kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বীর বিক্রমের জন্মভূমিতে ছুটে এলেন সাংসদ ও অতিরিক্ত ডিআইজি

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি   

৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বীর বিক্রমের জন্মভূমিতে ছুটে এলেন সাংসদ ও অতিরিক্ত ডিআইজি

মুক্তিযুদ্ধে 'বীর বিক্রম' খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশের কনস্টেবল শহীদ আবদুল মান্নানের জন্মভূমিতে এবার ছুটে এলেন স্থানীয় সাংসদ এবাদুল করিম বুলবুল ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন। 

শনিবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে এঁরা একাত্তুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ বীর বিক্রম আবদুল মান্নানের জন্মভূমি পরিদর্শন করেন। এসময় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান, পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির, মেয়র অ্যাডভোকেট শিব শংকর দাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) মকবুল হোসেন, ইউএনও একরামুল সিদ্দিক, ওসি আমিনুর রশীদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

জানা গেছে,  ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৫ অক্টোবর পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধরত অবস্থায় তৎকালীন পুলিশের কনস্টেবল আবদুল মান্নান চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার আবুরখিল গ্রামে শাহাদাত বরণ করেন। এরপর সেখানেই এক গহিন অরণ্যে তাঁকে দাফন করা হয়। দেশ স্বাধীনের পর মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতস্বরূপ তিনি 'বীর বিক্রম' খেতাব লাভ করেন।

এরপর গত ৫০ বছরেও তাঁর কবর চট্টগ্রামের রাউজান থেকে তাঁর নিজ জন্মভূমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের নোয়াগ্রামে ফিরিয়ে আনার কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ অবস্থায় সম্প্রতি নবীনগর অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক, লেখক এমএসকে মাহাবুব বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেন। তাকে সহায়তা করেন নোয়াফের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবৃত্তিশিল্পী প্রদীপ আচার্য ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, লেখক মাহাবুব মোর্শেদ।

এমএসকে মাহাবুব জানান, বীরবিক্রমের কবর স্থানান্তর করার  এই মহৎ ও ঐতিহাসিক কাজের সঙ্গে শুরু থেকে স্থানীয় সাংসদ এবাদুল করিম বুলবুল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডিজি (প্রশাসন) খলিলুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের অধিবাসী পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন যুক্ত থেকে নানাভাবে সহায়তা প্রদান করায় ৫০ বছর পর অবশেষে কবরটি চট্টগ্রাম থেকে নবীনগরে আনার সম্প্রতি অনুমোদন দেয় সরকার।

এ অবস্থায় বীর এই মুক্তিযোদ্ধার কবরটি তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নবীনগরের নোয়াগ্রামের কোথায় স্থানান্তর করা হবে, সেটি সরজমিনে দেখতে চট্টগ্রাম থেকে আজ ছুটে আসেন অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন ও ঢাকা থেকে সাংসদ এবাদুল করিমসহ সংশ্লিষ্টরা।

তবে গত ৯ নভেম্বর সরকারের অনুমোদন পাওয়ার পর আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে বীর বিক্রমের কবরটিকে এলাকাবাসীর স্বাগত জানানোর ইচ্ছে থাকলেও, কবরটি হয়তো বিজয় দিবসের আগে আর স্থানান্তর হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান বীর বিক্রমের কবর স্থানান্তরের ঐতিহাসিক এ ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যে কালের কণ্ঠে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা