kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

৫ দিন ধরে প্রেমিকের বাড়ির বারান্দায় অন্তঃসত্ত্বা

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

২৮ নভেম্বর, ২০২০ ১৯:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৫ দিন ধরে প্রেমিকের বাড়ির বারান্দায় অন্তঃসত্ত্বা

বিয়ের দাবিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রেমিকা চা-কন্যা জ্যোতি রবিদাস (১৯) ৫ দিন ধরে প্রেমিকের বাড়ির বারান্দায় অবস্থান নিয়েছে। মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় বাগানে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশসহ স্থানীয় পাঞ্চাযেত নেতৃবৃন্দ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও প্রেমিকার অনড় অবস্থানের কারণে সমাধান করা যাচ্ছে না। প্রেমিকার অবস্থান নেওয়ার খবরে প্রেমিক সন্তোষ যাদব (২২) আত্মগোপনে। ঘটনাটি ২৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় শমশেরনগর চা বাগানের আদমটিলা শ্রমিক বস্তির।

জানা যায়, সমসেরনগর চা বাগানের জ্যোতি রবিদাসের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল একই বাগানের আদমটিলা শ্রমিক বস্তির সন্তোষ যাদবের। সন্তোষ যাদব প্রেমিকা জ্যোতিকে বিয়ে করতে অপারগতা প্রকাশ করলে ও অন্যত্র বিয়ের উদ্যোগ নিচ্ছে জেনে প্রেমিকা সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় এসে প্রেমিক সন্তোষের বাড়িতে অবস্থান নেয়। বিষয়টি টের পেয়ে প্রেমিক সন্তোষ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। গত ৫ দিন ধরে প্রেমিকা জ্যোতি প্রেমিকের বাড়ির বসতঘরের বারান্দায় আছে। 

অপরদিকে প্রেমিকা বাড়িতে আসার খবর পেয়ে প্রেমিক পালিয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় বাগান পাঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও প্রেমিকার অনড় অবস্থানের কারণে ব্যর্থ হয়। মেয়েটিকে আশপাশের লোকজন খাবার দিচ্ছেন।

বাড়িতে অবস্থান নেওয়া প্রেমিকা জ্যোতি রবিদাস বলেন, গত কয়েক বছর ধরে সন্তোষ যাদবের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এখন সে ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সন্তোষ ও তার পরিবারের লোকজন বিয়ের বিষয় শেষ করে তাকে ঘরে তুলে নিতে হবে। এটার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সে এ বাড়িতে অবস্থান করে থাকবে।

শমশেরনগর চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত গোয়ালা বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য ছেলেকে বাড়িতে ফেরাতে তার পরিবার সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও শনিবার দুপুর পর্যন্ত ছেলেটি ফেরেনি। তাই এ বিষয়ে কোনো সমাধান করা যায়নি। 

সন্তোষ যাদবের মা বাসন্তী আহির বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় এ মেয়েটি তার বসতঘর প্রাঙ্গণে অবস্থান নেয় এবং দাবি করে তার ছেলের প্রেমিকা। তাকে বিয়ে করে ঘরে তুলতে হবে।

শমশেরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েল আহমেদ বলেন, বিষয়টা দুঃখজনক। চা বাগান পঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দ, পুলিশ প্রশাসনের লোকজন বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের সাথে কথা বলেও কোনো সমাধান হয়নি। মেয়েটি এখনেও বাড়িতে রয়েছে। ছেলেও ফেরেনি।

শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আনজির আহমেদ বলেন, সামাজিকভাবে চেষ্টা করা হয় সমাধানে। তবে জ্যোতি রবিদাস লিখিত অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা