kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কসবা ও আখাউড়ায় প্রার্থী বাছাইয়ে ভোটের আগে ভোটে তৃণমূলের চমক!

দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ২০:৫১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা ও আখাউড়া পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি। তবে একটু আগেভাবেই দলের প্রার্থিতার বিষয়টি গুছিয়ে রাখছে আওয়ামী লীগ। ওই দুটি পৌরসভাতেই প্রার্থীর প্যানেল বাছাইয়ে শুক্রবার ভোটের আয়োজন করা হয়। আর প্রার্থীর প্যানেল বাছাইয়ে কসবাতে বেশ চমক সৃষ্টি হয়। অপ্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে যান খুব বেশি আলোচনায় না থাকা এক প্রার্থী। অন্যদিকে আখাউড়াতে প্রত্যাশিতভাবে বর্তমান মেয়র এগিয়ে থাকলেও আরেকজন খুবই কাছাকাছি ছিলেন।

এদিকে প্রার্থী বাছাইয়ের পৃথক দুই আয়োজনেই ঢাকা থেকে ভার্চুয়্যালি যুক্ত হন কসবা-আখাউড়া আসনের সংসদ সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এ সময় তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে বাছাই হয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে হবে। যাকে দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়া সম্ভব হবে তাকে জয়ী করতে হবে।

তৃণমূলের নেতারাও আইনমন্ত্রীর প্রতি আস্থার কথা জানান দেন। আইনমন্ত্রী যেভাবে দিক নির্দেশনা দেবেন সেভাবেই দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন বলে দলের নেতা-কর্মীরা প্রার্থী প্যানেল বাছাইয়ের আগে নিজেরা অঙ্গীকার করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কসবা ও আখাউড়ায় প্রার্থী বাছাইয়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকদের মতামত নেওয়ার আয়োজন করা হয়। পরে সেটি ব্যালটের মাধ্যমে ভোটে রূপ নেয়। পৌর এলাকার নয়টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সম্পাদক, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক এতে ভোট প্রয়োগ করেন।

একটি বিশ্বস্থ সূত্র জানায়, কসবায় ২১ ভোটের মধ্যে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন জামিল সর্বোচ্চ ১৫ ভোট পান। এ ছাড়া মাহবুবুর রহমান সরকার পান ১৪ ভোট। নির্বাচনের সর্বাধিক আলোচিত দুই প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো. এমরান উদ্দিন জুয়েল ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এম এ আজিজ পান ১৩টি করে ভোট। নিয়ম অনুসারে তিনজনের প্রার্থী প্যানেল তৈরি করে কেন্দ্রে পাঠানো কথা।

এদিকে আখাউড়ায় ২০টি ভোটের সব কয়টি ভোটই পান বর্তমান মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. তাকজিল খলিফা কাজল। ভোট শুরুর আগে তৃণমূলের সবাই মেয়রকে মৌখিকভাবে সমর্থন দিয়ে অন্য দুইজনকে প্যানেল ভোটে করার অনুরোধ করেন। তবে তাকজিল খলিফা কাজল ভোটারদের প্রতি সম্মান রেখে ব্যালটের মাধ্যমেই ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন। ভোটে মোবারক হোসেন রতন ১৯ ও মোহাম্মদ আলী ১৩ ভোট পান। মোবারক হোসেন রতন ১৯ ভোট পেয়ে চমকে দেন।

তবে জেলা আওয়ামী লীগের বিশ্বস্থ একটি সূত্র জানায়, তৃণমূলের ভোটের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলার আরো ছয়জনের মতামত প্রয়োগ কেন্দ্রে তিনজন মেয়র প্রার্থীর প্যানেল তৈরি করে পাঠানো হবে। এক্ষেত্রে কসবার গিয়াস উদ্দিন জামিল তৃণমূলে এগিয়ে থেকেও ছিটকে পড়তে পারেন।

সূত্রটি জানায়, গিয়াস উদ্দিন জামিল মূলত দুই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী এমরান উদ্দিন ও এম এ আজিজের বিরোধীদের সঙ্গে ‘আঁতাত’ করে ভোট টেনে নেন। যে কারণে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ তৃণমূলের ওই সিদ্ধান্তের উপর আস্থা রাখতে পারছেন না।

ভোটের আগে ভোটের দুইটি আয়োজনেই উপস্থিত থাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা তৃণমূলের মতামত নিতে গিয়ে সবার সঙ্গে পরামর্শ করে গোপনে নিয়েছি। কিন্তু আমরা কোনো পৌরসভায় কে কত ভোট পেয়েছে সে বিষয়ে কোনো ধরণের ঘোষণা দেইনি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা করে তৃণমূলের মতামতের উপর ভিত্তিসহ নানা দিক বিবেচনায় নিয়ে তিনজন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর প্যানেল তৈরি করে কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ডাকা হয়েছে। ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পৌর আওয়ামী লীগের কমিটি ও ১২ ওয়ার্ডের ২৪ জন সভাপতি ও সম্পাদকের মতামত নেওয়া হবে প্যানেল বাছাইয়ে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র পদে মনোনয়ন চান ২০ জন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা