kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বোয়ালমারীর মহাপ্রতারক ওবায়দুর ঢাকায় গ্রেপ্তার

রিমান্ডে ভুয়া 'পুলিশ সুপার'

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৮:২০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রিমান্ডে ভুয়া 'পুলিশ সুপার'

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ওবায়দুর রহমান নামে এক প্রতারক বিভিন্ন পরিচয়ে ব্যবসায়ীদের ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আলিশান বাড়ি বানাচ্ছে নিজগ্রাম উপজেলার ময়না ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইচাখালী গ্রামে। ওই গ্রামের মৃত হারেজ শেখের ছেলে তিনি।

পুলিশ সুপার পরিচয়ে প্রতারণাকারী এই ওবায়দুর এখন গ্রেপ্তার হয়ে পুলিশের রিমান্ডে আছেন। অধিকাংশ অভিযোগের কথা তিনি স্বীকারও করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। নিজের নামে ফেসবুক আইডি না থাকলেও নিজের ছবি দিয়ে ফেসবুকে এমডি রহমান নামে আইডি চালাতেন।

ওবায়দুর রহমান 'পুলিশ সুপার' সেজে চট্টগ্রামের একজন বড় ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারে হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে বাগিয়ে নিয়েছে দামি গাড়ি ও নগদ আট লাখ টাকা। তার প্রতারণার জাল ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকার গার্মেন্ট এক্সেসরিজ প্রস্তুতকারক একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের ছোট ভাই পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়িক অংশীদারদের কাছ থেকে পাওনা লাখ লাখ টাকাও তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই প্রতারকের বিরুদ্ধে। সেখানেও নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে। কিন্তু ধরা পড়ার পর জানা গেল, ওবায়দুর একজন বহুরূপী প্রতারক। তিনি পুলিশের কেউ না।

ঢাকার হাতিরঝিল থানা পুলিশ গত সোমবার রাতে রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি নিজেকে কখনও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার, আবার কখনও বিভিন্ন থানার ওসি হিসেবেও পরিচয় দেন। ওয়ারেন্ট থাকার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেন বিভিন্নজনের কাছ থেকে। তার গাড়িতেও থাকত এসপি এবং ওসি লেখা স্টিকার। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারীর ইছাখালী গ্রামে গড়ে তুলছে আলিশান বাড়ি। এ ছাড়া তার রয়েছে সাতৈর বাজারে ব্যবসায়ী দুটি ঘরসহ লিজ নেওয়া কয়েকটি পুকুর। সেখানে মাছ চাষ করা হয়। আবার গ্রামের এলাকায় কিনেছে ৮-১০ পাখি জমা-জমি।

পুলিশের ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ওবায়দুর বহুরূপী প্রতারক। ওই প্রতারককে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার প্রতারণার আরো তথ্য উদ্ঘাটন করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির অনেক দলিল, ভুয়া সিমকার্ড, ওয়্যারলেস সেটসহ প্রতারণার বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রতারক ওবায়দুর নানা পরিচয়ে চট্টগ্রামের ওশান অ্যাপারেল থেকে ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, এরশাদ নিটের মালিকের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা, ইউনিয়ন গার্মেন্টের মালিকের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা এবং ফ্যাশন ক্রাফটের মালিকের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

পুলিশের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার হাফিজ আল ফারুক সাংবাদিকদের জানান, ওবায়দুরের প্রতারণার শিকার একজন ব্যবসায়ী মামলা করেছেন। ওই মামলায় তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রতারক ওবায়দুর ব্যবসায়ীদের কাছে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসপি পরিচয় দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করে তথ্য দিয়েছে। এ ছাড়া সে হাতিরঝিল থানার ওসি পরিচয় দিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তার কাছ থেকে চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে।

ওবায়দুরের বৃদ্ধা মা মজিরন বেগম (৬৫) বলেন, পনেরো বছর বয়সে আমার ছেলে আমার কাছ থেকে দূরে থাকে। তিনবছর আগে তিনতলা ফাউন্ডেশন করে একটি ভবনের কাজ শুরু করে। যা বর্তমানে একতলা পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তবে আমার ছেলে এ রকম প্রতারণা করতে পারে এটা আমি বিশ্বাস করি না।

বোয়ালমারী থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, আমি এ থানায় নতুন যোগ দিয়েছি। এরকম কোনো বিষয় আমার জানা নেই। ঊর্ধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্তু আমার কাছে কিছুই জানতে চাননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা