kalerkantho

সোমবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭। ১ মার্চ ২০২১। ১৬ রজব ১৪৪২

অভিমানে প্রতিবন্ধীর আত্মহত্যা

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ২১:৩৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অভিমানে প্রতিবন্ধীর আত্মহত্যা

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মা-বাবার বকুনিতে অভিমান করে মানসিক প্রতিবন্ধী সিমা খাতুন (১২) নামে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। সোমবার দুপুর ৩টার দিকে নিজ ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে সে আত্মহত্যা করে। সিমা উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের কৃষক ইউসুফ আলীর মেয়ে এবং চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। 

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সিমা শিশুকাল থেকেই মানসিক প্রতিবন্ধী। যে কারণে পরিবারের অন্যদের সাথে প্রায়ই সে অস্বাভাবিক আচরণ করে। এমনকি সীমার একমাত্র ভাইও মানসিক প্রতিবন্ধী। দুজন মানসিক প্রতিবন্ধী সন্তানের কারণে পরিবারের মধ্যে বেশির ভাগ সময় অশান্তি লেগেই থাকত। মানসিক প্রতিবন্ধী সন্তানেরা মাঝে মাঝে বেশি অস্বাভাবিক আচরণ করলে নিরক্ষর বাবা-মা মারধর করে শাসন করত। একপর্যায়ে সোমবার সকালে অস্বাভাবিক আচরণ করায় সিমাকে শাসন করে তার বাবা-মা। পরে নিজ ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে।

এই নিয়ে উপজেলায় পরপর দুই দিনে দুই স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটল। এর আগে গত রবিবার টিভি দেখতে না দেওয়ায় উপজেলায় দিলপাশার ইউনিয়নের দিলপাশার গ্রামের সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রী সাথী শীল গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে।

চাঁদপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, ওই পরিবারের সকলেই মানসিকভাবে অসুস্থ। এতে ইউসুফ আলীর সন্তান দুটি মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারের মধ্যে ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে মা-বাবার বকুনি খেয়ে স্কুলছাত্রী সিমা আত্মহত্যা করে।

ভাঙ্গুড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত স্কুলছাত্রী মানসিক প্রতিবন্ধী ছিল। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হলে ওই স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার পাবনা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা