kalerkantho

রবিবার । ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৫ রজব ১৪৪২

শত্রুতার বিষ কৃষকের জলাশয়ে, ৫ দিন ধরে ভেসে উঠছে মরা মাছ

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৩:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শত্রুতার বিষ কৃষকের জলাশয়ে, ৫ দিন ধরে ভেসে উঠছে মরা মাছ

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার ‘উপদির হাওরে’ থাকা এক কৃষকের মালিকানাধীন প্রায় ৩ একর আয়তনের একটি জলাশয়ে দুর্বৃত্তরা বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৪ লাখ টাকার মাছ নিধন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অতিমাত্রায় বিষ প্রয়োগের ফলে ওই জলাশয় থেকে গত ৫ দিন ধরে প্রতিদিনই হাজার-হাজার টাকার দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠছে।

গত রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার মেন্দিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ বেপারীর ছেলে কৃষক আবুল কালাম আজাদের মালিকানাধীন ওই জলাশয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই গ্রামের মৃত মুকশেদ আলীর ছেলে নূরুজ্জামানের নেতৃত্বে ৫-৬ জন দুর্বৃত্ত এ বিষ প্রয়োগের ঘটনাটি ঘটান বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে বুধবার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের নূরুজ্জামান মিয়া (৫০) ও কাজল মিয়াসহ (৪৫) পাঁচজনকে আসামি করে খালিয়াজুরী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মেন্দিপুর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আজাদের বাড়ির পাশের উপদির হাওরে তার প্রায় ১০ একর বোরো জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ একর নিচু জমিতে একটি জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। কৃষক আবুল কালাম তার মালিকানাধীন ওই জলাশয়ে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে গাছের ডাল ও বাঁশ ফেলে সেখানে দুইজন পাহারাদার নিয়োগ করে তিনি রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছিলেন। এ জলাশয়টি থেকে প্রতি বছর ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি করেন তিনি। আর তখন থেকেই পার্শ্ববর্তী সুয়াইর-আলীপুর গ্রামের মৃত মুকশেদ আলীর ছেলে নূরুজ্জামানের নেতৃত্বে তার লোকজন প্রায়ই রাতের আঁধারে জাল দিয়ে ওই জলাশয় থেকে মাছ ধরাসহ বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। 

এ অবস্থায় গত রবিবার রাত আড়াইটার দিকে নূরুজ্জামানের নেতৃত্বে ৫-৬ জন দুর্বৃত্ত ওই জলাশয়টিতে গিয়ে বিষ প্রয়োগ করতে থাকেন। টের পেয়ে ওই জলাশয়ের দায়িত্বে থাকা পাহারাদার খাইরুল ইসলাম ও সোহেল মিয়া তাদের সাথে থাকা টর্চ লাইটের আলোতে নূরুজ্জামানসহ তার লোকজনদের দেখতে পেয়ে 'চোর-চোর' বলে চিৎকার শুরু করে। এক পর্যায় নূরুজ্জামানসহ তার লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে ওই দুই পাহারাদারের ওপর উল্টো চড়াও হন এবং তাদেরকে মারধর করে চলে যান। আর এরপর থেকেই ওই জলাশয় থেকে প্রতিদিন পুঁটি, মেনি, টেংরা, ছোট চিংড়ি, বাইম, বোয়াল, শোল-গজারসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির হাজার-হাজার টাকার মাছ মরে ভেসে উঠছে। 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নূরুজ্জামানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সাথে তার বা তার লোকজনের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবুল কালামের জলাশয় থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ‘বোঝ বিল’ নামে ইজারাকৃত একটি জলমহালের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছি। তার ওই জলাশয়ে তো আমাদের যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

এ ব্যাপারে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, এ ধরনের একটি খবর আমি শুনেছি। তবে এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকলেও সেটি এখনো আমার নজরে আসেনি। খোঁজ নিয়ে তদন্তপূর্বক এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা