kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

রিকশাচালকদের করোনা সচেতনতা

‘দম বন্ধ হইয়া যায় গো অ্যার পরও মাস্ক লাগাই’

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২৯ নভেম্বর, ২০২০ ০৩:১৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘দম বন্ধ হইয়া যায় গো অ্যার পরও মাস্ক লাগাই’

‘দুপুর থেইক্কা রাইত ৮টা পর্যন্ত রিকশা চালাই। হাঙ্গদিন কত রকমের মানুষ নিয়া যাইতে হয়। আমাগো আশপাশে কারো অসুখ (শহীদনগর) নাই। সরকার মাস্ক পরতে কইছে। আমার দম বন্ধ হইয়া যায় গো ভাই! অ্যারপরও মাস্ক লাগাই। গরিব মাইনসের কি আর দামি অসুখ হয়? হেরপরও।’

কথাগুলো বলছিলেন রিকশাচালক শরীফুল আলম। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় কথা বলেন তিনি। শরীফুল জানান, কামরাঙ্গীর চরে তাঁর রিকশা গ্যারেজ মালিকের আরো ৩০টা রিকশা আছে। প্রায় সব রিকশাচালক মাস্ক পরেন। নিজেদের কেনা কিংবা মানুষের দেওয়া মাস্ক ব্যবহার করছেন তাঁরা। সরেজমিন মহানগরীর বিভিন্ন সড়কে বেশির ভাগ রিকশাচালকের মুখেই মাস্ক দেখা গেছে।

সরকারঘোষিত করোনাকালীন সাধারণ ছুটি প্রত্যাহার করে গত জুনে অফিস ও মার্কেট খুলে দেওয়ার পর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয় মাস্ক পরা, হাত ধোয়া, স্যানিটাইজার ব্যবহার এবং জীবাণুনাশক টানেল বসানোয়। তবে সেপ্টেম্বর থেকেই বহু স্থানে এই বাধ্যবাধকতা মানা কমে আসে। সম্প্রতি স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা ফিরছে। বাড়ির বাইরে প্রায় প্রত্যেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন। শুরুর দিকে রিকশাচালকদের মাস্ক পরায় অনীহা থাকলেও এখন কষ্ট সহ্য করেই অনেকে মাস্ক পরছেন।

গতকাল সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রাজধানীর লালবাগ, চকবাজার, গুলিস্তান, পল্টনসহ কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, রিকশাচালকদের মধ্যে মাস্ক ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। এ সময় প্রায় পাঁচ শতাধিক রিকশাচালকের সাকুল্যে ৫০ জনকে মাস্কবিহীন পাওয়া যায়। কারো কাছে দেখা যায় কাপড়ের তৈরি মাস্ক।

রিকশাচালকদের ভাষ্য, রিকশা চালালে শীতের মধ্যেও শরীর সারাক্ষণ ঘেমে থাকে। এর মধ্যে মাস্ক পরলে অস্বস্তি লাগে আর মাস্ক নষ্টও হয়ে যায়। এত মাস্ক কিভাবে কিনব, এমন প্রশ্ন চালকদের। যাঁরা কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করছেন, তাঁরা জানান, একবার পরলেই মাস্ক গরমে ভিজে দুর্গন্ধ হয়ে যায়। এটা আবার দ্বিতীয়বার পরতে হলে ধুয়ে শুকিয়ে পরতে হয়। সব মিলিয়ে রিকশা চালানোর সময় সারাক্ষণ মাস্ক ব্যবহার করা তাঁদের জন্য কষ্টসাধ্য।

করোনা নিয়ে কোনো ভয় কাজ করে কি না, এমন প্রশ্নে আলী আকবর নামের এক রিকশাচালক বলেন, ‘করোনারে ভয় কইরা ঘরে বসে থাকলে কি পেটে ভাত যাবে? আমাগো প্রত্যেকদিনই কষ্ট কইরা খাইতে হয়। একদিন রিকশা না চালাইলে পরের দিন না খাইয়া থাকতে হইবো। করোনার চিন্তার চাইতে ১০টা টাহা কেমনে আয় বাড়বো, আমাগো সেই চিন্তা বেশি করা লাগে। এই জন্যে কষ্ট হইলেও মাস্ক পইরাই রিকশা চালাই।’

পল্টন মোড়ে রিকশাচালক আবুল হোসেন (৬০) নামের এক রিকশাচালক বলেন, ‘রিকশা চালাই বলে আল্লাহ রোগ কম দেয় বাবা। মাঝেমধ্যে একটু জ্বরটর হয়! ওই গুলান এমনি এমনি ভালো হয়ে যায়।’

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে সরকারের পক্ষ থেকে মাস্ক পরায় বাধ্যবাধকতা আসার পর এখন রিকশা গ্যারেজের মালিকরাও অনেক সচেতন হয়েছেন। কোনো কোনো গ্যারেজ মালিক চালকের সঙ্গে মাস্ক না থাকলে তাঁকে রিকশা দিতে চান না।

শহীদনগর ২ নম্বর গলি বউবাজারের পাশে রিকশা গ্যারেজ রয়েছে সামছুল হকের। তাঁর রিকশা ১২টি। তিনি জানান, করোনার শুরুর দিকে গাড়ি কাউকে দেননি। দুই মাস পর রিকশা ড্রাইভারদের অনুরোধে পাঁচটা ভাড়া দেন তিনি। এখন সব রিকশা ভাড়া দেওয়া আছে। তবে শর্ত একটাই, মাস্ক পরে রিকশা চালাতে হবে। সামছুল বলেন, ‘মাস্ক না পরলে আমি ওই ড্রাইভাররে গাড়ি দেই না। এখন কেউ যদি রাস্তায় গিয়ে খুলে ফেলে! সেটার জন্য কিছু করার থাকে না। এখন যেহেতু সরকার অভিযান করছে, সবাই পরা শুরু করছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা