kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

মারিয়ার জন্য ওষুধ আনতে গিয়ে...

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ২১:২০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মারিয়ার জন্য ওষুধ আনতে গিয়ে...

মারিয়া আক্তার। বয়স দুই বছর। শীত বাড়ার সাথে সাথে সর্দিসহ অসুস্থ হয়ে পড়ে মারিয়া। বাবা আবু তাহের রাজমিস্ত্রির কাজে ব্যস্ত থাকায় মেয়েকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সময় না পাওয়ায় মা সামিরুন বেগম ও চাচি হালিমা বেগম তাকে নিয়ে গিয়েছিলেন নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা বাজারে অবস্থিত একটি ফার্মেসিতে। সেখানে পল্লী চিকিৎসককে দেখিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে সোমবার বিকেলে একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে তারা ফিরছিলেন বাড়িতে। কিন্তু এই ফেরা যে তাদের শেষ বিদায় তা কি তারা জানতেন?

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আটজনের সঙ্গে তাদের তিনজনের মৃত্যু হয়। সোমবার বিকেলে তাদের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহগুলো দেখে উপস্থিত জনতার চোখে দেখা দেয় জল। সন্ধ্যায় যখন নবীগঞ্জ উপজেলার মুড়াউড়া গ্রামের পাহাড়ে অবস্থিত আবু তাহেরের বাড়িতে একসাথে তিনটি মরদেহ যায় তখন সেখানের সৃষ্টি হয় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। মারিয়ার বেঁচে থাকা একমাত্র বোন কান্নায় বার বার মুর্ছা যাচ্ছিল। স্ত্রী ও সন্তান হারিয়ে আবু তাহের পাগল প্রায়। তার ভাই আবু শ্যামাও পেশায় রাজমিস্ত্রি। সে-ও স্ত্রী হালিমা বেগমের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে।

আশপাশের লোকজন এসে তাদেরকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। রাতেই তিনটি মরদেহ দাফন করার চেষ্টা চলছে। মামলা দায়ের করবে না মর্মে আবেদন করলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহগুলো গ্রহণ করে দরিদ্র এই পরিবার। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা