kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭। ৪ মার্চ ২০২১। ১৯ রজব ১৪৪২

ব্রাহ্মণবাড়িয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত হয়নি

আহ্বায়কের একক কর্তৃত্বের অভিযোগ

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৫:১৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত হয়নি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির অধীনস্থ সব উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত কোনো সভায় হয়নি বলে কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছে সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র। ওই সূত্রটি অভিযোগ করেছে, নয় উপজেলা ও পাঁচ পৌরসভার কমিটি ভাঙা হয়েছে জেলা কমিটির আহ্বায়কের একক কর্তৃত্বে। মূলত ৩০ নভেম্বরের সভায় সাংগঠনিক টিম করে এর রিপোর্টের ভিত্তিতে ওই ইউনিটগুলোতে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জিল্লুর রহমানের ২৪ ডিসেম্বর স্বাক্ষর করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জেলা বিএনপির অধীনের সব উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করার কথা জানানো হয়। ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তি সরবরাহ করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ৩০ নভেম্বরের সভার সিদ্ধান্তের আলোকে কমিটিগুলো বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বিলুপ্ত ইউনিটগুলো পরিচালনার জন্য শিগগির উপজেলা ও পৌরসভার সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

১৪ নভেম্বর জেলা বিএনপির নতুন কমিটি গঠন হওয়ার মাত্র দেড় মাসের মাথায় উপজেলা ও পৌরসভার সব কয়টি কমিটি বিলুপ্ত করার কথা জানানো হলো। ওই সময়ের মধ্যে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলের একাধিক নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। জেলার কসবায় এ নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। 

এখন একসঙ্গে অতীব গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি ইউনিট বিলুপ্ত ঘোষণা করায় দলের মধ্যে তীব্র সমালোচনা করা শুরু  হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয়ভাবে সাংগঠনিক কোনো কার্যক্রম ঘোষণা করা হলে ওইসব এলাকায় কে দায়িত্ব পালন করবে, এ নিয়েও আছে আলোচনা। ৩০ নভেম্বর সভায় সিদ্ধান্ত হলে ২৪ ডিসেম্বর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করা ও পরদিন সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো নিয়েও নেতা-কর্মীদের অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। কোনো কমিটি গঠন না করেই একসঙ্গে নয়টি উপজেলা ও পাঁচটি পৌরসভার ইউনিট একসঙ্গে বিলুপ্ত করায় দলটি এখন সাংগঠনিকভাবেও দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন।

বিলুপ্ত ঘোষিত নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘সাংগঠনিক নিয়ম অনুসারে একটা কমিটি বিলুপ্ত করলে অন্তত একটা আহ্বায়ক কমিটি করে দেওয়া উচিত ছিল। এখন শুনেছি আহ্বায়ক কমিটি সাংগঠনিক সফর করে নতুন কমিটি গঠন করবে।’ 

বিলুপ্ত ঘোষিত আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল মুনসুর মিশন বলেন, ‘যে সভার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটাতে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জেলার অনেকেই বলেছেন। আহ্বায়ক কমিটির গঠন বিষয়ে অনেকে আমাদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। এরই মধ্যে কমিটি বিলুপ্ত করার প্রেস বিজ্ঞপ্তির কথা জানতে পেরেছি।’ 

৩০ নভেম্বরের সভায় উপস্থিত জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সদস্য এ বি এম মমিনুল হক শনিবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৩০ নভেম্বরের সভায় সাংগঠনিক টিম করে দেওয়া হয় উপজেলা ও পৌরসভার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন কমিটি বিষয়ে মতামত দেওয়ার জন্য। কমিটি ভাঙার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কিভাবে এ ধরনের প্রেস বিজ্ঞপ্তি আহ্বায়ক দিয়েছেন, সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’

জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সদস্য মো. জহিরুল হক খোকন একই কথা বলেন। তিনি জানান, সভার সিদ্ধান্ত ছাড়া আহ্বায়ক একক কর্তৃত্বেই কমিটি ভেঙেছেন। কিভাবে সেটা করেছেন উনিই ভালো বলতে পারবেন। 

তবে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর পর থেকেই সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জিল্লুর রহমান। সন্ধ্যায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ফোন করলেও পরিবারের লোকজন কল রিসিভ করে তিনি বিশ্রামে আছেন বলে জানান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কালের কণ্ঠর এ প্রতিবেদক ফোন করলে তাঁর মেয়ে পরিচয়দানকারী বলেন, ‘কাজের চাপের কারণে উনি বিশ্রামে আছেন। অনেক ফোন আসছে, যেগুলো আমরাই রিসিভ করছি।’ শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কল করা হলেও তাঁর আরেক মেয়ে ফোন রিসিভ করে একই কথা জানান।

তবে দুপুরের দিকে দলের একাধিক নেতা ও সাংবাদিককে তিনি বলেন, ‘৩০ নভেম্বরের সভায় কমিটি ভাঙার বিষয়ে আমাকে একক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনকে গতিশীল করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বিলুপ্ত ঘোষিত কমিটি গঠন করা হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা