kalerkantho

রবিবার। ২২ ফাল্গুন ১৪২৭। ৭ মার্চ ২০২১। ২২ রজব ১৪৪২

চাটমোহরে বাউত উৎসবে মাছ শিকারীদের ঢল

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি   

৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ২১:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাটমোহরে বাউত উৎসবে মাছ শিকারীদের ঢল

বাউত উৎসব গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী একটি সামাজিক উৎসব। বর্ষার শেষে বিল অঞ্চলে পানি কমার পরে স্থানীয় সৌখিন মাছ শিকারীরা একটি নির্দিষ্ট দিন করে বিলে নামে মাছ ধরার জন্য। দিনের প্রথম প্রহরে সূর্য উঠার আগে প্রস্তুতি গ্রহণ করে তারা। বিল পারের কয়েক হাজার মানুষসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক আগত মানুষ যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে মাছ শিকারের জন্য বিলের পানিতে নেমে পরে।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়নের ডিকসির বিলে শনিবার ছিল বাউত উৎসব। এই বাউত উৎসবকে ঘিরে চলে নানা আয়োজন। ভোর থেকে মাছ শিকার শুরু করে চলে দুপুর পর্যন্ত। উন্মুক্ত বিলে যার যেমন খুশি তাই দিয়ে শিকার করে দেশি বিভিন্ন প্রকারের মাছ। শীতের হিমেল হাওয়া আর কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশে বছরের এই সময়ে বিশেষ করে অগ্রাহায়ণ মাসের শেষ দিকে আর পৌষ মাসের প্রথম দিকে বিলে এই বাউত উৎসব হয়ে থাকে।

সরেজমিন শনিবার ভোরে ডিকসির বিলে গিয়ে দেখা যায়, সূর্য উদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছ ধরার জন্য নানা বয়সের শত শত মানুষ হোন্ডা, ভ্যানগাড়ি, নসিমন, করিমন, সিএনজি যোগে দূর-দূরান্ত থেকে বিল পাড়ে এসে সমাবেত হয়। ছোট বড় আবাল বৃদ্ধ সকলেই অংশগ্রহণ করে বাউত এর মাছ শিকারে। সামবেত মৎস্য শিকারীরা একটু পর পরেই দিচ্ছে উচ্চ শব্দে ধ্বণি। এরপর পরেই শীতল কনকনে ঠান্ডা পানিতে নেমে পড়ছে মাছ শিকার করতে। সেই কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত চলে মৎস্য শিকারীদের মাছ শিকার।

বাউত উৎসবে আসা মাছ শিকারী শাহীন আলমের সাথে তিনি বলেন, মাছ শিকার আমার নেশা, পেশা নয়। প্রতি বছর জেলার যে সকল প্রান্তে বিলে বাউত উৎসব হয় সেখানে মাছ ধরতে যাই। বেশ ভালো লাগে মাছ ধরতে। বাড়ি থেকে ফজরের আযান দেয়ার পরে বের হয়েছি। মাছ ধরে তার পরে বাড়ি যোবো। ভাগ্য সহায় হলে বিলের সবচাইতে বড় মাছ আমি পেতে পারি।

স্থানীয় মাছ শিকারী সবুজ আলী বলেন, বিলে আগের মতো আর মাছ পাওয়া যায় না। ছোট বেলাতে বাবার সাথে বাউতে মাছ ধরতে আসতাম। অনেক মাছ পাওয়া যেতো তখন। আর এখন এতো মানুষ তাই মাছ পাওয়া যায় খুবই কম। তবে এবার বর্ষার সময় পানি হয়েছে অনেক বাজারে মাছ ও পাওয়া গেছে বেশ ভালই। আশা করা যায় সব ধরনের মাছ ধরা পরবে। এই আনন্দ আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে দেয়।

বাউত উৎসব নিয়ে কথা হয় চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈকত ইসলামের সাথে তিনি বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের অংশ এই বাউত উৎসব। আমার উপজেলাসহ পাশের আরো তিনটি উপজেলার বেশ কিছু অংশ চলনবিল এলাকা। এই বিলে প্রচুর পরিমাণে দেশি মাছ পাওয়া যায়। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে রাহুল বিল, ডিকসির বিলে মাছ ধরার উৎসব হয়। বৈশাখী উৎসবের মতো প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট দিনে মাছ ধরার উৎসব পালনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন থেকে উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। তবে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এসকল অঞ্চলের মাছ শিকারের স্থান গুলোতে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নিলে অনেক ভাল কিছু হবে বলেই মনে করি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা