kalerkantho

সোমবার । ১১ মাঘ ১৪২৭। ২৫ জানুয়ারি ২০২১। ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

চার দিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অবস্থান

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চার দিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অবস্থান

প্রতীকী ছবি

ঢাকার ধামরাইয়ে এক কলেজছাত্রী বিয়ের দাবিতে তাঁর প্রেমিক নৌবাহিনীর এক সদস্যের বাড়িতে চার দিন ধরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এতে প্রেমিক আমীর হোসেন বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান।

আমীর হোসেনের অভিভাবকরা বিয়ের আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বারবার দেন-দরবার করেও বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারছেন না কেউ। এদিকে আমীর হোসেন তাঁকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন ওই কলেজছাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নান্নার গ্রামে।

ভুক্তভোগী, তাঁর পরিবার এবং এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা গেছে, উপজেলার নান্নার গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে নৌবাহিনীর সদস্য আমীর হোসেন প্রায় আড়াই বছর ধরে পাশের লাড়ুয়াকুণ্ড গ্রামের এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তাঁকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে দৈহিক সম্পর্ক করেন। ছুটিতে এসে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন আমীর হোসেন।

কয়েক দিন আগে ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন আমীর হোসেন। এরপর গত রবিবার তাঁর প্রেমিকাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে গেছেন তিনি। ওই দিন বিয়ে করার কথা বললে তাঁকে জয়পুরা এলাকায় একটি দোকানে বসিয়ে রেখে বাড়িতে যান আমীর হোসেন।

এরপর তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। পরে নিরুপায় হয়ে ওই দিন বিকেলে আমীর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অবস্থান করেন কলেজছাত্রী। এরপর বাড়ি থেকে আমীর হোসেন চলে যান। 

এদিকে আমীর হোসেনের চাচাতো ভাই সেনা সদস্য (অব.) আবদুল হালিম বিয়ে পড়ানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সোমবার রাতে মেয়ের অভিভাবকদের ডেকে নেন ওই বাড়িতে। কিন্তু রাত হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে বিয়ে পড়ানো হবে বলে মেয়ের অভিভাবকদের ফের জানিয়ে দেন আবদুল হালিম।

মঙ্গলবার সারা দিন অপেক্ষায় রেখে বিকেলে মেয়ের অভিভাবকদের হালিম জানিয়ে দেন, আমীর হোসেন মোবাইল ফোন বন্ধ রাখায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। এরপর মঙ্গলবার রাতে মেয়ের অভিভাবকরা নান্নার গ্রামের মাতবরদের শরণাপন্ন হন। মাতবররা বুধবার সকালে আমীর হোসেনকে হাজির করতে বলেন তাঁর বাবা মজিবরকে। কিন্তু আজও হাজির হননি আমীর হোসেন। 

আমীর হোসেনের বাবা মজিবর রহমান ও চাচাতো ভাই আবদুল হালিম জানান, আমীর হোসেনের মোবাইল ফোন বন্ধ রাখায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না।

মেয়ের বাবাসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, বিয়ে করানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আবদুল হালিম তার চাচাতো ভাই আমীর হোসেনকে অন্যত্র সরিয়ে রেখেছে।

এদিকে বিয়ের দাবিতে অবস্থান করা মেয়েটি জানান, আমাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে আমার সর্বনাশ করেছে আমীর হোসেন। এখন সে আমাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার কোনো উপায় নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা