kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

'আত্মীয়তার জালে' আটকা শ্রীবরদীর ব্রিটিশ ঐতিহ্য ভটপুর বিদ্যালয়ের উন্নয়ন

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'আত্মীয়তার জালে' আটকা শ্রীবরদীর ব্রিটিশ ঐতিহ্য ভটপুর বিদ্যালয়ের উন্নয়ন

শ্রীবরদীর ভটপুর এইচইউ উচ্চ বিদ্যালয় ভবন।

'আত্মীয়তার জালে' আটকে আছে শেরপুরের শ্রীবরদীর ভটপুর এইচ ইউ উচ্চ বিদ্যালয়। ক্রমেই ভেঙে পড়ছে শিক্ষা কার্যক্রমসহ অবকাঠামো। ব্রিটিশ আমলের আলোচিত এই বিদ্যালয়টি নিয়ে সচেতন মানুষের মনে জেগে উঠছে নানা প্রশ্ন। কেউ বলছেন একই ব্যক্তি প্রায় ২০ বছর ধরে রয়েছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে। এতে ব্যাহত হচ্ছে উন্নয়ন ও শিক্ষা কার্যক্রম। 

জানা যায়, ভটপুর এইচ ইউ উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপিত হয় ১৯৪৪ সালে। এই বিদ্যালয়ে ভূমির পরিমাণ প্রায় তিন একর। এর মধ্যে প্রায় এক একর ভূমিতে বিদ্যালয় ভবনসহ রয়েছে বিশাল একটি খেলার মাঠ। ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত বিদ্যালয়টির একসময় এলাকায় ছিল ব্যাপক নামডাক। ছাত্র-ছাত্রী ছিল ভরপুর। পড়ালেখার মান ছিল খুবই ভালো। ওই বিদ্যালয় মাঠে প্রায় সারা বছর খেলাধুলায় মেতে থাকত স্থানীয় শিশু-কিশোররা। বিদ্যালয় মাঠকে কেন্দ্র করে চলত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানা কার্যক্রম। কালের বিবর্তনে হারিয়েছে বিদ্যালয়টির ঐতিহ্য। 

এলাকার সচেতন মানুষের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ দায়িত্বে থাকায় দেখা দিয়েছে নানা অনিয়ম। এর মধ্যে বিদ্যালয়ের বেশির ভাগ ভূমি বেহাত হয়েছে। সেই ভূমি উদ্ধারে নেই কোনো তৎপরতা। দিন দিন কমছে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা। এ ছাড়া সভাপতি আব্দুল হালিমের বোনের মেয়ে তাহমিনা ইয়াসমিন প্রধানশিক্ষক, আরেক বোনের ছেলে নাজমূল হাসান রোমান সহকারী প্রধানশিক্ষক, ছোট ভাই মোকারম বিল্লাহ সহকারী লাইব্রেরিয়ানসহ বেশ কয়েকজন নিকটাত্মীয় চাকরি করছেন। সভাপতির ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় বিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করেন না তাঁরা। নিয়মানুযায়ী বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয় ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেনের কথা থাকলেও তা হয় না। 

এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক তাহমিনা ইয়াসমিন বলেন, ২০১০ সালে আমি সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধানশিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। বর্তমানে বিদ্যালয়ের দুই একর ৪৮ শতাংশ ভূমির খাজনা পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে এক একর ২০ শতাংশ ভূমি বিদ্যালয় ভবন ও খেলার মাঠ। বেদখল হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ ভূমি। অবশিষ্ট ভূমি সাবেক প্রধানশিক্ষক কিভাবে কত বছর যাবৎ লিজ দিয়েছেন তা আমি জানি না। নানা অনিয়মের কথা অস্বীকার করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, বিদ্যালয়টির ভূমি নিয়ে সমস্যা আগে থেকেই। তবে এসব সমস্যা নিরসনে কমিটির সদস্য ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

অনিয়মের সত্যতার অভিযোগ নিশ্চিত করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আলম তালুকদার বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন ব্যতীত আয়-ব্যায়ের হিসাব-নিকাশ বিধিসম্মত নয়। তবে এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা