উজানের পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাত কমে আসায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। এতে বন্যাকবলিত ইসলামপুর ও আদমপুর ইউনিয়নে পানি কমতে শুরু করে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ভাটি এলাকায় নতুন করে ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ জুন) রাত থেকে ইসলামপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও আঙিনায় জমে থাকা কাদা এবং ক্ষয়ক্ষতির কারণে দুর্ভোগ এখনো কাটেনি।
অন্যদিকে ভাটি অঞ্চল হওয়ায় উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নে ঢলের পানি প্রবেশ করেছে। এতে গোপীনগর, রাধাগোবিন্দপুর, নয়াবাজার, পতনঊষারসহ ছয়টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক। ফলে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং নৌকাই তাদের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক বন্যায় প্রায় ২০০ হেক্টর আউশ ধান ও আমনের বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
এদিকে বন্যার তীব্র স্রোতে আদমপুর-ইসলামপুর সড়কের কয়েকটি অংশ ভেঙে গেছে। পাশাপাশি অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় ত্রাণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। শুক্রবার মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাজি মুজিবুর রহমান চৌধুরী রহিমপুর ও পতনঊষার এলাকার বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে মুড়ি, চিড়া, গুড়, বিস্কুট ও বিশুদ্ধ পানিসহ শুকনো খাবার বিতরণ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলি আহমদ খান বলেন, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ভাটি অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তিনি পানিবন্দি মানুষের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি ত্রাণ বরাদ্দের দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আছাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রশাসন বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।’





