kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

নান্দাইল থেকে আল্লাহর দলের সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার

‘আমার ছেড়ারে কেলা জঙ্গি বানাইলো, আমি হের বিচার চাই’

ময়মনসিংহ (আঞ্চলিক) প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৬:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘আমার ছেড়ারে কেলা জঙ্গি বানাইলো, আমি হের বিচার চাই’

‘আমার ছেড়া তো কলেজে পড়ে আর প্রাইভেট পড়াইয়া সংসার চালাইতো। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি জানি না। অহন র‍্যাবে ধইর্যা নেওয়ার পরে হুনি হে ভুলে জঙ্গি অইছে। আমার এই অবুঝ ছেড়ারে (ছেলে) কেলা জঙ্গি বানাইলো। আমি হেরার  বিচার চাই।’ গত বুধবার হঠাৎ র‍্যাব-১৪ ছেলেকে ধরে নেওয়ার পর মা তহুরা বেগম ছেলে জঙ্গি গ্রুপের সাথে জড়িত জানতে পেরে কিংকর্তব্যবিমূড় হয়ে এ কথাগুলো বলেন।

তহুরা বেগম ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়নের পূর্ব দরিল্লা গ্রামের মৃত দোলোয়ার হোসেন হাদীস মিয়ার স্ত্রী। তার তিন মেয়ে ও দুই ছেলে। স্বামী দিনমজুরী করে সংসার চালাতেন। গত দুই বছর আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি। এরপর থেকে কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজে পড়ুয়া ছেলে হুমায়ন কবির ইমন (২৩) ইন্টারনেটে কাজ করে ও প্রাইভেট পড়িয়ে মা এক বোন ও এক ভাইকে নিয়ে সংসার চালাতেন। দিন দিন আয় বৃদ্ধি হতে থাকলে সংসারের মোড় ঘুরতে থাকে। কিন্তু হঠাৎ গত তিন দিন আগে র‍্যাবের হাতে ইমন ধরা পড়লে জানা যায় ইমন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন 'আল্লার দল’ এর একজন সক্রিয় সদস্য। শুধু সদস্যই নন, এই অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডারের পদ তিনি পেয়েছেন। 

এ সব বিষয়ে তার মা তহুরা বেগম আরও জানান, বাড়ি থেকে কিশোরগঞ্জের দূরত্ব ১২-১৪ কিলোমিটার। তারপরও মেসে থেকে পড়াশোনার পাশপাশি প্রাইভেট পড়াতেন। তার স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসারের হাল ধরে ছেলে ইমন। ভালোভাবেই চলছিল তার সংসার। কীভাবে আয় রোজাগার করতো ছেলে জানতে চাইলে তহুরা বলেন, 'হে তো কইতো অহন নাকি তার একটা চাকরি অইছে। কি চাকরি হে কইতো না। কইদিন আগে আমরার সবার আইডি কার্ড ও ছবি নিছে। জিগাইলে কইতো কাম আছে'।

র‍্যাব-১৪ এর উপ পরিচালক কম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বিএন এম শোভন খান জানান, তাদের কাছে তথ্য ছিল এই ইমন ২০১১ সাল থেকেই জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িত হয়ে সদস্য বৃদ্ধির কার্যক্রম করছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়ার পর ইমন তাদের হেফাজতে থেকে স্বীকারও করেছেন 'আল্লাহর দল' এর সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করে কিশোরগঞ্জ এলাকায় উক্ত সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থেকে কাজকর্ম করে যাচ্ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরো জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত এই জঙ্গি সংগঠনের প্রধান সংগঠক আব্দুল মতিন মেহেদী মতিনুল ইসলামের চিন্তা-ভাবনা ও মতাদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে উক্ত সংগঠনের সমর্থক এবং সক্রিয় সদস্য হয়ে ওঠে। উক্ত ব্যক্তি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের গোপন বৈঠকে নিয়মিত মিলিত হতেন। উগ্রবাদ কায়েম করার জন্য বিভিন্ন কৌশলে কাজ করতেন এবং সংগঠনের জন্য দাওয়াতের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ করতেন। এভাবে সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতেন আব্দুল মতিন মেহেদী মতিনুল ইসলাম। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা