kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বিদ্যুৎস্পর্শে মার্কেটের তিনতলা থেকে পড়ে যুবক নিহত

অপরিকল্পিত ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট নির্মাণ, এক বছরে চারজনের মৃত্যু

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৫:০৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অপরিকল্পিত ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট নির্মাণ, এক বছরে চারজনের মৃত্যু

হাটহাজারী পৌরসভার বাসস্টেশন কলাবাগান এলাকায় আলিফ হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে আবারও বিদ্যুৎস্পর্শে তিনতলা থেকে পড়ে ইমন (২০) নামের এক কর্মচারী নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে গত এক বছরে এ এলাকায় বিদ্যুৎস্পর্শে চারজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।   

গতকাল সোমবার দুপুরে (৩০ নভেম্বর) এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ইমনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান বলে সূত্রে প্রকাশ। এ ঘটনায় থানায় গত রাত ১১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
 
সূত্রে প্রকাশ, কলাবাগানে চট্টগ্রাম-হাটহাজারী মহাসড়কের পাশে ১১ ও ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ঘেঁষে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গড়ে ওঠা জনৈক আহমদ হোসেনের মালিকানাধীন এস এ শপিং সেন্টার (সুলতান খলিফা বিল্ডিং), ইসহাক বিল্ডিং ও হোসেন মার্কেটে গত এক বছরে  বিদ্যুৎস্পর্শে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একের পর এক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা গেলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এসব মৃত্যুর ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে থানা সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, হাটহাজারী পৌরসভার বাসস্টেশন এলাকার গাউছিয়া মার্কেটে 'ক্লাসিক থাই অ্যালুমিনিয়াম এন্ড এস এস' নামক দোকানের কর্মচারী ইমন গতকাল সোমবার সাইন বোর্ড লাগানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিন তলা থেকে নিচে পড়ে যায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকট আওয়াজ শুনে তারা দেখতে পান একটি জ্বলন্ত শরীর নিচে পড়ে ছটফট করছে। বেলা ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে ইমনকে পার্শ্ববর্তী একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়, অবস্থা গুরুতর হওয়াতে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতলে নেওয়ার পথে ঢাকায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ইমন উপজেলার ফতেপুর ইউনিনের আলাওল দিঘীর পাড় এলাকার বাসিন্দা বলে সূত্রে প্রকাশ।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত ইমনকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার মো. নেজাম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইমনের শরীরের প্রায় চামড়া উঠে গেছে। গতরাতে ফতেপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. আলমগীর ইমনের মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করে গত রাত ১১টায় স্থানীয় সাংবাদিককে বলেন, ঢাকায় পৌঁছার পর ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়ার আগেই গুরুতর আহত ইমন মারা গেছেন। 

সূত্রে জানা গেছে, গাউছিয়া মার্কেট ও আলিফ হসপিটালের ইসহাক কমপ্লেক্স, এস এ শপিং সেন্টার (সুলতান খলিফা বিল্ডিং) সহ আশে পাশের ভবনগুলো নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা না করে ১১ ও ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণভাবে মনগড়া অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ করার কারণে বার বার এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানান সচেতন মহল। যার ফলে বার বার ঘটছে প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনা। বিদ্যুৎস্পর্শে এসব ভবনে গত এক বছরে তিনজনের প্রাণহানি হয়েছে বলে সূত্রে প্রকাশ। 

সূত্রে জানা গেছে, গত বছর একই অবস্থায় জনৈক মো. হোসেনের মালিকানাধীন এস এ শপিং কমপ্লেক্সে (সুলতান খলিফার বিল্ডিং) বেড়াতে আসা এক শিশু খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে গুরুতর আহত হয়। পরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ঢাকা বার্ন ইউনিটে তার মৃত্যু হয়। এর আগেও কাজের মেয়ে ছাদ থেকে পড়ে যাওয়া কাপড় কুড়াতে গিয়ে আলিফ হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ইসহাক কমপ্লেক্সের একতলা ছাদে বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যায়। তা ছাড়া আলিফ হসপিটালের সামনে রাস্তার পশ্চিম পার্শ্বে হোসেন মার্কেটের মালিক মো. শাহজাহান ভবনে সাইনবোর্ড লাগানোর সময় বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান।

অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ঘেঁষে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ করার কারণে বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটার পরেও কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের কার্যকরী ব্যবস্থা না নিলে এভাবে বাড়তে থাকবে মৃত্যুর মিছিল এমন দাবি সচেতন পৌরবাসীর।

গাউছিয়া মার্কেটের মালিক মো. আলমগীরের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম গত রাতে এ প্রতিবেদকের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিদ্যুৎস্পর্শে নিহত ছেলেটি বিদ্যুতের কাজ করত বলে তার পরিবার জানিয়েছে। গরিব হওয়ায় নিহতের পরিবার কোনো মামলা কিংবা অভিযোগ করতে রাজি হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনার আগে আরো তিন ব্যক্তির মৃত্যু প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওসি বলেন, তিনি নতুন এসেছেন বিধায় এসব তথ্য তাঁর জানা নেই। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা