kalerkantho

শুক্রবার । ৮ মাঘ ১৪২৭। ২২ জানুয়ারি ২০২১। ৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

১৭ পরিবারের আতঙ্ক 'জালিয়াত মাস্টার' মাসুদ

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

২৯ নভেম্বর, ২০২০ ১৮:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৭ পরিবারের আতঙ্ক 'জালিয়াত মাস্টার' মাসুদ

মাসুদুর রহমান

কুমিল্লার মুরাদনগরে মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ১৭টি পরিবারকে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভূক্তভোগী ওই পরিবারগুলোর দাবি, মিথ্যা মামলা, জাল দলিল, অপহরণসহ নানাভাবে হুমকি দিয়ে তাদেরকে আতঙ্কে রেখেছেন মাসুদ। আজ রবিবার সকালে ভূক্তভোগীরা প্রেসক্লাবে এসে সংবাদকর্মীদের কাছে তাদেরকে হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযুক্ত মাসুদুর রহমান (৪৩) উপজেলার ৯নম্বর কামাল্লা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের আব্দুল করিম ওরফে কনু মিয়ার ছেলে।

নোয়াগাঁও গ্রামের ভূক্তভোগী কামাল উদ্দিন বলেন, 'মাসুদ জাল জালিয়াতিতে এক নম্বর। তিনি কামারচর মৌজার ১নম্বর খাস খতিয়ানের ৪৩২৭ দাগের ৫ শতক জায়গাকে ১৫ শতক বানিয়েছেন। এ ছাড়া ৪৩২৬ দাগের ১৮ শতকের মধ্যে ৯ শতক সম্পত্তির মালিক কাদির ও বাকী ৯ শতকের মালিক জুয়েলসহ চারজন। এই ১৮ শতক সম্পত্তির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে তার স্ত্রী সারমিন আক্তার সুমিকে লিখে দেন মাসুদ। তিনি আরো একটি ভুয়া দলিল তৈরি করে ৪৩৪৩ দাগ থেকে ৩৩ শতক সম্পত্তি দাবি করেন। অথচ ওই দলিলের মূল মালিক আছানপুর গ্রামের আফাজ উদ্দিনসহ চারজন। এদিকে মাসুদ তার স্ত্রী সারমিন আক্তার সুমিকে বাদী করে আমাকেসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে আমার জমি ভরাট করছে। পরে আমি বিষয়টি নিয়ে আদালতে গেলে আদালত ১৪৫ ধারা জারি করেন। পরে প্রশাসনের সহয়োগিতায় ড্রেজার মেশিনটি জব্দ করা হয়।'

ভূক্তভোগী আলাউদ্দিন (৪৫) বলেন, 'সরলতার সুযোগ নিয়ে ভালো ডাক্তার দেখানোর নাম করে চন্দনাইল নিয়ে আমাকে আটকে রেখে পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন মাসুদ। পরে স্থানীয় মাতাব্বর হানিফ মিয়ার মধ্যস্থতায় দুই লাখ টাকা মাসুদকে পরিশোধ করে আমাকে ছাড়িয়ে আনে।'

ব্যবসায়ী হানিফ মিয়া বলেন, 'এলাকার লোক এখন তাকে মাসুদ নামে জানে না, জানে জালিয়াতির 'হেড মাস্টার' হিসাবে। এমন কোনো অভিযোগ নেই, যা সে করে নেই। জালিয়াতি, অপহরণ, মাদক ব্যবসা, অবৈধ ড্রেজার ও জাল টাকার ব্যবসা এ সকল কর্মকাণ্ডের সাথে সে জড়িত।'

অভিযুক্ত মাসুদুর রহমান বলেন, 'জায়গা সম্পত্তির দলিলের বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান। ড্রেজার চালিয়ে ভুল করেছি। বাকী সব অভিযোগ আক্রোশমূলক।'

মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'ভূক্তভোগী কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দেয়, তাহলে তদন্তসাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা