতীবান্ধা থানা থেকে চাকরি থেকে অবসর নেন তিনি। ছেলে-মেয়ের এই এলাকায় বিয়ে হওয়ায় বাপ-দাদার ভিটে মাটি ছেড়ে এখানে পড়ে আছেন তিনি।

আব্দুল আউয়াল শেখ বলেন, 'অষ্টম শ্রেণি পাস করে পুলিশে যোগদান করি। ভালোই ছিলাম। যুদ্ধ শুরু হলো। আর তাই পুলিশ লাইন থেকে পালিয়ে পাবনা নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে গেলাম। আর সেখানে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল গনির সহযোগিতার মাধ্যমে গ্রামের যুবকদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করলাম। পুলিশ সদস্য হওয়ায় আমার গুরুত্ব ছিলো। এরপর প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের নিয়ে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি।'

এরমধ্যে বগুড়া আড়িয়া বাজার, পাবনা সদর, নগরবাড়ি, ডাব বাগান, সুজানগরের দুলাই, ত্রিমহোনী ও নাজিরগঞ্জ এলাকা উল্লেখযোগ্য। আমার সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন, মোতাহার হোসেন খলিফা, আব্দুল করিম খন্দকার, তাইজ উদ্দিন, আব্দুল কাদের, আব্দুল রহমান, ডা. ইউসুফ প্রমূখ। এরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু আমি আজও কোনো স্বীকৃতি পাইনি। আমি যুদ্ধ শেষে পুনরায় পুলিশ যোগদান করি। 

তিনি আরো বলেন, 'বিভিন্ন সময় স্বীকৃতি জন্য আবেদন করেছি। আমার সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা মুক্তিযোদ্ধারা আমার পক্ষে প্রত্যায়ন ও সাক্ষ্য দিয়েছেন। তবুও অদৃশ্য কারণে আমি স্বীকৃতি পাইনি।'

আব্দুল আউয়াল শেখের ছেলে প্রভাষক রুহুল আমিন বাবু বলেন, আমি বিভিন্ন সময়ে বাবার মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতির জন্য আবেদন করি। কিন্তু অদৃশ্য কারণে আজও বাবা স্বীকৃতি পাইনি। পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার (আমিনপুর থানা) রাণীনগর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তায়েজ উদ্দন মোল্লা আমার বাবাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রত্যায়ন দিয়েছেন। কিন্তু অজানা কারণে প্রতিবার আবেদন করার পরেও আমার বাবার নাম তালিকায় ওঠে না তা বোধগম্য নয়।

পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার (আমিনপুর থানা) সৈয়দপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম খন্দকার মোবাইল ফোনে বলেন, আব্দুল আউয়াল শেখ মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু জীবিকার তাগিদে নিজ এলাকায় বাইরে থাকায় তার নাম তালিকায়ভুক্ত হয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা