kalerkantho

সোমবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭। ১ মার্চ ২০২১। ১৬ রজব ১৪৪২

অভিযুক্ত যুবক গ্রেপ্তার

বিয়েতে ‘না’, ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৩:৪৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিয়েতে ‘না’, ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ

প্রতীকী ছবি।

বগুড়ার শাজাহানপুরে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই জেলার নন্দীগ্রামে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরের বিরুদ্ধে। রংপুরের পীরগঞ্জের জয়পুর গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণসহ শ্বাসরোধে হত্যার রহস্য উদঘাটন ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে থানা যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছেন এক গৃহবধূ।

শাজাহানপুর উপজেলার ঘটনায় গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হওয়া সাগর (২২) বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কৃঞ্চপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। গতকাল বুধবার দুপুরে তাঁকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। গত শনিবার ঘটনার দিনই শাজাহানপুর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর বাবা। মামলা সূত্রে জানা যায়, আড়িয়া ইউনিয়নের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীটির সঙ্গে দুই মাস আগে সাগরের পরিচয় হয়। এই সূত্র ধরে সাগরের পরিবার তাদের মধ্যে বিয়ের প্রস্তাব দেয় ছাত্রীটির পরিবারকে। কিন্তু ছাত্রীর পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করায় সাগর ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রীটিকে অপহরণ করে ধর্ষণের ভয়ভীতি দেখান। গত শনিবার সকালে সাগর নিজের মোবাইল ফোন থেকে ছাত্রীটিকে ফোন করে বলেন, তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে বগুড়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সে (ছাত্রী) না এলে তিনি আত্মহত্যা করবেন। সরল বিশ্বাসে ছাত্রীটি হাসপাতালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। পথে সাগর ফোন করে বলেন, ‘শাজাহানপুরের বনানী বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়াও, আমার দুলাভাই ও এক বন্ধু গিয়ে তোমাকে নিয়ে আসবে।’ পরে সেখান থেকে ছাত্রীকে সাগরের দুলাভাই ও বন্ধু পরিচয় দিয়ে দুই ব্যক্তি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে রাতে ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করেন সাগর। পরের দিন তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

শ্বশুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বাদলাশন গ্রামে গত বৃহস্পতিবার সকালে ধর্ষণে অভিযুক্ত শ্বশুর (৪৫) ঘটনার পর থেকে পলাতক। গতকাল সকালে ভুক্তভোগী গৃহবধূ নন্দীগ্রাম থানায় শ্বশুরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। গৃহবধূর বাবা বলেন, ‘ঘটনার পর মেয়ের শ্বশুরবাড়ির কিছু প্রভাবশালী লোক বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে।’ নন্দীগ্রাম থানার দায়িত্বরত ডিউটি অফিসার এসআই সুবোধ চন্দ্র বলেন, ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যার রহস্য উদঘাটন

রংপুর সিআইডি কার্যালয়ে গতকাল দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির পুলিশ সুপার মিলু মিয়া জানান, পীরগঞ্জ উপজেলায় সাত বছর আগের ঘটনায় মঙ্গলবার গ্রেপ্তার হওয়া হাসানুর জামান টেক্কা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। টেক্কা পীরগঞ্জের জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা ও ছাত্রীটির আত্মীয়। পুলিশ সুপার বলেন, টেক্কা স্কুলছাত্রীটির সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল তাকে কয়েকবার ধর্ষণ করেন। এতে ছাত্রীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন টেক্কা। এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় মামলা হলে ছয় দফা তদন্ত কর্মকর্তা বদল হওয়ার পরও সুরাহা হয়নি। অবশেষে সিআইডিকে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়। সিআইডি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়, টেক্কাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা

আড়াইহাজার থানায় মঙ্গলবার রাতে করা ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি আজহারুল ইসলাম উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের মারুয়াদী গ্রামের লতিফের ছেলে। আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। আজহারুলের মা দেলোয়ারা বলেন, তাঁর ছেলে বিএনপির রাজনীতি করায় এবং ওই গৃহবধূর কাছে পাওনা টাকা চাওয়ায় এই মামলা দেওয়া হয়েছে।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র রংপুর অফিস এবং শাজাহানপুর, নন্দীগ্রাম ও আড়াইহাজার প্রতিনিধি]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা