kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

একুশ বছরেও ভর্তুকি পায়নি হাবিপ্রবির কোনো হল

হাবিপ্রবি প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ২০:৩৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



একুশ বছরেও ভর্তুকি পায়নি হাবিপ্রবির কোনো হল

গত একুশ বছরে পাঁচজন উপাচার্যের রদবদল হলেও কোনো প্রকার ভর্তুকি পায়নি দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) কোনো আবাসিক হল। সময়ের সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট কমার কথা থাকলেও সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় নানা সমস্যায় জর্জরিত হাবিপ্রবির প্রত্যেকটি আবাসিক হল। হল সমূহের নিজেশ্ব অর্থ না থাকায় গত তিন বছরে একবারও হয়নি কেন্দ্রীয় হল ফেস্ট ও কেন্দ্রীয় ক্রিড়া প্রতিযোগিতা। ক্যাম্পাসের সর্ববৃহৎ অনুষ্ঠান হল ফেস্ট না হওয়ায় বিভিন্ন সময় আক্ষেপ করেছেন হাবিপ্রবিতে অধ্যয়নরত বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।

কেন্দ্রীয়ভাবে হলে ভর্তুকি না পাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে হাবিপ্রবির সর্ববৃহৎ হল ডরমেটরি-২ হালের হল সুপার অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রব্বানী জানান, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাবিপ্রবি। এতে করে দেখা যাচ্ছে কলেজ আমলে যেভাবে হাবিপ্রবির হল সমূহ চলছিলো এখনো সেভাবেই চলছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ভর্তুকি পেলেও আমাদের হলসমূহ পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছে এদিক দিয়ে। এতে করে শিক্ষার্থীদের অনেক টাকা ব্যয় করে ক্যান্টিনে খেতে হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তুকি পেলে শিক্ষার্থীদের খাবারের দাম অনেক কম পড়তো। নিম্নবিত্ত কিংবা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীরা এদিক দিয়ে অনেক উপকৃত হতে পারতো! তবে এ আইন পরিবর্তন করতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ইউজিসি সহায়তা নিয়ে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে পরিবর্তন করে আনতে হবে। আমার জানা মতে ইতিমধ্যে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের গেজেট জাতীয় সংসদ থেকে পরিবর্তন করে এনেছে।

এদিকে তাজউদ্দিন আহমেদ হলের ডাইনিং এর পরিচালক মো. মোজাহার বলেন, সময়ের সাথে সাথে নতুন নতুন হল সুপার আসে আর পুরাতনরা বিদায় নেয় কিন্তু আমরা বহুবার বলার পরেও ১টি টাকাও ভর্তুকি পাইনি ক্যান্টিন কিংবা ডাইনিং বাবদ। দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তুকি বরাদ্দ পেলেও কেন জানি হাবিপ্রবিতে তা দেওয়া হয় না। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমরাও চাই হলে যাতে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তুকি দেওয়া হয়।

হলে সমূহতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিপ্রবির কোষাধক্ষ্য অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদার বলেন, আমি প্রকৃতপক্ষে হলে কি প্রক্রিয়া অবলম্বন করে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় তা সঠিক জানি না। আমি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে দেখবো তারা কিভাবে ভর্তুকি দেয়। তবে ইউজিসি থেকে নির্দেশনা এসেছে আগামী ২০৩০ সালের মাঝেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজেস্ব অর্থায়ন বাড়াতে হবে। যদিও হাবিপ্রবির তেমন বড় কোনো আয়ের উৎস নেই।

এদিকে শেখ রাসেল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. মাসুদ রানা বলেন, হাবিপ্রবিতে এগারো হাজারের বেশি শিক্ষার্থী লেখাপড়া করলেও প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থীর জন্য নেই ক্যাম্পাসে আবাসন ব্যবস্থা। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হল দেশের সকল ছোট বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ভর্তুকির টাকা বরাদ্দ পেলেও আমরা প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে এ সুবিধাটি থেকে।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু. আবুল কাসেমের সাথে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রত্যেকটি হলে অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হলেও তিনিও উক্ত বিষয়ের কোনো সদত্তোর দিতে পারেননি।

পক্ষান্তরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হল সুপারদের সাথে অর্থ বরাদ্দের বিষয় নিয়ে মতামত জানতে চাওয়া হলে প্রত্যেকেই কেন্দ্রীয়ভাবে অর্থ বরাদ্দ চান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উল্লেখ্য, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে হল প্রধানকে 'হল প্রভোস্ট' বলা হলেও হাবিপ্রবিতে 'হল সুপার' বলা হয়। যা হাবিপ্রবির কলেজ পর্যায় থেকেই এই নিয়ম চলে আসছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা