kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি: প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই মেয়াদ শেষ

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ১২:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি: প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই মেয়াদ শেষ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতাধীন ২০২০-২১ অর্থ বছরের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ছিল গত ৩০ নভেম্বর। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে যথাসময়ে প্রকল্প ও শ্রমিকের তালিকা না পাওয়া, শ্রমিক সংকট, জলাবদ্ধতা ও মাঠে ধান থাকার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকার স্বল্পমেয়াদী কর্মসংস্থানের মাধ্যমে কর্মক্ষম দুস্থ পরিবারগুলোর সুরক্ষা এবং মৌসুমী বেকার শ্রমিক পরিবারের জন্য অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্পের (ইজিপিপি) কার্যক্রম শুরু করে। মাঠ পর্যায়ে যা ৪০ দিনের কর্মসূচি নামে পরিচিত। তারই ধারাবাহিকতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (কাবিখা-৩) মো. আবুল কালাম আজাদ গত ৫ অক্টোবর অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্পে ২০২০-২১ অর্থবছরের আওতায় প্রথম পর্যায়ের ওয়েজ কস্ট, নন-ওয়েজ কস্ট মজুরিবাবদ বরাদ্দ প্রদান  করে সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের দপ্তরে পত্র প্রেরণ করেন। বরাদ্ধপত্রে প্রকল্পের কাজ শেষ হবার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ৩০ নভেম্বর। পত্রে আরো উল্লেখ করা হয় প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ সমাপ্ত করার চূড়ান্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্যায়ের বরাদ্দ দেওয়া হবে না।

এ বছর অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের জন্য শ্রমিক মজুরি বাবদ ২ কোটি ৩৩ লক্ষা ৪ হাজার টাকা এবং নন ওয়েজ কস্ট বাবদ ১২ লক্ষ ৩৭ হাজার ২৩৩ টাকা বরাদ্দ প্রদান করেছে। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন বরাদ্দকৃত অর্থের বিপরীতে ২৯১৩ জন শ্রমিক ইউনিয়ন ভিত্তিক বণ্টন করে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের শ্রমিকের তালিকা ও প্রকল্প প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করেন। গত ৩০ নভেম্বর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের কোনো ইউনিয়নে ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজ শুরু করতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু ও শেষ করতে না পারায় এবং মেয়াদ বৃদ্ধি না করলে বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ পুরোটাই ফেরত যেতে পারে। 

প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ প্রকল্পে শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা। এই টাকায় শ্রমিকরা কাজ করতে আগ্রহী নয়। অপরদিকে ২০০ টাকার মধ্যে ৫০ টাকা সঞ্চয় হিসাবে ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। উক্ত জমাকৃত টাকা প্রকল্পের কাজ শেষ হলে তুলতে হয়। যার কারণে শ্রমিকরা আরো আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। মাঠে ধান থাকায় এবং জলাবদ্ধতার কারণে মাটির সংকট রয়েছে। তাছাড়া সময় মত প্রকল্প ও শ্রমিক তালিকা জমা দিতে না পারায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

দিগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন বলেন, ২০০ টাকা মজুরিতে শ্রমিকরা কাজ করতে আগ্রহী নয়। তাছড়া মাঠে ধান ও জলাবদ্ধতা কারণে মাটির সংকট রয়েছে তাই প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন এনামুল হক বলেন, কয়েক দফা তাগিদপত্র দিয়েও ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে যথাসময়ে প্রকল্প তালিকা ও শ্রমিকের তালিকা পাওয়া যায়নি। সে জন্য নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, এ পর্যন্ত প্রাপ্ত প্রকল্প ও শ্রমিকের তালিকা অনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র প্রেরণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা