kalerkantho

সোমবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭। ১ মার্চ ২০২১। ১৬ রজব ১৪৪২

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : নিজেই এখন রোগী

জামাল হোসেন, বেনাপোল   

৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৬:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : নিজেই এখন রোগী

যশোরের শার্শা উপজেলার প্রায় ৩ লাখ জনসংখ্যার এক মাত্র ৫০ শষ্যার সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি (নাভারণ হাসপাতাল) নিজেই স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে। পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গোটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ময়লা আর্বজনা। দুর্গন্ধে রোগীরা টিকতে পারছে না স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ময়লা আবর্জনার পাশে রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তাররা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘নো মাস্ক, নো এন্ট্রি’ লেখা থাকলেও ডাক্তার ও কর্মচারিরা মাস্ক বাদে রোগীদের সেবা দিচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক মাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি বছরের পর বছর পড়ে থাকে অচল হয়ে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির যেখানে সেখানে পড়ে আছে রোগীর ব্যবহারিত গজ ব্যান্ডেজসহ অন্যান্য উপকরণ। জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে যথাযথ পরিসেবা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত কর্মচারী এবং রোগীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা না থাকার কারণে করোনা ঝুঁকির মধ্যে মাস্কবিহীন অবস্থায় চলছে সকল কার্যক্রম। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে জুনিয়ার কনসালটেন্ট ১০টি পদের মধ্যে সব কয়টি শূন্য। মেডিকেল অফিসারের ১০টির মধ্যে আছে মাত্র ৩টি। ফলে সকাল ৯টায় আসা রোগী দুপুর পর্যন্ত পাচ্ছে না কোনো সেবা। ১০ বছর ধরে এক মাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি চলার পথে মুখ থুবড়ে পড়ে। এতে প্রতিনিয়ত রোগীদেরকে পড়তে হয় বিপাকে। ভালো চিকিৎসা দিতে না পারায় ভর্তি হওয়া প্রায় রোগীকে যশোর ২৫০ শষ্যা হাসপাতালে রেফার্ড করে দেওয়া হয়।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসার রবিউল ইসলাম বলেন, এই হাসপাতালে এত পরিমান নোংরা যে সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। যেখানে সেখানে ময়লা আর্বজনা ফেলে রাখছে এবং সেখানেই রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছে ডাক্তারা। এই হাসপাতালে আমরা রোগী এনে অসুস্থ হয়ে পড়ছি। শার্শা উপজেলায় একটি হাসপাতাল কিন্তু অসুস্থ রোগী এবং আমরা যারা রোগীর সাথে আসি দুর্গন্ধের কারণে আমরাও অসুস্থ হয়ে পড়ি। আর রোগী সুস্থ হওয়া যেমন তেমন অসুস্থ হয়ে পড়ে বেশি। আমরা চাই একটু হাসপাতালটি সুন্দর হোক।

অসুস্থ মাকে নিয়ে আসা টুম্পা খাতুন বলেন, সকাল ৯টার সময় রোগী নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। সাড়ে ১২টা বাজতে গেছে। এখনও আমার রোগী দেখলো না। সেবা নিতে এসে আমরা সেবা পাচ্ছি না।

এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক সাদেক হোসেন জানান, একটি অ্যাম্বুলেন্স আছে এখানে সেটার একমাত্র চালক আমি। অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় ১২ বছর এখানে চলছে। এটির অবস্থা খুবই খারাপ। একটা মুমূর্ষু রোগী নিয়ে দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানো যায় না। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যদি নতুন একটা অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে এই এলাকার মানুষ জরুরি সার্ভিস পাবে। এখন থেকে মুমুর্ষু রোগী যশোর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে দ্রুত নিয়ে যাওয়া যাবে। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইউসুফ আলী বলেন, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী নিয়োগ বন্ধ আছে। এই মুহুর্তে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী প্রয়োজন। যার ফলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নোংরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়ার কনসালটেন্ট ও মেডিক্যাল অফিসার থাকলে আরো বেশি সেবা প্রদান করা যেত। সকল অফিসার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকলে জনগণ সকল সেবা পাবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা