kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ

কুলাউড়ার সেই এতিম শিশুরা পাচ্ছে সরকারি ঘর

মাহফুজ শাকিল, কুলাউড়া থেকে   

২৮ নভেম্বর, ২০২০ ১৯:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুলাউড়ার সেই এতিম শিশুরা পাচ্ছে সরকারি ঘর

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়া দিনমজুর আতিক মিয়ার অসহায় সন্তানরা পাচ্ছে এবার সরকারি ঘর। এ ছাড়া আরো অনেকে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। 

শুক্রবার রাতে কালের কণ্ঠ অনলাইনে 'আব্বা আল্লাহর বাড়ি গেছোইন, আমরার লাগি পোলাও লইয়া আইবা' শিরোনামে একটি মানবিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচিত হয়। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন।

শনিবার সকালে সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপির নজরে আসে মানবিক এই প্রতিবেদনটি। তিনি বিষয়টি মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের সাথে যোগাযোগ করে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী কালের কণ্ঠ প্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে সদ্যঃপ্রয়াত আতিক মিয়ার বাড়িতে যান। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

এদিকে কালের কণ্ঠ কুলাউড়া প্রতিনিধির সঙ্গে দেশ-বিদেশ থেকে অনেকেই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে হামদর্দ ল্যাবরেটরি ঢাকার ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া রাসেল বিকাশের মাধ্যমে ১১ হাজার টাকা, ময়মনসিংহ থেকে মাহিন আহমদ ৫ হাজার টাকা, চট্টগ্রাম থেকে দুলাল আহমদ ২ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা করেন। এ ছাড়া স্থানীয় সাপ্তাহিক সীমান্তের ডাকের পক্ষ থেকে ওই পরিবারকে ৪ বান্ডিল ঢেউটিন প্রদান করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর আতিক মিয়া (৫৪) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় গত ২৪ নভেম্বর মঙ্গলবার ভোরে মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে অসহায় হয়ে পড়ে পরিবারটি। মৃত্যুর সময় আতিক মিয়া স্ত্রী রফনা বেগমসহ তিন সন্তান আয়েশা বেগম (৮) তানজিনা বেগম (৪) ও রাফি মিয়া (২) রেখে যান।

আতিক মিয়ার স্ত্রী রফনা বেগম বলেন, আমার স্বামী দিনমজুর হিসেবে রাজমিস্ত্রির কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাতেন। কিন্তু মহামারি করোনার থাবায় কোনো কাজ না থাকায় বেকার হয়ে যান তিনি। গত একমাস ধরে হৃদরোগে (হার্টের ছিদ্র) আক্রান্ত হয়ে টাকার অভাবে সুচিকিৎসাও করতে না পারায় তিনি মারা যান। তার কষ্টার্জিত উপার্জনে আমাদের পরিবার কোনোমতে চলছিল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চোধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান মহোদয়ের নির্দেশনায় সরেজমিন ওই পরিবারের খোঁজখবর নিই। ওই পরিবারকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া যারা ওই পরিবারটিকে সহযোগিতা করবে উপজেলা প্রশাসন তাদের সাথে সমন্বয় করবে। 

জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি খুবই মর্মস্পর্শী। শনিবার সকালে মাননীয় সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ মহোদয় টেলিফোনে ওই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। আমরা তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা