kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

অসময়ে যমুনার সর্বনাশা রূপ, হুমকির মুখে বিদ্যালয়

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৯:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অসময়ে যমুনার সর্বনাশা রূপ, হুমকির মুখে বিদ্যালয়

অসময়ে সর্বনাশা রূপ ধারণ করছে যমুনা। শুষ্ক মৌসুমেও ভাঙন শুরু হয়েছে সিরাজগঞ্জের চৌহালি উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চর সলিমাবাদ গ্রামের নাদীটির একাংশে। এতে পয়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যমুনার ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়ে বিলিন হতে চলেছে। দ্রুত ভাঙন রোধে কাজ শুরু না করলে যে কোনো মুহূর্তে স্কুলটি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে। 

স্কুলে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক জাহাঙ্গীর ফকির, মজিবর রহমান, বাবুল আক্তার ও নেক মোহাম্মদ জানান, এ এলাকার মানুষ নদী ভাঙনে নিঃস্ব অসহায় ও হতদরিদ্র। তাদের পক্ষে পয়সা খরচ করে দূরের কোনো স্কুলে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা করানোর সামর্থ নেই। এ স্কুলটি ভেঙে গেলে তাদের ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে। যে কারণে স্কুলটি ভাঙন থেকে রক্ষা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা স্কুলটি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম হোসেন জানান, বিদ্যালয়টিতে ৪টি গ্রামের নদী ভাঙন কবলিত হতদরিদ্র পরিবারের ১০৯ জন ছেলে-মেয়েরা পড়ালেখা করে। আশেপাশে আর কোনো স্কুল নাই। তাই এ স্কুলটি তাদের একমাত্র ভরসা। স্কুলটি ভেঙে গেলে অর্থাভাবে তাদের অনেকেরই পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই মানবিক বিষয় বিবেচনা করে স্কুলটি রক্ষা করা জরুরি। বিষয়টি চৌহালি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হুমকির মুখে রয়েছে স্কুলটি। 

চৌহালি উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাহ্হার সিদ্দিকী বলেন, এ বিদ্যালয়সহ চৌহালি উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম যমুনা নদী ভাঙনের মুখে পড়ে সব হারাতে বসেছে। অথচ এ ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড তেমন কোনো কার্যকরি পদক্ষেপ নিচ্ছে না। 

চৌহালি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর ফিরোজ বলেন, বিষয়টি আমি চৌহালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তিনি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু তারা এখনো কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্কুল ঘরটি ওই স্থান থেকে সরিয়ে নিয়ে আপাতত নিরাপদ স্থানে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে জমি পেয়ে সেখানে ঘরটি তুলে স্কুলের কার্যক্রম চালানো হবে। এ সময় পর্যন্ত একটি মালিকানাধিন জায়গায় স্কুলের কার্যক্রম চালানো হবে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভাঙন রোধে অচিরেই ওই এলাকায় জিওটেক্স বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু করা হবে। এ ছাড়া ওই এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জমা দেওয়া আছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই ওই এলাকায় স্থায়ী বাধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা