kalerkantho

রবিবার । ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৫ রজব ১৪৪২

পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হওয়ায় বাঁধ ভাঙা উৎসবে শরীয়তপুরবাসী

শরীয়তপুর প্রতিনিধি:   

১১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৮:৩০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হওয়ায় বাঁধ ভাঙা উৎসবে শরীয়তপুরবাসী

পদ্মা সেতু এক্সপ্রেস ওয়ে জিরো পয়েন্টে উৎসবে মেতেছে শরীয়তপুরবাসী। ছবি: কালের কণ্ঠ

৪১তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে পদ্মার এপার ওপার যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটলো। গতকাল (১০ ডিসেম্বর) দু'পাড়ের ঐতিহাসিক মিলন প্রত্যক্ষ করতে পদ্মার পাড়ে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। কিন্তু করোনার কারণে বাড়তি সতর্কতা ও নিরাপত্তা নিয়েছেন প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পদ্মা সেতুর পুরো দৃশ্যমান হওয়ার পর থেকেই উপস্থিত দর্শনার্থীদের  মধ্যে বিশেষ উৎসব আমেজ বিরাজ করছে। ইতিহাসের অংশ হওয়ার জন্য অনেকেই আসছেন পদ্মায়। পদ্মার দু’পাড়ের এ সেতু বন্ধনকে ঘিরে পদ্মা পাড়ের মানুষগুলো আনন্দে উদ্বেলিত। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের মধ্যে ভালো লাগা কাজ করছে। কারণ এই সেতু চালু হলে এই অঞ্চলের মানুষসহ গোটা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী অধ্যায় রচিত হবে। জাতীয় অর্থনীতির চাকায় গতি বাড়বে।

গতকাল বিকাল থেকেই দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসব আর আমেজ দেখা দিযেছে, তারা হাতে বেলুন আর নানা রঙ্গের পোষাক পরে এখানে উপস্থিত হয়েছেন। সন্ধায় রাজনৈতিক নেতা কর্মী ও জনতা বেলুন উড়ানো মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও আতশবাজির মধ্য দিয়ে আনন্দ উল্লাস করেছে শরীয়তপুরের পদ্মা সেতু জাজিরা প্রান্তের পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেস ওয়ে জিরো পয়েন্টে।

শরীয়তপুর-১আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু রঙ আয়োজনে স্থানীয় মহব্বত খান ও বাবুল আকনের সার্বিক তত্বাবধানে এই মোমবাতি প্রজ্জলন আতশবাজি ও বেলুন উড়ানো উৎসব আয়োজিত হয়েছে। স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে ৪২ টি পিলারের উপরে ৪১ টি স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতু সম্পূর্ণ দৃশ্যমান হওয়ায় তাদের এই উল্লাস। শরীয়তপুর বাসীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে পদ্মা সেতু বড় ভূমিকা রাখবে এমনটি আশা করছেন আনন্দে উল্লসিত সর্বস্তরের মানুষ।

আনন্দ উল্লাসে যোগ দেন শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা। স্বপ্ন বাস্তবায়ন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান উপস্থিত সকলে।

শরীয়তপুর ডামুড্যা থেকে পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যান বসানো দেখতে এসেছেন স্বপ্ন। স্প্যান বসানো দেখতে যাওয়ার জন্য তিনি অপেক্ষা করছিলেন। তিনি জানান, সকাল সোয়া ১০টার দিকে ‘নিরাপত্তার জন্য কাছে যেতে পারছিলেন না। কিন্তু নদীর তীরে দাঁড়িয়েও যে আনন্দ লাগছে, তা বোঝাতে পারব না। আমরা অপেক্ষায় আছি সেতু ব্যবহার করে কবে ঢাকা থেকে বাড়ি পৌঁছাব।’

জাজিরা উপজেলার স্বেচ্ছা সেবক লীগের সভাপতি মহব্বত খান জানান, 'পদ্মা সেতু শুধু ৪১ তম স্প্যান ওঠার পর পুরো সেতু দৃশ্যমান হলো। এতে শুধু শরীয়তপুরবাসী খুশি না, পুরা দক্ষিণবঙ্গের সবাই খুশি। পদ্মা নদী উত্তাল থাকায় অনেক সময় পারাপার অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে অনেক সময় রোগী মারা যায়, সেতু চালু হলে আর সেই দুর্ভোগ আমাদের থাকবে না। দেশ স্বাধীন করায় আমরা যেমন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের কাছে ঋণী, তেমনিভাবে আজ পদ্মা সেতু পুরো দৃশ্যমান হওয়াতে জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে চীর ঋণী হয়ে থাকলো শরীয়তপুরসহ দক্ষিণ বঙ্গের মানুষ।

শরীয়তপুর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হোসেন মুন্সি বলেন, ‘যেদিন পদ্মার বুকে প্রথম স্প্যান বসেছিল, সেদিন সেটার সাক্ষী হয়েছিলাম। সেদিন খুবই আশাবাদী ছিলাম আমরা পারব, বিজয় আমাদের হবেই। আজ শেষ স্প্যান বসেছে। দুই প্রান্ত যুক্ত হয়েছে, বিজয়ের মাসে এমন স্বপ্ন বিজয় হবে ভাবতে পারিনি।’

জাজিরা উপজেলার চেয়ারম্যান মোবারক আলী সিকদার বলেন, পদ্মা সেতু সম্পূর্ণ দৃশ্যমান হয়েছে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শরীয়তপুরের মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সহ এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। এ অঞ্চলের মানুষ জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে চীর ঋণী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা