kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

অবৈধ বাজারে লাখ টাকা চাঁদা

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৫:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবৈধ বাজারে লাখ টাকা চাঁদা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের (সওজ) জায়গায় অবৈধ কাঁচাবাজার বসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মানুষ চলাচলের রাস্তা দখল করে স্থানীয় কাউন্সিলরের ছত্রচ্ছায়ায় এসব দোকান বসিয়ে ভাড়াও আদায় করা হয় বলে অভিযোগ। কাউন্সিলর ও দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা কর্ণপাত করছে না।

দোকানদার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে সওজের জমি দখল করে দুই শতাধিক দোকান বসিয়ে দোকানপ্রতি ২০০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করা হয় দোকানদার থেকে। এ টাকার বড় একটি অংশ স্থানীয় কাউন্সিলর, থানা পুলিশ, আওয়ামী লীগ নেতা ও সওজের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার পকেটে যায় বলে অভিযোগ তুলেছেন দোকানিরা। এতে প্রতি মাসে ১০-১২ লাখ টাকা চাঁদা আদায় হয় শিমড়াইল মোড় এলাকা থেকে। দোকান বরাদ্দ পেতে দোকান প্রতি ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়।

অনুসন্ধানের জানা যায়, নেকবর আলী সুপার মার্কেটের সামনে ৩০-৩৫টি দোকান বসিয়ে চাঁদা আদায় করছেন হাউজিং এলাকার ফকির বাড়ির বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন ওরফে কাইল্লা দেলোয়ার। আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেটের সামনে শতাধিক দোকানের চাঁদা তোলেন রিপন মিয়া ওরফে মুরগি রিপন। 
চিটাগাং রোড রেন্ট-এ-কারের সামনে শতাধিক ফল, জুতার ও বিভিন্ন রকমারি দোকান বসিয়ে চাঁদা আদায় করছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম রাজুসহ একটি সিন্ডিকেট।  

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওমর ফারুক, মার্কেট মালিক দেলোয়ার হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম রাজু, কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা কোনোভাবেই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নই। একটি মহল আমাদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা উত্তোলন করতে পারে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান (পিপিএম) কালের কণ্ঠকে বলেন, আমি কয়েক দিন আগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় যোগদান করেছি। পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াসিন মিয়া বলেন, আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে কেউ ফুটপাতে চাঁদাবাজি করলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাকোয়াত হোসেন শামীম বলেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য ইতিমধ্যেই নোটিশ ও মাইকিং করা হয়েছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে আমাদের কার্যালয়ের কেউ জড়িত না।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে চাঁদা আদায় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা