kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

'হুজুরের' লাগাতার ধর্ষণের শিকার সেই ‘ধর্ম মেয়েকে’ অবশেষে বাড়িই ছাড়তে হলো!

এলাকার অনেকেই জানান, কতিপয় সালিসকারী অভিযুক্তের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের জরিমানা আদায় করে মেয়ে ও তার পরিবারকে ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছেন

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৩:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'হুজুরের' লাগাতার ধর্ষণের শিকার সেই ‘ধর্ম মেয়েকে’ অবশেষে বাড়িই ছাড়তে হলো!

ধর্ষিতার বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক ছাত্রীকে ‘ধর্ম মেয়ে’ বানিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করছিলেন মাদরাসার শিক্ষক। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে ঘটনার বিচার চাইলে তা প্রকাশ হয়। এ ঘটনা নিয়ে কালের কণ্ঠে একাধিক খবর প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসে র‍্যাব, পুলিশ, ডিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন। কিন্তু এলাকার সালিসকারীদের হস্তক্ষেপে ওই মেয়ে ও তার পরিবার বাড়ি ছেড়ে লাপাত্তা হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর ঘরে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উম্মাহাতুল মোকমেনিন আদর্শ মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক মাওলানা আবুল মনসুর (৫৫)। এলাকায় ‘হুজুর’ বলেই ব্যাপক পরিচিত। ওই হুজুর হচ্ছেন পাশের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের কান্দুলিয়া গ্রামের মো. বছির উদ্দিনের ছেলে। প্রায় দশ বছর আগে তিনি পাশের উচাখিলা বাজারে জমি ক্রয় করে বাসাবাড়ি করেন। বাসার সামনেই গড়ে তোলেন মাদরাসা। কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি একাধিক শিক্ষক রেখে তিনি এখানে কোচিং ব্যবসাও করেন। এলাকার শতাধিক শিক্ষার্থী মাদরাসাটিতে পড়াশোনা করে। জানা যায়, হুজুর আবুল মনসুর এলাকায় দুটি বিয়ে করেছেন। দুই স্ত্রীও একসঙ্গে বসবাস করেন। এ অবস্থায় পাশের একটি গ্রামের কিশোরীকে 'ধর্ম মেয়ে' বানিয়ে ওই বাড়িতে আসা-যাওয়া করেন নিয়মিত। একপর্যায়ে হতদরিদ্র ওই কিশোরীকে পরিবারের কাছে বলেকয়ে নিজ খরচেই মাদরাসায় রেখেই পড়াশোনা করার দায়িত্ব নেন। এরই মধ্যে তার কুমতলব টের পেয়ে কিশোরী তার (হুজুর) হাত থেকে বাঁচতে চলে যায় বাড়িতে। বেশ কয়েক দিন আর মাদরাসায় আসেনি। কিশোরীর মা জানান, তার মেয়ে আর মাদরাসায় যাবে না বলে মন খারাপ করে থাকে। আর কোনো কিছুই বলে না। এ অবস্থায় একদিন হুজুর বাড়িতে এসে অনেক হাদিসের কথা বলে ফের মেয়েকে নিয়ে যায়। মাসখানেক পর মেয়ে আবার বাড়িতে চলে এসে জানায়, বিভিন্ন শপথ করে হুজুর তাকে নিজের স্ত্রীর মতো আচরণ করেন এবং প্রতিবাদ করায় বিয়ে করবে বলে সাদা স্ট্যাম্পেও স্বাক্ষর নেন। 

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানালে গত শুক্রবার কথিত হুজুরকে ডেকে এনে মেয়ের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যানের কাছে মেয়ে হুজুর কর্তৃক  দিনের পর দিন ধর্ষণের ঘটনার বর্ণনা দেয়। ঘটনাটি সালিসে মীমাংসার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব না হওয়ায় ঘটনাটি ব্যাপক প্রচার হয়। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান এ কে এম মোতব্বিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, মেয়ের পরিবারের লোকজন গত শুক্রবার তাঁর কাছে এসে একটি সাদা স্ট্যাম্প দেখায়। স্ট্যাম্পে মেয়ের ও মাদরাসাশিক্ষকের স্বাক্ষর রয়েছে। পরে ওই পরিবারকে থানার আশ্রয় নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু পরদিন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন এলাকায় এসে খোঁজখবর নিলে মেয়ের সন্ধান পায়নি। পরিবারের লোকজন মেয়েকে নিয়ে চলে গেছে। সেই সঙ্গে লাপাত্তা হয়ে গেছেন অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষকও। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার লোকজন জানান, কতিপয় সালিসকারী অভিযুক্তের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের জরিমানা আদায় করে মেয়ে ও তার পরিবারকে ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছেন।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল কাদির মিয়া বলেন, মেয়েটার খোঁজ নিতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। সন্ধান পাওয়ামাত্রই লিখিত অভিযোগ নিয়ে মামলা রেকর্ড করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা