kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

'একাত্তর প্রাথমিক বিদ্যালয়' পেল শহীদ মিনার ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ২০:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'একাত্তর প্রাথমিক বিদ্যালয়' পেল শহীদ মিনার ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার

মহান বিজয় দিবসে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শহীদ মিনার উপহার দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। বিজয়ের মাসের প্রথম দিনে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জানা যায়, গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার, মেরামত ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দ আসে প্রায় দুই কোটি টাকা। সরকারি এসব অর্থে যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই সেখানে শহীদ মিনার নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে ৬৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার ও মেরামতের জন্য প্রতিটির অনুকূলে ২ লক্ষ টাকা এবং ৪৪টি বিদ্যালয়ের প্রতিটির অনুকূলে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু করোনা দুর্যোগের কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করতে পারেনি শিক্ষা অফিস। তাই বরাদ্দের এসব অগ্রীম উত্তোলন করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার একাউন্টে জমা রাখা হয়। করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে বরাদ্দকৃত অর্থ শহীদ মিনার নির্মাণে বণ্টন করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার।

বিভিন্ন জাতীয় দিবসে বীর শহীদদের প্রতি কোমলমতি শিশুরা যাতে শ্রদ্ধা অর্পণ করতে পারে এবং দিবসটির তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারে সে দৃষ্টিকোণ থেকে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেন শিক্ষা অফিসার হারুন-অর রশিদ। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এমন উদ্যোগে ৭১টি বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পেলেন দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার। আর বাকি ৩৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষ জরাজীর্ণ হওয়ায় সেগুলো মেরামত করা হয়। এ ছাড়া চতুর্থ শিক্ষা কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) আওতায় স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) বরাদ্দের টাকায় ৬৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ ও ইতিহাস জানাতে নির্মাণ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার। আর স্লিপ বরাদ্দের বাকি টাকায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে করোনা মোকাবেলা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখতে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করা হয়। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশংসনীয় হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সভাপতির মাধ্যমে এসব কাজ প্রকল্প আকারে বাস্তবায়ন করা হয়। এসব কাজ বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা ও তদারকির দায়িত্বে ছিলেন সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা অফিসাররা (এটিও)।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার এ কে এম হারুন-অর রশিদ জানান, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিলো প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করার। তাই শিক্ষা কমিটির কাছে প্রস্তাব পাস করে শহীদ মিনার ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার নির্মাণ কাজ শুরু করি। সামান্য কয়েকটি বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ বাকি  রয়েছে। এগুলো আগামী বছর শতভাগ শহীদ মিনার নির্মাণের আওতায় আনা হবে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতে এ বছর বিজয় দিবসে নিজেদের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন, সেজন্য বিজয়ের মাসের প্রথম দিনে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা