kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

স্বামী-সতীনের নির্যাতনে অসুস্থ, পাঁচ মাস পর মৃত্যু

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৭:১২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্বামী-সতীনের নির্যাতনে অসুস্থ, পাঁচ মাস পর মৃত্যু

ময়নাতদন্ত করতে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

স্বামী ও সতীনের নির্যাতনে দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর সেলিনা খাতুন (৫৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের বড় বিশাকোল গ্রামে বাবার বাড়িতে ওই নারীর মৃত্যু হয়। 

নিহত সেলিনা ওই গ্রামের মৃত ময়লাল সরদারের মেয়ে। গত পাঁচ মাস ধরে তিনি মায়ের কাছে ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আখেরুল ইসলাম ভাঙ্গুড়া থানায় ভগ্নিপতি ও তার তৃতীয় স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার দত্তখাড়িয়া গ্রামের নুর ইসলাম প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে গত দুই যুগ আগে সেলিনা খাতুনকে বিবাহ করেন। এরপর সেলিনা খাতুন একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। পরে নুর ইসলাম দ্বিতীয় স্ত্রী সেলিনা খাতুনের অমতে আরেকটি বিয়ে করেন। তৃতীয় বিয়ের পর থেকেই নুর ইসলাম ও সতীন সাবিনা খাতুন প্রায়ই সেলিনাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন।

একপর্যায়ে গত পাঁচ মাস আগে তাদের নির্যাতনে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন সেলিনা। এতে সেলিনা খাতুনের একমাত্র ছেলে ২০ বছর বয়সী সোহেল রানা তার মাকে নিয়ে ভাঙ্গুড়ার বড় বিশাকোল গ্রামে নানার বাড়িতে চলে আসেন। এরপর থেকেই সেলিনা খাতুন মায়ের বাড়িতে এসে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। কিন্তু অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা হয়নি। এখানে সোহেল রানা দিনমজুরের কাজ করে মা ও নিজের ভরণপোষণ চালাতেন। 

সোহেল রানা বলেন, বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই সৎ মা ও বাবা আমার মাকে প্রায়ই মারধর করতো। আমি প্রতিবাদ করায় আমাকেও মারধর করতে দ্বিধাবোধ করতো না তারা। বাবা সবসময়ই তার তৃতীয় স্ত্রীর কথামতো আমাকে ও মাকে নির্যাতন করতো। এরপর গত ৫ মাস আগে বাবা ও সৎ মায়ের মারধরে আমার মা অসুস্থ হলে নানার বাড়িতে চলে আসি। আমি মা হত্যার উপযুক্ত বিচার চাই।

ভাঙ্গুড়া থানার ডিউটি অফিসার এসআই রমজান আলী বলেন, নিহতের বড় ভাইয়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা