kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

শ্রীপুরে মাকে কুপিয়ে হত্যা

'মা আল্লাহর কাছে গেছে, তার আত্মার শান্তির লাইগ্যা মাইরা ফালছি'

গোঙাচ্ছিলেন রক্তাক্ত মা, দাঁড়িয়ে দেখছিল ছেলে

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

২ ডিসেম্বর, ২০২০ ২১:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'মা আল্লাহর কাছে গেছে, তার আত্মার শান্তির লাইগ্যা মাইরা ফালছি'

দিনমজুর বাবা ছেলের জন্য ডাব কেটে রেখে নিজে ধানকাটার কাজে যান। ওই সময় ছেলের মা উঠানে ধান শুকাচ্ছিলেন। ডাব খেয়ে ডাব কাটার ধারালো দা উঁচিয়ে আচমকা মায়ের দিকে তেড়ে যায় ছেলেটা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মায়ের মাথায়, ঘাড়ে ও দুই হাতে ছয়টি কোপ দেয়। তা দেখে ছেলেটার নানি ছুটে এসে থামান তাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় মা যখন গোঙাচ্ছিলেন, দাঁড়িয়ে দেখছিল ছেলেটা। পরে স্বজন ও প্রতিবেশীরা মুমুর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মা মারা যান।

আজ বুধবার সকালে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাব গ্রামে এ মর্মন্তুদ ঘটনা ঘটে। নিহত রেহেনা খাতুন (৪৫) ওই গ্রামের রশিদ আনোয়ারের স্ত্রী। হত্যায় অভিযুক্ত ছেলে (১৬) তাঁদের চতুর্থ সন্তান। সে পাশের বলদীঘাট জে এম সরকার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা রশিদ আনোয়ারের দাবি, তাঁর ছেলে গত দুই বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন।

হত্যাকাণ্ডের পর ওই ছেলেকে স্বজন ও প্রতিবেশীরা ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মনিরুজ্জামান খান কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ছেলে তার মাকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে বারবারই সে (ছেলে) বলছে 'মা আল্লাহর কাছে গেছে। মার আত্মার শান্তির লাইগ্যা মাইরা ফালছি'।

ছেলের নানি রমিজা খাতুন জানান, সকাল সোয়া ১০টার দিকে তাঁর মেয়ের চিৎকারে টের পান তিনি। ছুটে গিয়ে দেখেন মাকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছেন তাঁরই (মা) ছেলে। ওই সময় তিনি ছেলেটার হাত থেকে রক্তমাখা দা কেড়ে নেন। পরে রেহেনা খাতুনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান।

হত্যায় অভিযুক্ত ছেলের বাবা রশিদ আনোয়ার জানান, তাঁর ছেলে খুব মেধাবী ছাত্র ছিল। কিন্তু গত দুই বছর ধরে সে (ছেলে) মানসিক ভারসাম্যহীন। টাকার অভাবে ছেলের উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেননি তিনি।

কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশরাফুল ইসলাম জানান, ছেলেটা মানসিক ভারসাম্যহীন তা তাঁরাও জানেন। ফলে  চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন সময় এলাকার অনেকেই আর্থিক সহযোগিতাও দিয়েছে।

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, আচরণ দেখে মনে হয়েছে ছেলেটা মানসিক ভারসাম্যহীন। কিন্তু ওই ছেলের চিকিৎসার কোনো কাগজপত্র এখনো হাতে পাইনি। তিনি জানান, নিহতের মাথার পেছনে, ঘাড়ে ও দুই হাতে ছয়টি কোপের জখম ছিল। এর মধ্যে চারটি জখম ছিল খুবই গুরুতর। রেহেনা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বিকেলে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্বামী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা