kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ মাঘ ১৪২৭। ২৬ জানুয়ারি ২০২১। ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বারহাট্টার মরাবিষনাই জলমহাল

'কাল আবার আইব বইল্যা গেছে', মাছ লুটে নেয়ার হুমকিতে আতঙ্কে জেলেরা

বারহাট্টা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি    

৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ১২:৪৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'কাল আবার আইব বইল্যা গেছে', মাছ লুটে নেয়ার হুমকিতে আতঙ্কে জেলেরা

মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন বহিরাগতরা

বহিরাগত মাছশিকারীরা আগামী কাল (শনিবার) নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের মরাবিষনাই জলমহালের মাছ জোর করে ধরে নেয়ার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে জলমহালের ইজারাদার, স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্যজীবীদের মাঝে এক প্রকার আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।  সাহায্যের জন্য তারা প্রশাসন ও পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। 

জানা যায়, গত শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) গভীররাতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পলো ও জালসহ মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে হাজার হাজার লোক মরাবিষনাই এলাকায় অবস্থান নেয়। তারা শনিবার ভোরে জোরপূর্বক জলমহালে নামেন এবং লাখ লাখ টাকার মাছ শিকার করেন। যাবার সময় তারা শনিবারে আবার আসবে বলে এলাকার মৎষ্যজীবী-ইজারাদারদের হুমকি দিয়ে যান। 

এলাকার ডেমুরা গ্রামের কামাল মিয়া তালুকদার বলেন, গত শনিবার (২৮ নভেম্বর) দিন দূর-দূরান্ত থেকে এলাকার দুই-তিন হাজার লোক মরাবিষনাই জলমহালে জোরপূর্বক মাছ ধরেন। জলমহালটি স্থানীয় মৎস্যজীবীদের ইজারা নেয়া।

ডেমুরা মৎস্যজীবী সবমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্মল বিশ্বাস বলেন, আমরা মরাবিষনাই জলমহাল সরকারের কাছ থাইক্যা লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়া ইজারা নিছি। শনিবার হাজার হাজার বহিরাগত লোক ৪-৫ লক্ষ টাকার মাছ লুটপাট কইর্যা লইয়া গেছে। আগামী শনিবার (৫ ডিসেম্বর) তারা আবার আইব বইল্যা হুমকি দিয়া গেছে। আতংকের মাঝে আছি। আমরা সমিতির লোকজনের পথে বসার অবস্থা অইছে। মাছ রক্ষার জন্য নেত্রকোণার ডিসি ও এসপি স্যারের কাছে আবেদন জানাইছি।

এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দীপক কুমার সাহা সেন্টু বলেন, প্রত্যেক বছরই এই সময়টাতে দূর-দূরান্ত গ্রামের হাজার হাজার লোক দলবদ্ধ হয়ে এসে উপজেলার বিভিন্ন জলাশয়ের মাছ জোর করে ধরে নিয়ে যায়। তারা এমনভাবেই মাছ ধরে যে, অবশিষ্ট আর কিছুই থাকে না। এলাকার লোকজন বাধা দিলে মারামারির উপক্রম হয়।

বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান মরাবিষনাই জলমহালের কিছু মাছ জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা সতর্ক দৃষ্টি রাখছি। ভবিষ্যতে এরকম পরিস্থিতি আইনানুগভাবে মোকাবেলার জন্য পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা